কাশ্মীরিদের ওপর হামলা বন্ধে ভারতকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

17

অনলাইন ডেস্ক : দেশজুড়ে কাশ্মীরিদের ওপর হামলা ও জনরোষ আটকাতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

হামলার পাশাপাশি কাশ্মীরিরা যাতে সামাজিক বয়কট ও হয়রানির শিকার না হন, তা দেখতেও বলা হয়েছে।

শুক্রবার কেন্দ্র সরকার, পুলিশ প্রধান ও ১০টি রাজ্যকে এ বিষযে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেন। খবর: এনডিটিভি, ডন ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় পুলিশ কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন নিহত হন। পরে এই হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-এ মোহাম্মদ। হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে। যদিও পাকিস্তান তা নাকচ করে দিয়েছে।

আত্মঘাতী হামলার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাশ্মীরের অধিবাসীরা নানা হেনস্তার শিকার হতে থাকেন। এমনকি কোথাও কোথাও তারা জনরোষের শিকার হচ্ছেন। তোপের মুখে বিভিন্ন স্থান থেকে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী কাশ্মীরে ফিরে গেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় কাশ্মীরিদের প্রকাশ্যে পেটানো হচ্ছে। ভারতের উগ্রপন্থী হিন্দু গ্রুপ ও বুদ্ধিজীবীরা টিভি শো’তে তাদের এ ধরনের কাজে আরও উস্কানি দিচ্ছেন।

ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের বরখাস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে। বেশকিছু এলাকায় তাদের আটকও করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে কাশ্মীরিদের নিরাপত্তায় তারিক আদিব নামের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে জরুরি ভিত্তিতে শুনানি দাবি করেন।

শুক্রবার শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগতের একটি টুইট সামনে আনেন, যাতে তিনি ভারতবাসীকে কাশ্মীরিদের বয়কট করার দাবি জানিয়েছিলেন।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কিছু নোডাল অফিসারকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়।

পাশাপাশি এই নোডাল অফিসারদের নাম ও ফোন নম্বর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন পড়লেই কাশ্মীরিরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা চাইতে পারেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রধানের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মেঘালয়, ছত্তীশগড়, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব এবং মহারাষ্ট্রকে কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার পক্ষে শুনানি করা সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী বলেন, ‘পুলওয়ামায় হামলার পরপরই কাশ্মীরি এবং মুসলিমদের হয়রানি শুরু হয়। একটি গ্রুপ ঘৃণা ছড়িয়ে জনরোষকে উস্কে দিতে থাকেন। এতে ভারতজুড়ে অনিরাপদ হয়ে পড়েন কাশ্মীরিরা। অথচ তারাও ভারতেরই নাগরিক।’

কাশ্মীর ট্রেডার্স অ্যান্ড ম্যানুফেকচার্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন খান বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘হামলার পরবর্তী অবস্থা এখনও বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হচ্ছেন কাশ্মীরিরা। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী কাশ্মীরে ফেরত এসেছেন।’

এ ছাড়া শুক্রবার কাশ্মীরের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় দোকান-পাট বন্ধ রেখে এই কর্মসূচি পালন করেন।

সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির অন্যতম সহযোগী বিচারপতি সঞ্জীব খান্না বলেন, ‘কাশ্মীরি এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার ঘটনার খবর পেলেই মুখ্যসচিব, ডিজিপি এবং দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ।

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সেটাই করে দেখাল যা আসলে করা উচিত ছিল কেন্দ্র সরকারের। এই নির্দেশ দেয়ার জন্য আমি সুপ্রিম কোর্টের কাছে কৃতজ্ঞ।’

শেয়ার করুন