ওবিসিএস-এর আয়োজন- “ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না”

23

অন্টারিও বেঙ্গলী কালচারাল সোসাইটির আয়োজনে গত রবিবার, ১লা অক্টোবর বাংলা গানের জগতের বিখ্যাত শিল্পী হৈমন্তী শুক্লার “ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না” শিরোনামে হয়ে গেল সঙ্গীত সন্ধ্যা। বৃষ্টি কারও চোখের পাতা না ছুঁলেও শিল্পীর গান সবার মন ছুঁয়ে গেছে। হৈমন্তী শুক্লার মায়াময়ী কন্ঠের সুরের জাদুতে আর ঋষি চ্যাটার্জির তবলার তালে ক্ষনে ক্ষনে শ্রোতাদের করতালিতে ভরে ওঠে অডিটরিয়াম। অনুষ্ঠান শুরু হয় অন্টারিও বেঙ্গলী কালচারাল সোসাইটির দলীয় সঙ্গীত দিয়ে। এরপর কিছু একক সঙ্গীত, নাচ আর কবিতা আবৃত্তির পর শুরু হয় শিল্পী হৈমন্তী শুক্লার গান। শ্রোতাদের অনুরোধে শিল্পী গেয়ে যান একের পর এক গান। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন OBCS-এর নির্বাহী পরিচালক ফারহানা রহমান। সহযোগীতায় ছিলেন সাধারন সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন, সহসভাপতি পিযুষ বর্মন, সদস্যমন্ডলীর সম্পাদক মাহবুবা উদ্দিন আলো, বিপ্লব কর্মকার, সুরাইয়া ইয়াসমীন স্নিগ্ধা, ইয়াসমীন খায়ের ও সুমী বর্মন, ফারহানা চৌধুরি জিনি, আরিফ রহমান, এ কে আজাদ, আনোয়ারুল ইসলাম আজাদ, ইত্তেজা আহমেদ টিপু, রিনি শাখাওয়াত, কাজি সাজ্জাদ, নিশাত বেগম ও মুক্তি প্রসাদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন OBCS এর সভাপতি জসিমউদ্দীন। স্বরচিত কবিতা আবৃতি করেন কবি রুমানা চৌধুরী। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন গোলাম মহিউদ্দীন, সুমী বর্মন, বিপ্লব কুমার কর্মকার, ইয়াসমীন খায়ের, সুরাইয়া স্নিগ্ধা, আরো একক সঙ্গীতে ছিলেন সুমী বর্মন, বিপ্লব কুমার কর্মকার, ইভা নাগ, বিনিতা এবং অংকিতা। নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যকলা কেন্দ্রের ক্ষুদে দুই নৃত্য শিল্পী-ইন্দ্রা বিদুষি বিদ্যা কর, অনুষা রায়। উপস্থাপনায় ছিলেন ফারহানা আহমেদ ও দিলারা নাহার বাবু। শিল্পী হৈমন্তি শুক্লা সম্পর্কে বলেন কথাশিল্পী ফরিদা রহমান।
ভারত উপমহাদেশের বিশিষ্ট এই সংগীত শিল্পী তার সুরের মুর্চ্ছনায় হল ভর্তি হাজারো শ্রোতাকে মোহাবিষ্ট করে রাখেন, কোন বিরতি না নিয়ে কোন বিরতি না দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি গেয়ে চলেন। ছোটোবেলা থেকে শুনে আসা এইসকল জনপ্রিয় গানের সাথে দর্শক শ্রোতারাও গলা মেলান। রবিবার রাত, সকালে কাজ আর স্কুল – সব ভুলে গিয়ে শুধুই গানের ভেলায় বয়ে চলেন টরন্টোর দর্শক। তাদের অনুরোধে তিনি একই গান দুইবার পরিবেষণ করেন, শিল্পীর সাথে দর্শকের যোগাযোগটা এতটাই আবেগপূর্ণ হয়ে ওঠে যে শিল্পী অনুরোধ করেন প্রেক্ষাগৃহের আলো জ্বালিয়ে দিতে যেন তিনি মোহাবিষ্ট দর্শকদের মুখগুলো দেখতে পারেন।
বাঙালি কালচারাল সোসাইটির পক্ষ থেকে হৈমন্তী শুক্লাকে সম্মানসূচক পদক দেয়ার সময় শিল্পী অত্যন্ত আনন্দের সাথে সংগঠনের সদস্যা হবার আগ্রহ প্রকাশ করেন- সংগঠনের সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন ও ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা পল্লব সানন্দে তাঁকে জীবন-সদস্যা করে নেয়ার অঙ্গীকার করেন। শিল্পীর গানে অভিভূত বিশিষ্টজন তাঁকে অভিনন্দন ও কুশল বিনিময় করেন- কবি আসাদ চৌধুরী, ভাষা সৈনিক শামসুল হুদা, প্রখ্যাত গজল শিল্পী মুন্নি ও আফজাল সুবহানী ও আলেয়া শরাফী।
অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্র গ্রহনে ছিলেন শাহাদাত পলাশ ও আকবর হোসেন। ভিডিও ধারন করেন লিটন কাজী ও রিদুয়ান। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ববি প্রসাদ। অনুষ্ঠানটির সেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব দেন- তানিয়া আফরোজ তাকে সহযোগীতায় ছিল চয়ন ও মন্সুর, আরো ছিলো আলমপীয়া স্কুলের ছাত্র ছাত্রী- স্পন্দন, অহনা, রাইদা, সেজুতি, রীহাব, তওসিফ ও রিয়াদ।
অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতায়-টাইটেল স্পন্সর- ভাসাভিস নাহিদ কালেকশন আরো সম্মানিত স্পনসরেরা ছিলেন, আসহাবুদ্দীন খান আসাদ, ষড়ঋতু শাড়ি, নাঈমা নাজারা রহমান, ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক, আকবর হোসেন, ফারাহ খান, রবিন ইসলাম ও আলম মুরাল। অনুষ্ঠান শেষে শিল্পীর সাথে ফটো সেশন পর্বে সবাই মঞ্চে এসে ছবি তুলেন আর সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে সেই রাত থেকে শুধুই এই অনুষ্ঠানের আলোড়ন চলছে। সকল দর্শক শ্রোতা মন ভরে সবাই প্রশংসা করে এবং ধন্যবাদ জানায় অন্টারিও বেঙ্গলী কালচারাল সোসাইটিকে এরকম সফল একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য।  -খবর নিজস্ব প্রতিবেদক, সুরাইয়া ইয়াসমীন স্নিগ্ধা।

শেয়ার করুন