হেইট ক্রাইম বাড়ছে কানাডায়

14

বাংলা কাগজ ডেস্ক: আগের দুই বছরের বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের (হেইট ক্রাইম) হার বেড়েছে কানাডায়। কানাডার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার (সিএসএ) স¤প্রতি প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
২৮ নভেম্বর সিএসএ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, জাতিগত ও লৈঙ্গিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে কানাডায় ঘৃণা সঞ্জাত অপরাধের হার বেড়েছে। এমন বহু অপরাধ ঘটছে যেখানে আক্রান্তের লৈঙ্গিক পরিচয়টিই মুখ্য হয়ে উঠছে। এ ছাড়া দক্ষিণ এশীয়, আরব নাকি পশ্চিম এশীয় এমন জাতিগত পরিচয়ও কোনো অপরাধের শিকার হওয়ার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। আগের বছরগুলোর তুলনায় এ ধরনের অপরাধ ক্রমেই বাড়ছে কানাডায়।
ঘৃণা সঞ্জাত অপরাধ বৃদ্ধির সঙ্গে এ সময়ে এসে যোগ হয়েছে কট্টরবাদের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাও। গত সপ্তাহেই ক্যুইবেক শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে কট্টরবাদী গোষ্ঠী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ। উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বহু মানুষকে। ক্যুইবেকসহ আরও বেশ কয়েকটি শহরে এ ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ক্যুইবেক এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ বছরেরই জানুয়ারিতে ক্যুইবেকের এক মসজিদে বন্দুক হামলা করা হয়েছিল, যেখানে মারা গিয়েছিল ছয়জন। সিএসএর পরিসংখ্যান বলছে শহরটিতে জাতিগত ঘৃণা সম্পর্কিত অপরাধের হার এর এক বছর আগ থেকেই বাড়ছিল।
সিএসএর তথ্যমতে, গত বছর পুলিশের কাছে এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ জমা পড়ে ১ হাজার ৪০৯টি। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৬২। আর ২০১৪ সালে ঘটেছিল এমন ১ হাজার ২৯৫টি অপরাধের ঘটনা। গত বছর ঘটনা এ ধরনের অপরাধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল সহিংস। গত বছর ঘৃণা থেকে উদ্ভূত সহিংস অপরাধ হয়েছিল ৫৬৩টি, যা আগের বছরের একই ধরনের অপরাধের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।
এ ধরনের অপরাধের একটি বড় অংশই লৈঙ্গিক পরিচয় সংশ্লিষ্ট। গত বছর শুধু লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে অপরাধের শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭৬টি। ২০১৫ সালে এটি ছিল ৩৫। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে এমন অপরাধের মধ্য তিন-চতুর্থাংশই ছিল সহিংস। আর কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে এমন অপরাধ হয়েছে ২১৪টি। ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন ঘটনা ঘটেছে ২২১টি। আর দক্ষিণ এশীয়রা এমন অপরাধের শিকার হয়ে পুলিশে অভিযোগ করেছেন ৭২টি। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৮টি। আর আরব ও পশ্চিম এশীয়দের বিরুদ্ধে এমন অপরাধ ঘটেছে ১১২টি। এ ছাড়া পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়রা শিকার হয়েছেন এমন ৬১টি অপরাধের।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শুধু পুলিশের কাছে জমা হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই এমন তথ্য দিয়েছে সিএসএ। এ বিষয়ে সিএসএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকেই এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন না। তাই এ ধরনের অপরাধের সত্যিকারের সংখ্যা ঠিক কত তা সম্পূর্ণ জানা সম্ভব নয়। নিশ্চিতভাবেই এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি।

শেয়ার করুন