‌এই বিজয় একটা মুভমেন্টও : ডলি বেগম

26

সেরীন ফেরদৌস: সন্ধ্যার অন্ধকার জেঁকে বসেনি তখনও! আগেই বিদ্যুৎগতিতে চাউর হয়ে গেলো ডলি বেগমের নির্বাচনে জিতে যাবার খবর! এক সুহৃদ ফোনে খবরটা দিতে না দিতেই ছোঁ মেরে আমাকে তুলে নিয়ে যায় ২, রবিনসন এভিনিউতে ডলি বেগমের নির্বাচনী অফিসে!
তিনি তখনও আসেননি। আর আমি দেখি আনন্দ আর উল্লাসে অপেক্ষারত কালো-বাদামী-সাদা মানুষের গিজগিজে ভিড়! একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে, কেউ কেউ চোখ মুছছে, কেউ কেউ আনন্দে চিৎকার করছে!
কিছুক্ষণ পরই টেলিভিশন ক্যামেরা আর শতমানুষের করতালিতে সিক্ত হয়ে মেয়েটি আসে আমাদের সামনে, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়ে, বিজয়ের আবেগ সামলাতে সামলাতে বলতে থাকেন-
“আমাদের মা-দাদী-নানীদের স্বপ্ন পূরণের দিন আজ। বাঙালির বিজয়ের দিন আজ। হাজারো মানুষের বিশ্বাস সত্য প্রমাণ করার দিন আজ। যাঁরা একবিন্দুও সন্দেহ পোষণ করেছিলো, আমাদের সম্মিলিত শক্তির প্রতি, বাঙালি ইউনিটির প্রতি, যাঁরা একবিন্দুও সন্দেহ করেছিলো আমাদের সৎ ও আন্তরিক চেষ্টার প্রতি, তাদের সকলের জন্য জবাব আজকের বিজয়! আজকের দিন ইতিহাস তৈরি করার দিন!
বাঙালির হয়ে, হ্যাঁ হ্যাঁ, আবারও বলছি, মাইক হাতে বলছি, বাদামী বাঙালির হয়ে কানাডার রাজনীতিতে প্রথম খুঁটি পুঁতে দিয়ে বিজয়ের পতাকা ?ওড়ালেন তরুণমুখ ডলি বেগম! নির্বাচনী এলাকা স্কারবরো সাউথ ওয়েস্ট বাঙালির যোগ্যতার, অগ্রযাত্রার সাক্ষী হয়ে রইলো!
তিনি বলেন, “এই বিজয় হলঘরে উপস্থিত এবং অনুপস্থিত অসংখ্য মেয়েরই বিজয়। আমি জেনেছি প্রচুর নারীরা আমার অজান্তে আমার পক্ষে ভোটের জন্য প্রচারণা করেছে। এই বিজয় একটা মুভমেন্টও বটে। আগামী কয়েক বছর এই মুভমেন্ট চালিয়ে যাবার শক্তি আমাদের আছে।”
সমস্ত শক্তি নিয়ে বাংলায় রেকর্ড বেজে ওঠে “আমরা করবো জয়” আর ঘরভর্তি বাদামি বাঙালি তারস্বরে চিৎকার করে গাইতে আর নাচতে থাকে, “বুকে গভীর আছে প্রত্যয়, আমরা করবো জয়”…! চোখে জল কি আর এমনি এমনি আসে!

শেয়ার করুন