টরন্টোতে আ ফ ম মাহবুবুল হক স্মরণসভা

66

সহযোদ্ধা শুভাকাঙ্ক্ষী আর অনুগত সমর্থকদের স্মৃতি তর্পণে ৩০ ডেন্টনের পার্টি রুমের ছোট্ট হলঘরটিতে যেন বসেছিল জীবন্ত সিনেমার প্রদর্শনী। প্রায় পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়কালে যারা তাঁর চার পাশ ঘিরে দ্রোহের কাব্য রচনায় অংশ নিয়েছিলেন আজ সন্ধ্যায় তাঁদের সমবেত কণ্ঠস্বর বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো অবাধ্য হয়েছিল প্রিয় সেনাপতির অন্তিম যাত্রার বেদনাবিধুর স্মৃতি স্মরণ করে। হারিয়ে যাওয়া সোনালী অতীতের বিচিত্র ঘটনা প্রবাহের বর্ণনায় বারবার ঘুরে ফিরে আসেন আ ফ ম মাহবুবুল হক। প্রিয় কমরেড, প্রিয় যোদ্ধা।
ছাত্ররাজনীতির সতীর্থ হাসান আবুল কাসেম তুলে ধরেন স্বাধীনতার আগে পরের অমুল্য গৌরব গাঁথা। যার সাথে জড়িয়ে ছিলেন প্রিয় মাহবুব ভাই। জানিয়ে দেন গণকন্ঠ পত্রিকার জন্মকালীন ইতিহাস। অনিবার্যভাবেই রায়হান ফেরদৌস মধু, আফতাব আহমেদ আর রেজাউল হক চৌধুরী মুসতাক চলে আসেন একেবারে সামনের কাতারে। আটলান্টিকের এপার থেকে সেই দরদী ভাইদের প্রতি জানান তার অসীম শ্রদ্ধা। মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়ার বর্ণনায় উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধ আর অগ্রজ মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে প্রিয় দলের ভাঙনের ইতিকাব্য।
মহান মুক্তিযুদ্ধ কালীন দেরাদুনের তান্দুয়া ক্যাম্পের প্রিয় প্রশিক্ষক মাহবুব ভাই সততা মেধা আর সাহসিকতা দিয়ে কিভাবে সহকর্মীদের উজ্জীবিত করতেন সেই স্মৃতি আজো মনের মণি কোঠায় গভীর যতনে ধারন করে রেখেছেন যুদ্ধদিনের সাথী গৌরাঙ্গ দেব। গর্বিত উচ্চারণে সেই আলোচনায় বার বার কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন চার খলিফার এক খলিফা বলে পরিচিত এলাকার বড়ভাই আব্দুল কুদ্দুস মাখনকে।
সাবেক ছাত্রনেতা নাসিরুদ্দুজা কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ইতিপূর্বে উল্লেখিত সেদিনের ডাকসু নির্বাচন বিষয়ের মূল্যায়ন উল্লেখ করে বলেন, আমি মনে করি ডাকসু নির্বাচনে সেদিন বিপুল ভোটেই আ ফ ম মাহবুবুল হকের প্যানেল মাহবুব – জহুর পরিষদই জয়লাভ করেছিল। তাকে নির্বাচিত ঘোষণা না করে যা করা হয়েছিল তা অন্যায় অমার্জনীয় অপরাধ। ছাত্রনেতা সাহবুদ্দিন লালটু আর আব্দুল হালিম মিয়া আফম মাহবুবুল হকের ব্যপক জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন।
রাজনৈতিক মূল্যায়নে চাকসুর জি এস আজিমউদ্দিন আ ফ ম মাহবুবুল হকের সততা নিষ্ঠা আর একাগ্রতা নিয়ে আলোচনা করেন। সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর পেশাগত কারণে আ ফ ম মাহবুবুল হকের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় উল্লেখ করেন।
অরুন দত্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে কিভাবে আ ফ ম মাহবুবুল হকের নিশ্চিত বিজয় নস্যাৎ করা হয়েছিল নিজ চোখে দেখা সেই বেদনা তিনি শুনিয়েছিলেন উপস্থিত সাথীদের।
যুদ্ধকালীন আর যুদ্ধ পরবর্তী নানা নিয়ম আর অনিয়মের কথকথা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন সহকর্মী সফিউদ্দিন আহমেদ। শায়লা আহমেদ লোপা নুর মোহাম্মদ কাজি, উদিনি সভাপতি আফসার সাইদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা এনায়েত করীম বাবুল প্রিয় নেতা আ ফ ম মাহবুবুল হকের জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। শিল্পী শাহিদ খন্দকার টুকু খালি গলায় নেতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন, ‘তোমার সমাধি ফুলে ফুলে ঢাকা কে বলে আজ তুমি নেই’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার হোসেন মুকুল। সভা পরিচালনা করেন রেজা অনিরুদ্ধ। অনুষ্ঠান শেষে রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।

শেয়ার করুন