কনজারভেটিভ পার্টির লিডারশীপ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ!

3

বাংলা কাগজ ডেস্ক : কানাডার অফিসিয়াল বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বিব্রতকর বিতর্কে পড়েছে দলটি। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নেতৃত্ব নির্বাচনে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে পার্টির সিনিয়র নেতা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রসঙ্গত, কনজারভেটিভ পার্টির লিডারশীপ কনভেনশনে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে ম্যাক্সিম বার্নিয়ারকে হারিয়ে এন্ড্রু শিয়ার পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। নতুন নেতা দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করতে না করতেই নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে পড়লেন তিনি।  নির্বাচনের পর পরই কনজারভেটিভ পার্টির ১৭ বছরের এমপি ও সংসদে সরকারদলীয় সাবেক নেতা জে হিল অভিযোগ করেছেন তিনি তিন তিনবার পার্টির অফিসের সাথে যোগাযোগ করেও নিজের ব্যালট পেপারটি পাননি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘ব্যর্থ’ হিসেবে মন্তব্য করেন জে হিল। পরে সিবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্স’ এ অংশ নিয়ে নিজের ব্যালট পেপার না পাওয়ার বিবরন দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, হাজার হাজার না হউক, শত শত ব্যালট পেপার কোথায় গেলো। তিনি বলেন, যেই স্বল্প ব্যবধানে নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, তাতে এই ব্যালটগুলোর অনুপস্থিতি ভোটের বৈধতাকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। তিনি বলেন, তিনিসহ অন্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিলো।
উল্লেখ্য, কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনে সিংহভাগ ভোট গ্রহন করা হয় ডাক ব্যালটের মাধ্যমে। ভোটারদের কাছে আগেই ব্যালটপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভোটাররা তাদের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে সেই ব্যালট ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু পার্টির সিনিয়র নেতা জে হিলসহ অনেকেই ব্যালট পেপার না পাওয়ায় ভোট দিতে পারেন নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভোটের গণনার পরপরই ভোটের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধী ম্যাক্সিম বার্নিয়ারের নির্বাচনী প্রচারনা সেল। তারা অভিযোগ করেছিলেন, প্রার্থীদের যে ভোটার তালিকা দেওয়া হয়েছিলো এবং ভোট গ্রহনের যে হিসাব প্রচার করা হয়েছে তার মধ্যে ৭ হাজার ভোটের তারতম্য আছে।  অবশ্য বার্নিয়ার এ নিয়ে আর অগ্রসর হননি।
ভোটারদের তালিকা তৃতীয়পক্ষের হাতে চলে যাওয়া নিয়েও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে কনজারভেটিভ পার্টি। লিডারশীপ প্রতিদ্বন্ধীতায় অংশ নেওয়া ১৪ জন প্রার্থীকে ভোটার তালিকা সরবরাহ করা হয়েছিলো। এই তালিকা পার্টির ফোরামের বাইরে যাওয়ার কথা না। কিন্তু কানাডার ফায়ার আর্মস এসোসিয়েশন ভোটের আগেই পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা পেয়ে যায়।  তালিকা ফাঁস হয়ে যাওয়াকে পার্টির গোপনীয়তা লংঘন হিসেবে অভিহিত করে দলের ভেতদর এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।
নানা অনিয়ম নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন।  লিডারশীপ ইলেকশন অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ার ড্যান নওলান বলেছেন, ফলাফল ঘোষনা হয়ে যাবার পর সেটি আর পূর্ণবিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচনে আপিলের কোনো ব্যবস্থাই নেই।  সূত্র : নতুনদেশ ডটকম

শেয়ার করুন