অটোয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

52

নতুনদেশ ডটকম: অটোয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিয়েছে অটোয়া থেকে প্রকাশিত বাংলা ম্যাগাজিন ‘আশ্রম’। গত ১৭ ডিসেম্বর অটোয়ায় বাংলাদেশের স্থানীয় কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত ‘কৈলাস মিতাল থিয়েটারে’ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ‘আশ্রম’ সম্পাদক কবির চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক গবেষক তাজুল মোহাম্মদ।
বাংলাদেশ এবং কানাডার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতীত মা-বোন, ও বাঙালির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক তাজুল মোহাম্মদসহ সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বাংলা ম্যাগাজিন ‘আশ্রম’ প্রদত্ত ‘আশ্রম সম্মাননা স্মারক’ তুলে দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শিকদার মতিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক মাহমুদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকুল ইসলাম বীর প্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ বাইতুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সম্মাননা গ্রহণ করেন। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মাহবুবুল হকের পক্ষে তার স্ত্রী কামরুন্নাহার বেবী, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন চৌধুরীর পক্ষে স্ত্রী মমতাজ বেগম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান টরন্টো নিবাসী এডভোকেট আফিয়া বেগম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান অটোয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার নাঈম উদ্দীন আহমেদ বাবার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশে অবস্থান করার কারণে মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলী, মুক্তিযোদ্ধা শাহেদ বখ্ত ময়নু, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাতেন এবং মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীন আহমেদ সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ এবং আলোচনা। স্মৃতিচারণে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ বাইতুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মনির জামান, মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা শিকদার মতিয়ার রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক মাহমুদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এডভোকেট আফিয়া বেগম এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান অটোয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার নাঈম উদ্দীন আহমেদ।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য লেখক মহসীন বখ্ত, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এনআরবিনিউজ২৪.কম সম্পাদক সৈয়দ ফারুক আনোয়ার মিন্টু এবং আইনজীবী শামীম হাসান।
উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং এতে অংশ নেয় দশ মাস আগে প্রতিষ্ঠিত অটোয়ার বাংলা গানের স্কুল ‘ঊষা মিউজিক স্কুল’ এর শিক্ষার্থী- ফারাহ আকন্দ, মোবাশেরা মহসীন, মানহা মহসীন, সামারা কবির, ফারিজা ইশাল, জেরিন আনন, জারা রফিক, জয়না আজিন হক এবং ফাইজা হেলাল এবং সাদিকা পারভিন চন্দনা।
তারা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতসহ কয়েকটি দলীয় সঙ্গীত এবং একক সঙ্গীত পরিবেশন করে। তাদের সাথে যন্ত্রী হিসেবে ছিলেন ‘ঊষা মিউজিক স্কুলে’র শিক্ষক নন্দিতা ঘোষ (হারমোনিয়াম), শিক্ষক মেসবাহ আলম অর্ঘ্য (তবলা), টরোণ্টো থেকে আগত মেহেদী ফারুক (কী-বোর্ড), ইপশিতা রফিক (সেতার), বিধান চক্রবর্তী (গীটার), ম্রিনান তিদা (গীটার)।
এ ছাড়াও অটোয়া এবং টরোণ্টো থেকে আগত অতিথি কলাকোশলীরা সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন- অর্পিতা দাশ, অহর্ণা চৌধুরী, এম এইচ রহমান লিটন, হাদিউল ইসলাম হিরো। কবিতা আবৃত্তি করেন যথাক্রমে- ইপিশিতা বন্নী, শিউলি হক, মাসুদুর রহমান, সৈয়দ মনজুর মাসুদ (অপি), সুলতানা শিরীন সাজি। নৃত্য পরিবেশন করেন- আফরোজা খান লিপি, আচল, নবনীতা, আলিশা। এছাড়া সেতারে সুরের মূর্ছনা তুলে দর্শকদের বিমোহিত করেন ইপশিতা রফিক। অর্পিতা দাশ ও অহর্ণা চৌধুরী কানাডার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।
প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিগুলো তুলেছেন জামাল চৌধুরী, তথ্যসূত্র: আশ্রম

শেয়ার করুন