দাদী, বদর ভাই এবং পিঁপড়ার সারি!

11

সাজ্জাদ আলী
আমার প্রিয়তম দাদীর অন্যতম একটি সখ ছিলো তাঁর নাতিপোতাদের জন্য মিঠাই কেনা। মাছকান্দি’র মান্দার দাদা, আর পশ্চিম পাড়ার রফু দাদা, এরা দুজন দাদীর বাঁধা ময়রা। এই ময়রাদ্বয় ঝাঁকা ভর্তি রকমারী তৈরী মিষ্টি নিয়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার দাদীর ঘরের দরজার সামনে এসে বসবেই। গুড়ের সন্দেশ, দানাদার, চিনির সন্দেশ, সাজবাতাসা, রসগোল্লা, গুড়ের জিলাপী, মদনকটকটি, খাজাগজা, কত্ত স্বাধের সব মিষ্টি! দাদী নিজের হাতে উল্টেপাল্টে দেখে তবেই মিষ্টিগুলো কিনবেন।
রফুদাদা প্রত্যেক পদের মিষ্টি এক সের করে মেপে আলাদা আলাদা কাগজের ঠোঙ্গায় ভরে দাদীর পায়ের কাছে সারি দিয়ে রাখছে। দাদী বললেন, ওই রউফ দানাদার আর খাজাগজা ঘরে আছে, ওগুলান দিস না। মান্দার সেদিন আইসা দিয়া গেছে, পোলাপাইনগো ওখনও তা খাইতে দেওয়া ওয় নাই। অইচ্চা সাইজা ভাবী, তয় দুই ঠোঙ্গা ফেরত লই। বলেই রফু দাদা দুই ঠোঙ্গা মিষ্টি ঝাঁকায় ঢেলে ফেললেন। আমরা চাচাতো-ফুফাতোরা সব মিষ্টি-ঝাঁকার চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে, ঠোঙ্গা গুনছি। গণনা করা ছাড়া আর উপায় কি, দাদী বসে আছেন যে? ঠোঙ্গায় তো আর হাত দেবার উপায় নাই!
ঝাঁকার পাশে দাঁড়িয়ে মিষ্টি খাওয়ার লোভের তীব্রতা যে কতখানি বাড়ে, তা কি লিখে বোঝানো যায়? সম্ভবত আমার মনের চাহিদা বুঝতে পেরে দাদীর চোখ এড়িয়ে রফু দাদা একখানা “ঘোড়ামূর্তির সাজবাতাসা” আমার হাতে গুঁজে দিলেন। এক্ষুণি কামড় বসাবো, তবে তার আগে চিনির সিরায় তৈরী সেই ঘোড়া মূর্তিটির পা, দেহ, চুট, ঘাড়ের কেশ, মাথা, ইত্যাদির নির্মাণশৈলী ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছি। হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন ছো’ মেরে আমার হাত থেকে ঘোড়াটি নেবার চেষ্টা করলো। আমিও মুঠি চেপে যথাসাধ্য ঘোড়া রক্ষার চেষ্টা নিলাম। মুহূর্ত বাদেই দেখি বদরভাই ঘোড়াটি গালে পুরে কানাপুকুরের দিকে দৌঁড়াচ্ছে। মুষ্টি খুলে দেখি ঘোড়ার মাথাটি শুধু পড়ে আছে আমার হাতের তালুতে। আর বিলম্ব না করে ঘোড়ারমাথা মুখে পুরে দিলাম।
আমাদের পার্শ্ববর্তী জিকাবাড়ী এবং রাজপাট গাঁয়ে সপ্তাহের নিদৃষ্ট দিনে হাট বসে। সে সব হাটে যে সাশ্রয়ী দামে আরো রকমারী মিঠাইমন্ডা পাওয়া যায়, দাদীর তা অজানা নয়। কিন্তু তিনটি কারণে তিনি ওই দুজন ময়রার থেকেই বাড়িতে বসে মিষ্টি কেনেন। প্রথমত: নিজে দেখেশুনে কিনতে পারেন। দ্বিতীয়ত: তাঁর বিশ্বাস যে, মান্দার আর রফু এলাকার সেরা ময়রা এবং ওরা তাঁকে ঠকানোর সাহস করবে না। তৃতীয়ত: এবং সব থেকে বড় কারণটি হলো, বাড়ি থেকে কিনলে ময়রাদের তিনি “চিটা ধানে” মূল্য পরিশোধ করতে পারেন; তাঁর সিন্দুক খুলতে হয় না।
শৈশব এবং কৈশোরে দাদীর বাড়িতে ফুফাতো-চাচাতো ভাইবোনদের সাথে আমি মহা প্রমোদে বড় হয়েছি। আমার চার ফুফুই নিয়ম করে তাঁদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে প্রতি বছর বেশ লম্বা সময়ের জন্য বাবার বাড়িতে নাইওর আসতেন। ওদের বাবা (আমার দাদা) জীবিত নেই, কিন্তু তাতে কি? আমার আব্বা/কাকারাতো বোনঅন্তপ্রাণ! আর ভাগ্নে ভাগ্নীরাতো নিজ সন্তান থেকেও অনেক প্রিয় আব্বার কাছে। তো ফুফুরা কেউ না কেউ সব সময়েই আমাদের বাড়িতে থাকতেন। আবার আমার ফুফাতো ভাইদের মধ্যে দুরন্ত যারা, তাদের আমাদের বাড়িতে থেকে মামাদের তত্বাবধানে পড়াশুনা করতে হতো। তো এই চাচাতো-ফুফাতো ভাইবোন মিলিয়ে সব সময়েই আমরা অন্তত জনা পনেরো দাদীর চার পোতার চারখানা ঘর মুখর রাখতাম।
আমার মেজ ফুফুর মেজটা বদরভাই। ও আমাদের ভাইবোনদলের সর্দার! দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য সে এবং এক নম্বরের দশ্যি। সারাক্ষণ সবার পিছু লেগে থাকবে। একে দিয়ে ওকে টাইট দেয়াবে, ওর কথা এর কাছে লাগাবে, ইত্যাদি সব কর্ম (!) তার। দুরন্তপনার ব্যাপারে ওর উদ্ভাবনী শক্তি নোবেল পুরস্কারের যোগ্য! আমাদের উত্তক্ত করার নতুন নতুন পন্থা তার মাথায় কিলবিল করতো। কল্পগল্পেও সে এককাঠি এগিয়ে। দলের বিশিষ্ট সুন্দরী নীলু আপা, রিনা আপা, টিয়ন আপা প্রমুখের সাথে তার নাকি “ভিন্ন রকমের খাতির” আছে; হাবেভাবে এটা আমাদের বুঝায়ে ছাড়বে। তবে হা, কেউ যদি বদর ভাইকে “মাতব্বর মানে” তার সাত খুন মাফ!
এই বদরভাইটার উপর আমরা ভাইবোনেরা যারপরনাই বিরক্ত, কিন্তু তাকে উপেক্ষা করলে দল টেকে না। অনেক গুণ আছে তার। কচুরীপানার ফাঁক গলে পুকুরে এক ডুব দিয়ে দুমুঠো ভরে কৈ, ট্যাংরা, পাবদা, টাকি, মাছ ধরে আনতে পারে। সুউচ্চ গাছের ছিট্কি ডালের কাঁচাপাকা আমটি ঠিক ঠিক ছিড়ে আনবে। দুই ব্যান্ডের রেডিওটির টিউনিং নব সুক্ষ হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে উঠোনে অপেক্ষমাণ গাঁয়ের লোকদের ভয়েস অব আমেরিকার রাতের খবরটি শুনিয়ে দিতে পারে। রাত দুপুরে সব থেকে লম্বা খেজুর গাছটিতে তরতর করে উঠে ঠিলাভর্তি রস নামিয়ে আমাদের খাওয়াবে। লেখাপড়া না করেও তার পরীক্ষার রেজান্ট ভালই।
আর গানের গলাতো একেবারে কোকীলকন্ঠি! “পরের জায়গা পরের জমি ঘর বান্দিয়া আমি রই” আর “আমার সোনার ময়না পাখি” এ গানদুটোতো সে আব্দুল আলীম আর নীনা হামিদের থেকেও যেন ভাল গায়। তবে তালবাড়ীর রেন্টু আপার সাথে তার যে দৈ¦তকন্ঠে গান গাওয়ার সুযোগ এলো না, তার জীবনে এর থেকে বড় অপ্রাপ্তি আর কিছুই নাই! যাই হোক, সব কথার শেষ কথা, আমরা মানতে না চাইলেও, নিজ যোগ্যতায় সেই আমাদের দলপতি।
দাদীর কথায় ফিরবো আবার। ওনার আরো একটি পরম সখ, ক্রয়কৃত মিঠাই আমাদের দুএকদিন বিলম্ব করে খেতে দেওয়া। ধামা ভর্তি মিঠাইয়ের ঠোঙ্গাগুলো নিয়ে দাদী ঘরে ঢুকছেন, আর আমরা ছুঁচো ইন্দুরের মতো তাঁর পিছু পিছু অনুসরণ করছি। ভাবছি, এই বুঝি দাদী ঠোঙ্গা খুলে মিষ্টি বিতরণ শুরু করবেন! কিন্তু না, আমরা যে কাঙ্গালের মতো একটি মিষ্টির জন্য তাঁর পিছু পিছু হাঁটছি; এই দৃশ্যটি তাঁর কাছে পরম উপভোগ্য! এ কেমন আজগুবী কান্ড? “উপভোগের” আর কি কোন বস্তু তিনি খুঁজে পান না?
মা-চাচীদের তো এ নিয়ে কথা বলার সাহসই নেই। ফুফুরা কেউ হয়তো বললেন, আইচ্চা মা এত যে মিষ্টিমন্ডা কেনো, নিজেতো খাও না। যাগো লাইগা কেনো তাগো পিছু পিছু ঘুরাইয়া তুমি কি মজা পাও কওতো? চুবো তুই (চুপ কর)! ধমকে উঠলেন দাদী। কন্নে মিঠাই দেবো না দেবো তা কি তোর কাছে শিখতি ওবি? আমি কি তোর প্যাটে ওইছি, নাকি তুই আমার প্যাটে? ধমক খেয়ে ফুফু চুপ, আর আমরা চুপশে! ঠোঙ্গার মিস্টি ঠোঙ্গায় রইলো!
বিত্তবৈভবী অকাল বিধাবা দাদীর এ এক অস্বাভাবিক মনোদ্বৈততা। সম্ভবত এই প্রক্রিয়াটি করে তিনি “কর্তৃত্ব দেখাবার আনন্দ” পেতেন। অনেকটা “আমার যখন ইচ্ছা, মিঠাই তোরা তখনই পাবি” -এ রকম। তাঁর বিনোদোনহীন জীবনে “একক কর্তৃত্বের” এই আনন্দটুকুতেই হয়তো তিনি বিনোদিত হতেন। যাইহোক, ওই দুএকদিন মিষ্টিগুলো লুকিয়ে রাখার পরেই মমতাময়ী তাঁর সাদাশাড়ীর আঁচল ভরে মিষ্টিগুলো এনে আমাদের “যার যতটা পেটে ধরে” তাকে ততটা খাওয়াতেন।
উত্তর পাড়ার ওমর কাকা দাদীর গুড়ের সাপ্লাইয়ার। জয়নগর মোকাম থেকে পাইকাড়ী গুড় কিনে সে আমাদের এলাকার হাঁটে-বাজারে বিক্রি করে। মোকামে ভাল জাতের কোন গুড় পেলেই তার দু-এক সের সে দাদীর জন্য নিয়ে আসে। সেদিন বিকালে ভেতর বাড়ীর উঠোনে আহাদ দাদাভাই কলের গান বাজায়ে গান শোনাবার আয়োজন করছে। খেঁজুরের পাতায় বোনা পাটিতে বসে পাড়া প্রতিবেশী শ্রোতারা গান শুনছে আর পাটালি গুড় দিয়ে হুড়–ম খাচ্ছে। দাদাভাই’র পাশে বসে আমি তাঁর সহকারীর কাজ করছি। রেকর্ডের কোন বাক্সের মধ্যে সন্ধ্যা মুখার্জি’র “মধু মালতী ডাকে আয়” গানটির রেকর্ডখানা রাখা আছে, তাই খুঁজতে আমি পেরেশান! ওটা হিট গান, শ্রোতারা শুনতে চাচ্ছে।
পশ্চিম ঘরের বারান্দার ডোয়ার সাথে বড় জলচকিখানা পেতে পটের বিবির মতো বসে দাদীও নিবিষ্ট মনে গান শুনছেন। ভেতর বাড়ীর বেকি বেড়ার বাইরে দাঁড়িয়ে ওমর কাকা ডাক ছাড়লেন, “চাচীআম্মা ভিতরে আইবো?” সম্বিত ফিরে দাদী বললেন, আয় আয় ওমর ভিতরে আয়। কাগজে মুখ বন্ধ করা একটা সিলভারের ঘটি জলচকিতে রেখে ওমর কাকা দাদীকে বললেন, এক্কেরে খাজা খাজা দানা পড়া খাজুইরা ঝুলাগুড় আম্মা, কোন ফিটকারী মিশায় নাই, একদম খাঁটি। এই ঝোলাগুড়ডা মোকামে দেইখাই আপনার লাইগা এক সের আনলাম। তাই নাকি রে, আনছিস ভাল করছিস, দাদী বললেন। খাজুইরা ঝুলাগুড় আইজকাল তো আর পাওয়াই যায় না। হাঁক ছাড়লেন দাদী, ওই মাফিকির মা? চিটা ধানের ড্যাগ থেইকা ওমরেরে ৪ সের ধান দেওতো।
দাদীর সামনে ঘটি ভর্তি দানা পড়া ঝুলাগুড়! আর কি কলের গানের শব্দ কানে ঢোকে? পাটি থেকে উঠে গিয়ে বদরভাই একখানা পিড়ি পেতে দাদীর কাছে গিয়ে বসলো। আমিও গিয়ে ঘটির কাছাকাছি মাটিতে বসে পড়লাম। গুড়ের ঘটির উপরে বাম হাতখানা রেখে দাদী তখন মগ্ন হয়ে কলের গান শুনছেন, “আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালুহু, শেষ করা তো যায় না গেয়ে তোমার গুণগান।”
আজ দুদিন হয়ে গেল বাড়ীতে ঘটি ভর্তী দানাপড়া গুড় এসেছে, অথছ দাদী তা আমাদের খেতে দেননি। এই স্বৈরাচারীনির স্বৈরতন্ত্রে নিষ্পেশিত আমরা! গুড়ের দানাগুলো কতটা শক্ত, কামড় দিলে তা গালের মধ্যে মিশ্রির মতো গলে যায় কিনা, পাটালী গুড়ের থেকে এর মিষ্টত্ব বেশি না কম? ইত্যাদী নানা প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও। অগত্যা ভাই-বোনদলটি সবাই তলে তলে একমত হলাম যে, আর অপেক্ষা না; চুরি করে হলেও এই ঝুলাগুড়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।
কিন্তু গুড়ের ঘটিটা দাদী লুকালেন কোথায়? গোলাঘরের ধানের মাচার সমস্ত ড্যাগ-তাগারী-কোলা, দাদীর ঘর, খাবার ঘরের তাক-মিটসেফ, সবগুলো ঘরের কাঠের পাটলাজ (সিলিং), ঢেকি ঘর, রান্নাঘরের হাড়িকুড়ি, এমনকি গোয়াল ঘরের আড়ার উপরের রাখা খড়ির আটি, ইত্যাদি হেন জায়গা নাই যে আমি আর বদরভাই তন্ন তন্ন করে খুঁজি নাই। পিচ্চি মিলনটাকেও খোঁজাখুঁজিতে লাগিয়েছি। ওদিকে বোনগুলো, আহাদ দাদাভাই আর মনি ভাইজান, -এরা কখনওই কোন অ্যাকশানে যাবে না, নিরাপদে থাকবে। তবে ভাগের বেলায় ওদের ষোলআনা চাই! যত্তসব ভাগ খাওয়ার দল!
ঘটি বোধহয় আর পাওয়াই যাবে না, ঝোলাগুড় কপালে নাই! আমরা হতাশগ্রস্থ, একেবারেই নিরাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছি! এরই মধ্যে খোঁজাখুঁজি-চেষ্টার তৃতীয় দিবসের সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে বদরভাই ইশারা করে তার পিছু পিছু আমাকে গোলাঘরে নিয়ে গেল। আবছা অন্ধকারে ঘটিটা আমার হাতে দিয়ে বললো, খাইয়া দ্যাখ, এমন গুড় জীবনে খাইস নাই। আমি তো অবাক! ঘটি সে কোথায় পেলো? তবে সে জবাব পরে জানলেও চলবে, আগে গুড় খাই। ঘটিতে হাত ডুবিয়ে দেখি ১/৩ ভাগ খালি! পাঁচ আঙ্গুলে গুড় উঠিয়ে গালে পুরে বললাম, ঘটিতো প্রায় খালি কইরা দিছেন? ফালতু কথা কইয়া সময় নষ্ট করিস নাতো, খাইয়া সার। বলেই বদরভাই ঘটিতে আবারো কব্জি ডুবালো।
ঘটির ২/৩ ভাগ খালি হতেই বললাম, সব্বাইরে থুইয়া সব খাইয়া ফালাবো? আমার চোখে চোখ রেখে ভাই বললো, ওগো দিতি মন চায় তোর? অইচ্চা সবকটিরে বুলান দে তয়। গোলা ঘরের দরজা ফাঁক করে দেখি মিলনটা উঠোনে লাফালাফি করছে। ওকে ইশারায় কাছে ডেকে সবাইকে খবর দিতে বললাম। দুএক মিনিটের মধ্যেই তিন ঘর থেকে বাকি ভাইবোনেরা সবাই দৌঁড়ে এসে গুড়ের ঘটি নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করলো।
ঘটি খালি হওয়ার পরে আঙ্গুল চুষতে চুষতে আমরা বদরভাইকে জিজ্ঞসা করলাম, ঘটিটা কোথায় কি ভাবে পেলে বলোতো? ঠিক তখনই আমাদের শুভ্রবসনা প্রাণেশ্বরী দাদী গোলা ঘরের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলেন। স্মীত হেসে বললেন, হ্যারে ডাকাইতগুলান ঘটিটা তো ঢেকি ঘরের চুলার গর্তের মইধ্যে হাড়িকুড়ি দিয়া ঢাইকা রাখছিলাম। তগো তো অতদুর সন্দো করার কথা না, খোঁজ পাইলি কেমনে ক’ দেহি?
দাদীর সুনজর কাড়বার জন্য আমি লাফ দিয়া সামনে এসে বললাম, বদরভাই জানে দাদী! ¯েœহমাখা হাতখানা বাড়িয়ে বদরকে কাছে টেনে তিনি বললেন, ঘটির সন্ধান পাইলি কেমনে ভাই ক’তো আমারে? মাথা নিচু করে ভাই বললো, দাদা (তার নানিকে সে দাদা বলেই ডাকতো), আইজ সন্ধ্যার আগে দেহি পিঁপড়ার দল সারি বাইন্দা ঢেকি ঘরের মাটির চুলার গর্তে ঢুকতাছে আর বারাইতেছে। ভাবলাম, চুলার মধ্যে মিষ্টি কিছু একটার সন্ধান না পাইলে তো ওহানে পিঁপড়ার যাওয়ার কথা না! পিঁপড়াগো পিছন পিছন যাইয়া দেখি চুলার মধ্যে গুড়ের ঘটি!
(লেখক বাংলা টেলিভিশন কানাডা’র নির্বাহী)

শেয়ার করুন