বাংলাদেশ কানাডা হিন্দু মন্দিরের শারদীয় দুর্গোৎসব পালন

15

বাংলাদেশ কানাডা হিন্দু কালচারাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ কানাডা হিন্দু মন্দিরের উদ্যোগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর উদ্যাপিত হল বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। ১৬ দোম এভিনিউতে অবস্থিত সংগঠনের নিজস্ব মন্দিরে এই মহা উৎসবের আয়োজন করা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে পুঁজার শুভ প্রারম্ভ ঘটে। পূঁজার মহা ষষ্ঠী থেকে শুভ বিজয়া পর্যন্ত প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্থ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সনাতন ধর্মালম্বী ভক্তানুরাগী এই পূঁজায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিদিনই প্রাত্যহিক পূঁজা পর্ব শেষে অঞ্জলি প্রদানের পর শুরু হত মহাপ্রসাদ বিতরণ যা বিরামহীনভাবে চলত মধ্যরাত অবধি। মহাপ্রসাদ প্রস্তুতে সম্মুখ থেকে নেতৃত্ব দেন ট্রাষ্টিবোর্ডের সদস্য শ্রী অনিল নাথ এবং কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি শ্রী সজল দেব। উনাদের সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেন বিপুলসংখ্যক সেচ্ছাসেবী ভক্তানুরাগী। ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ কানাডা স্কুল অব হিন্দুউইস্ম এর ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় “আগমনী” আলেখ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহা সপ্তমীর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার শুভ সূচনা হয়। মহা অষ্টমী, মহা নবমী, এবং শুভ বিজয়া দশমী পর্যন্ত দলীয় ও একক পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর ছিল পুঁজার প্রতিটি সন্ধ্যা। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন সা রে গা মা পা জি বাংলার প্রতিযোগী দ্বীপায়ন ও সুচিস্মিতা, কালারস বাংলা চ্যাম্পিয়ান বিশ্বজিৎ দাস এবং নিউইয়র্ক থেকে আগত ছন্দা রায়ের পরিবেশনা। উক্ত শিল্পীরা তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তানুরাগী ও দর্শক শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে রাখেন।
শাস্ত্রসম্মত বিধি, তিথি ও নিয়ম মেনেই এই পূঁজায় পৌরহিত্য করেন শ্রী প্রসাদ ব্যানাজী ও শ্রী শ্যামল ভট্টাচায্য। তাদের সহযোগীতা করেন স্থানীয় অন্যান্য পুরোহিতবৃন্দ। পঞ্চব্যঞ্জনে সজ্জিত দেবীর ভোগ প্রস্ততে ছিলেন মন্দিরের নিয়মিত কর্মী সেচ্ছাসেবী মহিলা ভক্তানুরাগীরা।
৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার ভক্তদের মন ছিল দুঃখ ভারাক্রান্ত, কেননা আজ বিজয়া দশমী, উমাকে বিদায় জানা নোর পালা। আর তাই বিষাদের সুর ছিল আকাশে বাতাসে। তবে বিষাদের মাঝেও সান্ত্বনা একটাই, “আসছে বছর মা আবার আসবেন”। সকাল থেকেই মন্দিরে লোক জমা হতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় এক জনসমুদ্রে। বিপুল সংখ্যক ভক্তানুরাগী মাকে বিদায় জানাতে একত্র হয়। সিঁদুর ছুইয়ে, মিষ্টিমূক করিয়ে মাকে বিদায় জানান হয়। তারপরই মহিলারা মেতে উঠেন বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলায়। মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালেও দিনভর চলে প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় যথারীতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পূঁজার অন্য আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল পূঁজা প্রকাশনা ‘চিন্ময়ী’।
কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি শ্রী শিবু চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী অরুন প্রসাদ পাল এবং ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান শ্রী বিজিত লাল রায়, জেনারেল সেক্রেটারী শ্রী বরেন্দ্র সান্যাল এবং ট্রাষ্টিবোর্ড সদস্য শ্রী দেব কুমার শর্মা সুষ্ঠুভাবে পূঁজা উদযাপনে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে অশেষ ধন্যবাদ ও শারদীয় শুভেছা জানান। পরিশেষে, এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধমে শ্রী শিবু চৌধুরী এই মহান উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন