শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে নানান প্রশ্ন

101

গত ২৭শে জানুয়ারি মিজান কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (আইএমএলডি) কমিটির পরিচালকমণ্ডলী দ্বারা স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে এক মত-বিনিময় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু শত জনের ভিন্নমত প্রকাশে আলোচনা অনুষ্ঠানটিকে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মনে নানান প্রশ্নের উদয় হয়। এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল আইএমএলডি’র সাতজন পরিচালক মণ্ডলীর মধ্য থেকে একজন পরিচালকের কিছু শিশুসুলভ আচরণ ও তার কান্নাকাটি। উল্লেখ্য ঐ পরিচালক আইএমএলডি কমিটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট সাহেব ঠিক একদিন পূর্বে অর্থাৎ ২৬শে জানুয়ারি কমিউনিটির বিশিষ্ট জনের উদ্দেশ্যে আরেকটি পৃথক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছিলেন। সেখানে তিনি কমিটির বাকি সদস্যদের বিপক্ষে অভিযোগ এনে বাংলা কমিউনিটির অন্যান্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। ২৭শে জানুয়ারি, সকল পরিচালকের উদ্দ্যোগের আলোচনা সভা শুরু হয় একজন ব্যক্তির এজেন্ডায় লিখিত খুব সামান্য ভুলের নেতিবাচক মন্তব্য দিয়ে। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি নিজেদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে ড্যানফোর্থে পৃথক একটা অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়ে আসছেন।
তবে আশার কথা আলোচনা অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠু ও শান্ত রাখতে আই এম এলডি’র পরিচালকগন আলোচনায় সরাসরি কারো অভিযোগে নিয়ে বক্ত্যবে নিয়ে কোন প্রকার উচ্চ বাক্য করেননি। বরং তাদের অনুরোধে দেশে বিদেশে পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জনাব নজরুল ইসলাম মিন্টু মধ্যস্থত হয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। জনাব মিন্টু চেষ্টা করেছেন সুষ্ঠু ভাবে এক এক করে উপস্থিত সকলের প্রশ্ন জানতে এবং আইএমএলডি’র বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল রিজউয়ান রহমান চেষ্টা করেছেন সকলের প্রশ্নের উত্তর দিতে। কিন্তু রিজউয়ান রহমানের উত্তর গুলো কোনো কারণে প্রশ্ন কর্তাদের কেউ কেউ ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। যদিও প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ প্রশ্নের শুরুতেই উলখ করেছে যে তারা এভাবে আসার কারণ কমিটির সাতজনকে মিলিয়ে দিতে যাতে মহৎ কাজটি সহজে এগিয়ে যায়, যেমনটি এগিয়ে এসেছে এতটা পথ। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রিজউয়ান রহমান তাদের নিশ্চিত করেন যে যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে তিনি এখনও কমিটির একজন পরিচালক। তাকে নিয়েই বর্তমান কমিটি গঠিত এবং তারা একত্রেই কাজ করতে ইচ্ছুক। সেখানে সেদিন তিনি ও উপস্থিত ছিলেন। এমনকি তাকে তারা দু’বার কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছিল সেদিন।
রিজউয়ানের কোনো ইতিবাচক উত্তরই গ্রহণ করতে চায়নি তখন উপস্থিত কয়েক জন। তার প্রমাণ, প্রশ্ন ও উত্তর পর্বে লক্ষ্য করা গেছে একদল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একাধিক প্রশ্ন করতে উন্মাদ হয়ে উঠে এবং এক পর্যায়ে মার মুখী হয়ে উঠেছিল। কিছু প্রশ্ন কর্তা একই প্রশ্ন বার বার করেছে। এমন মুহুর্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ম্যাক আজাদ উপস্থিত সকলকে প্রশ্ন করে জানতে চান, আপনারা কী প্রস্তুত সত্য শুনতে? ম্যাক আজাদ তার ফাইল নিয়ে মাইকের সন্মুখে যান এবং বিগত কমিটির কিছু অশোভনীয় কৃতকর্ম বিষয়গুলো বলতে প্রস্তুত হন কিন্তু গুটি কয়েক সুধী জন না- না- না বলে সত্য শুনতে চায়নি তখন। কারণ তারাও জানে ভুলটা কার ও কোথায়। তারা সত্য শুনতে রাজী হয়নি বরং উত্তেজিত হয়ে উঠে। বিশেষ করে কমিউনিটির একজন পরিচিত ব্যক্তি ছিল কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেদিন তার বিশৃঙ্খলতা ও উচ্চ স্বরের বক্তব্যে প্রকাশিত হয়েছে তার মনের দুঃখ ও উদ্দেশ্য কি। বিচার মানি তাল গাছটা আমার। উদ্দেশ্যটা হচ্ছে, আমিই সব। কারণ তখন সেখানে কাজ ব্যতীত নাম প্রকাশের কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি।
আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল টরন্টো সিটি কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস। জ্যানেট ড্যাভিস প্রথম থেকেই আইএমএলডি কমিটিকে সকল প্রকার সহযোগিতা করে আসছেন। সেদিন জ্যানেট ডেভিস নিজেই প্রকল্পের অগ্রগতির কথা উলেখ করেন। তিনি আরও উলেখ করেন, কমিটির সাতজন পরিচালক কঠোর পরিশ্রম করে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে এসেছে প্রকল্পটি। সিটিও অনেক সহযোগিতা করেছে। এখন প্রকল্পটি কেবল মাত্র নির্মানের অপেক্ষায়। এই মুহুর্তে এমন শিশু সুলভ আচরণ এবং কে কি করল তা নিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। যেভাবেই হোক কাজটা সম্পন্ন করতে হবে। জ্যানেট ডেভিস আলোচনার কোনো এক মুহুর্তে অভিমান করে বলেছেন, আমি মনে করি প্রত্যেক বাংলাদেশিরই একটা করে সংগঠন আছে।
আলোচনায় উপস্থিত ছিল জনাব শামছুল আলম। যিনি বিগত কয়েক বছর যাবৎ তার মালিকানাধীন ঘরোয়া রেস্তরাঁর পেছনের পার্কিংলট খুলে দেন এবং নিজ নেতৃত্বে কমিউনিটির বেশ কিছু সংগঠন নিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে প্রভাত ফেরির আয়োজন করে আসছেন। সেদিন রিজউয়ান রহমান তাকে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করেন কিছু বলার জন্য। কিন্তু তিনি সে দিন নিরবতা পালন করেন। অনুষ্ঠানে কিছু সুধিজনের উপস্থিতি ও নিরবতা নতুন করে কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়।
আহমেদ হোসেন তার বক্তব্যে সাতজনের বর্তমান কমিটিকেই বাকী কাজ টুকু এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন এবং দেওয়ান আজীমকে পরিচালক থেকে উপদেষ্টা হিসেবে কমিটিতে রাখার পরামর্শ দেন।
সর্বশেষে কথা বলেছেন, ব্যারিষ্টার জয়ন্ত সিনহা। তিনি বলেছেন, আমি নিজে খেতে পারিনাই। সুতরাং কাউরেই খেতে দিতে পারিনা। এই মানসিকতা অত্যন্ত লজ্জা জনক। কথাটা শুনতে খারাপ শোনা গেলেও এখানে বিষয়টা তেমনই। টরন্টোতে একটা স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। যেহেতু এই সাতজনের কমিটি গত চার বছর যাবৎ অনেক পরিশ্রম করে, নিজেদের মূল্যবান সময়, অর্থ ও মেধা দিয়ে এতদূর নিয়ে এসেছে। সুতরাং বাকীটা পথ চালিয়ে নেয়ার মতো যোগ্যতা ও ধৈর্য্য তাদের আছে। এখন সেখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ যুক্তি সংগতনয়। আবার বিষয়টা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
কামনা করি, টরন্টোর মাটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের মতো সংবেদনশীল বিষয়টি স্বঘোষিত নেতাদের কালো নজর ও থাবা থেকে মুক্ত থাকবে। জয়বাংলা।

শেয়ার করুন