টরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণে সাম্প্রতিক অগ্রগতি : OTIMLDM Inc. এর এজিএম অনুষ্ঠিত

65

গত ৪ জানুয়ারি ২০১৮ টরন্টো ইস্ট ইয়র্ক সিভিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় টরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণকল্পে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন Organization for Toronto International Mother Language Day Monument Inc. (সংক্ষেপে OTIMLDM Inc.) এর দ্বিতীয় বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)। সংগঠনটির সদস্যরা ছাড়াও এতে উপস্থিত ছিলেন এই উদ্যোগের অন্যতম শুভাকাক্সক্ষী এবং উপদেষ্টা এবং টরন্টো সিটি কাউন্সিল এর ওয়ার্ড ৩১ এর কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস।
সভায় উপস্থিত সদস্যদের ভোটে ২০১৮-২০১৯ মেয়াদের জন্য বোর্ড অব ডিরেক্টর নির্বাচন করা হয়। উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এই বোর্ড অফ ডিরেক্টর এর সদস্য নির্বাচিত হোন ফুয়াদ চৌধুরী, মির্জা শহীদুর রহমান, হাসিনা কাদের, ম্যাক আজাদ, সৈয়দ আব্দুল গফ্ফার, রিজুয়ান রহমান এবং দেওয়ান আজিম। সভায় সংগঠনটির বিগত বছরের কার্যক্রম এবং আর্থিক স্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে OTIMLDM Inc. এর পক্ষ থেকে এর নব নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে কমিউনিটির নানান ক্ষেত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তবর্গের সাথে যোগাযোগ করবেন এবং সংগঠনের কর্মপ্রয়াশে তাঁদের সম্পৃর্ক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। সাধারন সভা শেষে OTIMLDM Inc. এর নবনির্বাচিত বোর্ড অফ ডিরেক্টর এর প্রথম সভায় উপস্থিত পরিচালকদের সর্বসম্মতিক্রমে ম্যাক আজাদকে প্রেসিডেন্ট, ফুয়াদ চৌধুরীকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট, রিজুয়ান রহমানকে জেনারেল সেক্রেটারি এবং মির্জা শহীদুর রহমানকে ট্রেজারার নির্বাচিত করা হয়।
সভায় সংগঠনটির পরিচালক এবং নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রিজুয়ান রহমান বলেন, পুরো কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করার হবে এটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই OTIMLDM Inc. এর মূল লক্ষ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া প্রতিটি সভা / মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আমরা এই লক্ষ্যের কথা বারবার তুলে ধরেছি। কানাডাতে পাবলিক প্লেস এ যে কোনো নির্মাণ কাজের অনুমতি পাওয়া একটি অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া একথা আমরা সবাই জানি। আবার যে স্থানটিতে এই মনুমেন্ট নির্মাণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি সিটির রিভিন প্ল্যান, ফ্লাড প্ল্যানসহ আরো নানান পরিবেশ সম্পর্কিত বাধ্য বাধকতার আওতায় পরে। তাই সিটি অফ টরন্টোর নানান বিভাগের অনুমতি এবং সমর্থন আদায়ে প্রচুর সময়ের দরকার হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সিটির বিভিন্ন বিভাগের আমন্ত্রণে অনেক ডেপুটেশন-এ ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়েছে এবং তাঁদের অসংখ প্রশ্ন এবং সংশয় এর জবাব দিয়ে ঐসব বিভাগের সমর্থন আদায় করতে হয়েছে। সিটির প্রকৌশলীদের দাবির মুখে এনভায়রনমেন্ট, পাবলিক সেফটি ইত্যাদি কারণে নকশায় সামান্য পরিবর্তনও আনতে হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষে প্রতিটি বিভাগের ছাড়পত্র না পেলে যেহেতু কোনোভাবেই এই মনুমেন্ট নির্মাণ করা সম্ভব হতো না, তাই এই অনুমতি পাওয়ার আগে অনুমতি-সংক্রান্ত যে কোনো দাবী বা কথার ব্যাপারে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করে। কারণ আমরা কখনোই চাইনি যে আমাদের কোনো দাবি বা কথার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হোক। যেহেতু কোনো ধরণের সরকারি অনুদান ছাড়া সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যায় মেটাতে হবে, তাই কমিউনিটির মানুষের কাছে আমাদের কথার গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই যথাযথ অনুমতি না নিয়ে ব্যাপক আকারে কমিউনিটির কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এখন যেহেতু যাবতীয় অনুমতি সংগ্রহ করা সম্পন্ন হয়েছে, এখন অনতিবিলম্বে কমিউনিটির সবাইকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া হবে টরন্টোর বুকে আমাদের প্রথম স্থায়ী শহীদমিনার নির্মাণকল্পে। কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, কোনো ব্যাবসায়ীক বা রাজনৈতিক সংগঠন ও নয়, এই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে আমার আপনার মতো প্রতিটি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে। খুব শীঘ্রই আমরা ব্যাপক আকারে কমিউনিটির কাছে আসবো শহীদ মিনার নির্মাণকাজে তাঁদের সম্পৃক্ত হবার আহ্বান নিয়ে।
কানাডার বহুজাতিক-বহুসাংস্কৃতিক রূপকে সম্মান জানাতে এই মিনার হয়তো “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মনুমেন্ট” নামেই মূলধারায় পরিচিত হবে, তবে বাঙালির কাছে তা হবে তাঁর প্রাণের শহীদ মিনার, মাতৃভাষা রক্ষার যুদ্ধে তাঁর বিজয়ের প্রতীক।

শেয়ার করুন