বঙ্গবন্ধু যুগে নববর্ষ ও বাংলা সাহিত্য প্রসঙ্গ

65

সোনা কান্তি বড়ুয়া
জয় বাংলার বঙ্গবন্ধু যুগে বাঙালির ঠিকানা খুঁজে পেতে বিশ্ব বাঙালির হৃদয়ের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নাম ইতিহাসে দেদীপ্যমান হয়ে আছে। জয় বাংলা! শুভ বাংলা নব বর্ষ। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু যুগের আগে উক্ত শব্দের প্রচলন ছিল না। বঙ্গলিপির বয়স ২৬০০ বছর এবং বাংলা ভাষা পালি ভাষার বিবর্তিত রূপ। সম্রাট অশোকের পালি (ব্রাম্মী ) অক্ষর থেকে বাংলা লিপি এবং সংস্কৃত ভাষার দেব নাগরি লিপির (৪০টা ভাষার বর্ণমালা) সৃষ্টি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যুগে যেমন পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশের নাম নয়, ঠিক তেমনি ১৪২৬ বছর পূর্বে বঙ্গলিপির বয়স ছিল ২৬০০ বঙ্গাব্দ এবং বাংলা বিশ্বকোষে (১৩শ ভাগ, পৃষ্ঠা ৬৫) রাজপুত্র সিদ্ধার্থের (গৌতমবুদ্ধ) বঙ্গলিপি অধ্যয়ন করার ঐতিহাসিক প্রমাণ বিরাজমান! ২৬০০ বছর পূর্বে গৌতমবুদ্ধ বঙ্গলিপিকে ব্রাহ্মণদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। পৃথিবীর সর্বপ্রথম বাংলা সাহিত্য গ্রন্থ চর্যাপদে গৌতমবুদ্ধের ২৬০০ বছরের দর্শন এবং হৃদয় বাংলাদেশ বিরাজমান! এবং বাংলা নিয়ে বিজয় সিংহের শ্রীলঙ্কা (তাম্রপর্ণীর সিংহল) জয়ের তিনশত বছর পরে সম্রাট অশোকের পুত্র বৌদ্ধভিক্ষু মহিন্দাসহ কন্যা ভিক্ষুনী সংঘমিত্রা শ্রীলঙ্কায় অশোকের ধর্মরাজ্য স্থাপন করেন করেছিলেন। নাট্টসম্রাট দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা ‘সিংহল অভিযান’ শীর্ষক ঐতিহাসিক নাটকে বাঙালির বীরত্বের ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে এবং ২৫৬৩ বছর পূর্বে ভারতের অজন্তা গুহায় বিজয় সিংহের সমুদ্র যাত্রার দুর্লভ মুহূর্ত বিরাজমান।
প্রসঙ্গত : চর্যাপদের অন্যতম কবি ভুসুকু পাদ ‘বাঙ্গালি’ শব্দের আবিষ্কারক হলে হিজরি সাল থেকে বঙ্গাব্দের জন্ম হয় কি করে? বঙ্গবন্ধু যুগে আজ বাঙালি মিথ্যা ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সত্যের আলোকে বাঙালির ইতিহাস রচিত হচ্ছে সজাগ সতর্ক সচেতন হয়ে। ২৬০০ বছরের বাংলা বৌদ্ধ জাতক এবং বাঙালির ইতিহাসে ১৪২৬ বঙ্গাব্দ কেন? বঙ্গবন্ধু যুগে স্বাধীনতার মূল্যায়ন অনন্ত অসীম। বৃটিশ সরকার এবং পাকিস্তান সরকার বাংলা সাহিত্যের প্রতিবন্ধক ছিল। বৃটিশ সরকার মহাকবি নজরুল ইসলামের রচিত “বিদ্রোহী” শীর্ষক কবিতা বন্ধ করে দিয়ে কবিকে কারারুদ্ধ করে রেখেছিলেন। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত এবং রবীন্দ্র সাহিত্য চর্চা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রেডিও এবং টেলিভিশন থেকে বন্ধ করে দিয়ে বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছিল। আরবীয় সভ্যতার হাজার বছর পূর্বে প্রাচীন বাংলার মহারত্ন বঙ্গবীর বিজয় সিংহ শ্রীলঙ্কা অধিকার করে ‘সিংহল’ নামকরণ করায় ‘মহাবংস’ নামক শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে ‘বুদ্ধাব্দ’ সংযোজন আজও বিরাজমান।
হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃষ্ঠান আমরা সবাই মিলে বাঙালি জাতি। ২৩০০ বছর পূর্বে সম্রাট অশোক যুগের পরে বাঙালি জাতি একমাত্র বঙ্গবন্ধু যুগে বাঙলার সভ্যতা ও ইতিহাস বিশ্বজুড়ে প্রচার করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। সম্রাট অশোক পালি সাহিত্য গ্রন্থ বৌদ্ধ ত্রিপিটক বিশ্বজুড়ে প্রচার করেছিলেন কিন্তু অদৃষ্ঠের নির্মম পরিহাসে বিগত দেড় হাজার বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে বাঙালি জাতির পরিপূর্ণ ত্রিপিটক গ্রন্থ ছিল না। বঙ্গবন্ধু যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম অবদান বৌদ্ধদের পালি ত্রিপিটকের ৫৯ খন্ডের বাংলা অনুবাদ বিগত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে সমাপ্ত হয়েছে। আজ বাংলা সাহিত্যে ৫৯ খন্ডের বৌদ্ধ ত্রিপিটক সংযোজন হয়ে বিশ্বসভায় বাঙালি জাতি গৌরবান্বিত বোধ করছেন।
চারশত বর্ষের পাল রাজত্বে চর্যাপদের বুদ্ধাব্দকে বাদ দিয়ে হিজরি সালের বঙ্গাব্দে হিজরি সাল অদৃশ্য হয়ে গেল। আরব দেশের ১৪৩৩ হিজরি সাল পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশে ১৪১৯ হিজরি বলার কথা অমর্ত্য সেন বিশেষণ করে বঙ্গাব্দ করার ইতিহাস বলেছেন। লেখক শৈলেন্দ্র ঘোষের মতে, “এই জটিলতা নিরসনের জন্য পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে গৌড়েশ্বর হোসেন শাহ তাঁর উজির পুরন্দর খাঁ, মুকুন্দ দাস, এবং মালাধর বসু প্রভৃতি সভাসদদের পরামশক্রমে বঙ্গাব্দের প্রবর্তন করেন।” গায়ের জোরে রাতারাতি ইতিহাস তৈরি হয় না। বাঙালিত্বের ঐতিহ্য বিহীন সম্রাট আকবরের দেওয়া বঙ্গাব্দে ইসলামিক হিজরি সাল অদৃশ্য এবং আলাহ উপনিষদের আলোকে বাবরি মসজিদ ভাঙা হল কেন? আজকের ১৪৪০ হিজরি কে চাঁদ ও সূর্য্য ক্যালেন্ডারের দোহাই দিয়ে ভেঙে ১৪২৬ বঙ্গাব্দ করলে ও অজন্তা গুহায় ২৬০০ বছর পূর্বে বঙ্গাব্দের বঙ্গবীর বিজয় সিংহের সচিত্র উপস্থিতি বিরাজমান। রামায়নের রাম, হনুমান ও রাবনের কোন ইতিহাসের অস্তিত্ব শ্রীলঙ্কায় নেই।
বাংলাদেশে বৌদ্ধ পাল রাজাদের চারশত বছরের বৌদ্ধ রাজত্বে চর্যাপদ শীর্ষক সর্বপ্রথম বাংলা গ্রন্থে বাংলা ভাষা পালি ভাষার বিবর্তিত রূপে বিরাজমান এবং বুদ্ধাব্দই বঙ্গাব্দ ছিল। বগুড়ার মহাস্থানগড়ে সম্রাট অশোকের অশোক (ব্রাহ্মী) লিপিতে পালি ভাষায় অশোক স্মম্ভে প্রাচীন বাংলায় বৌদ্ধ আদর্শ আজ ও কলকাতা যাদুঘরে বিরাজমান । বাংলার মহাসম্রাট ধর্মপালের (৭৭০ থেকে ৮৯০ খৃঃ ) রাজকীয় দানে ছয়টি বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়েছিল!
চট্টগ্রামের মেয়ে নিশিতা বড়–য়ার কন্ঠের একটা গানে, “আমার মনের ঘরে বসত করে ক’জনা, ভাই ক’জনা?” বাংলাদেশের প্রাচীন বৌদ্ধদর্শনের বিশ্লেষণে কামনার অন্ধকারে বিরাজমান লোভ, দ্বেষ ও মোহ; উক্ত সমস্যামালা সমাধান করতে দৈনন্দিন জীবনে শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার যথাযথ অনুশীলন করা নিতান্ত কর্তব্য।
জনতার প্রশ্ন : ২৬০০ বছর আগে ও ভারতীয কোন ভাষায় বৌদ্ধ ত্রিপিটক ভারতবর্ষে কোথা ও ছিল না কেন? বাংলা ভাষা তো পালি ভাষার বিবর্তিত রুপ এবং থাই ভাষা ও পালি এবং সংস্কৃত শব্দমালায় সমৃদ্ধ হয়েছে। গৌতমবুদ্ধ হিন্দুর ভগবান বা অবতার হলে হিন্দু মন্দিরে বা ঘরে ঘরে বুদ্ধপূজা হয় না কেন? একমাত্র বৌদ্ধমন্দির সমূহ দখল করে রাখতে হিন্দুরাজনীতি বুদ্ধকে অবতার বানিয়ে মানবাধিকারের আইন, মনুস্মৃতির উপদেশ ও গীতার জাতিভেদ প্রথাকে অপমানিত করেছে। একদা বৌদ্ধসম্রাট পালবংশের রাজত্বকালে (৭৫০ থেকে ১১০০ খৃঃ) বাংলাদেশের ধর্ম ও সংস্কৃতি আজকের থাইল্যান্ডের মতো ছিল। বিভিন্ন কারনে ১২০২ সালে ভারত, উড়িষ্যা, নেপাল এবং বাংলাদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ শরণার্থী মনদের (বৌদ্ধ স¤প্রদায়) সাথে মায়ানমার এবং শ্যামদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ১২৩৮ সালে প্রথম রাজা ইন্দ্রাদিত্য থাইল্যান্ডের প্রথম রাজধানীর নাম সুখোদায় (বা সুখের উদয়) প্রতিষ্ঠা করেন। রাজা ইন্দ্রাদিত্যের কনিষ্ঠতম ভ্রাতার নাম মহারাজা রামকাম হেং।
বঙ্গবন্ধু যুগে আমার লেখা কবিতা :
বাংলাদেশের মানুষের জন গণ মন অধিনায়ক বঙ্গবন্ধু,
জয় হে বাংলার মর্মভেদী দেবদূত শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধুর সাধনা ছিল বাংলাদেশে জাতীয় জীবনে স্বাধীনতার আলো জ্বালাতে দুষ্টের দল আঁধারের যাত্রী বিএনপি মার্কা রাজাকার মিশে গেছে জামায়াতে।
“এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম” বজ্রযোগীনির বজ্রকন্ঠে বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিদান
“এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অমর অবদান।
বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ বীর পুরুষ সর্বকালের ইতিহাস প্রধান
জয় হে, জয় স্বাধীনতার বীর পুরুষ! করে গেলে শতাব্দীর অগিম্লান ।

বাংলাদেশী প্রথিতযশা লেখক সোনা কান্তি বড়–য়া, প্রবাসী রাজনৈতিক ভাষ্যকার, বিবিধ গ্রন্থ প্রণেতা ও কলামিষ্ট “আনবিক যুগে বৌদ্ধ চিন্তা এবং বৌদ্ধ ধ্যান” শীর্ষক ইংরেজি ভাষায় বুড্ডিষ্ট থট এ্যান্ড মেডিটেশন ইন দ্যা নিউক্লিয়ার এজ মহামূল্যবান গ্রন্থটি পাঠক সমাজের দৃষ্টি কেড়েছে!
বঙ্গবন্ধু যুগে আমার লেখা কবিতা :
জয় বাঙালির জয়
বাংলাদেশের জয়।
হাজার বছর ধরে চলেছেন বাঙালি পুন্ড্রবর্ধনের পথে,
বঙ্গোপসাগর থেকে সিংহল সমুদ্রে মহাকালের রথে।
পালরাজ্যে ঘুরেছি আমি, ধর্মপালের অতীত জগত,
বঙ্গবন্ধু যুগে আমার লেখা কবিতা :
দেখেছি শালবন বিহার ও চট্টগ্রামের পন্ডিত বিহার যত।
ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত আমি, মনে পড়ে কত ঝর্ণা
আমারে কিছুক্ষণ শান্তি দিয়েছিল উত্পলা বর্ণা।
প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার জাতিধর্ম নির্বিশেষে ঐতিহ্যের ধন,
নববর্ষে বাঙালি ভাই বোনের পাহারপুরে মিলন।

আমার বাংলাদেশ
বাংলা আমার, মাতা আমার চির বিজয়ী বাংলাদেশ,
জগত্ জুড়িয়া বাঙালি জাতি জয় বাংলা গাইছে বেশ!
হাজার বছর আগের বাঙালির ইতিহাস কি কথা কয়?
অতীশ দীপঙ্করের বাংলাদেশ বাংলাভাষা অমর অক্ষয়।
আমার স্বপ্ন বাংলাদেশ মহাজাতক বুদ্ধের বাংলাদেশ
বাংলার অমোঘ বানী মহাশান্তি মহাপ্রেমের শেষ।
জন্ম লগনে বাংলাদেশ, কান্নায় আমার বাংলাদেশ
মন্ত্র আমার বাংলাদেশ হাঁসিতে আমার বাংলাদেশ।
কথায় কথায় বাংলাদেশ, রক্তে আমার বাংলাদেশ।
তীর্থ আমার বাংলাদেশ, বিত্ত আমার বাংলাদেশ,
আমার আমি বাংলাদেশ, পরিচয় আমার বাংলাদেশ।
প্রেমিকা আমার বাংলাদেশ, সেবিকা আমার বাংলাদেশ,
পিতা আমার বাংলাদেশ, ভাই বোন আমার বাংলাদেশ।
অস্তিত্ব আমার বাংলাদেশ, রাজত্ব আমার বাংলাদেশ ।
জীবন আমার বাংলাদেশ, মরন আমার বাংলাদেশ,
সুখ আমার বাংলাদেশ, দুঃখ আমার বাংলাদেশ।
অনুভূতি আমার বাংলাদেশ, দর্শন আমার বাংলাদেশ,
কবিতা আমার বাংলাদেশ, রক্ষক আমার বাংলাদেশ ।
তুমি মুসলিম মৌলবাদী, আমার বাংলা ছাড়ো।
হাতেই আছে আমার দেশের যত আলো।
তুমি মৌলবাদী জঙ্গী, সরাও তোমার ছায়া,
তুমি আমাদের বৌদ্ধ বসতি ছাড়ো।
রামুর বড়–য়া পাড়ায় আগুন লাগায় ইসলামি জঙ্গী
পুলিশ প্রশাসন হল না আজ বৌদ্ধদের সঙ্গী।
আমার দেশে তুমি কে জঙ্গী ইসলামি?
জঙ্গীদের ভয়ে দেশ থেকে পালাবো না আমি।
দেশে মাটির নীচে বুদ্ধ থাকেন,
উপরে ধ্যানে জ্ঞানে বুদ্ধ আছেন।
পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারে এসেছে জনতার ঢল
গৌতমবুদ্ধের অহিংসা পরম ধর্ম স্বদেশের বল।
বাংলাদেশী প্রথিতযশা লেখক সোনা কান্তি বড়–য়া, প্রবাসী রাজনৈতিক ভাষ্যকার, বিবিধ গ্রন্থ প্রণেতা ও কলামিষ্ট “আনবিক যুগে বৌদ্ধ চিন্তা এবং বৌদ্ধ ধ্যান” শীর্ষক ইংরেজি ভাষায় বুড্ডিষ্ট থট এ্যান্ড মেডিটেশন ইন দ্যা নিউক্লিয়ার এজ মহামূল্যবান গ্রন্থটি পাঠক সমাজের দৃষ্ঠি কেড়েছে!

শেয়ার করুন