অপারেশন লাগবে নাসিরের লাগতে পারে মিরাজেরও

31

\স্পোর্টস ডেস্ক : জাতীয় দলের তারকারা একের পর এক ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে খেলতে পারছেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল)। তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজের পর অসুস্থতায় রুবেল হোসেন। এছাড়াও ফুটবল খেলতে গিয়ে লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে নাসির হোসেনের। এরই মধ্যে বিসিবি’র চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী জানিয়ে দিয়েছেন আস্ত্রোপচার ছাড়া নাসিরের ভালো হওয়ার কোনো পথ নেই। কেন হঠাৎ করে কেন এমন ইনজুরির মিলেছে ক্রিকেটাররা? এ বিষয়ে চিকিৎসক বলেন, ‘আসলে মিরাজ ও তাসকিনের কথা যদি বলেন তাহলে ইনজুরিগুলো নতুন নয়। ওরা অনেকদিন ধরেই এ ইনজুরিতে ভুগছে।
রুবেলতো অসুস্থ, তামিমের হাঁটুর সমস্যাটাও নতুন নয়। আর নাসিরেরটা বলবো দুর্ঘটনা। যখন তারা খেলায় থাকে বা বাইরে থাকে তখন আসলে ক্রিকেটারদেরই দায়িত্ব নিজেদের যত্ন নেয়া। পুরনো ইনজুরিগুলো যেন মাথাচাড়া না দিতে পারে সেইদিকে খেয়াল রাখা। কেউ পারে কেউ পারেন না। মিরাজ যেমন এখন আর ইনজুরিটি নিয়ে চলতে পারছেন না। আমরা ওকে দেড় মাস দেখবো। যদি ঠিক না হয় তাহলে দ্রুতই অপারেশনের ব্যবস্থা করবো।’
২০১৫ বিশ্বকাপের পর ইনজুরিতে পড়েছিলেন রুবেল হোসেন। সেই সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ইনজুরির আক্রান্ত হওয়ার পর নিয়ম মেনে চলেননি। চিকিৎসকদের পরামর্শও নেননি ঠিক ভাবে। যদিও এরজন্য শাস্তি পেতে হয়েছিল এই পেসারকে। বাদ পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও। মূলত ইনজুরি আক্রান্ত ক্রিকেটারদের জন্য বিসিবি’র চিকিৎসক ও ফিজিওরা একটা গাইড লাইন দিয়ে থাকেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে সেগুলো সঠিক ভাবে পালন করেন না ক্রিকেটাররা। এছাড়াও ফুটবল খেলতে গিয়েও অনেক ক্রিকেটার ইনজুরির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘আমরাতো ক্রিকেটারদের খেলতে না করেত পারি না। তারা খেলবে- এটাই স্বাভাবিক, তা না হলে ফিট থাকবেন কিভাবে। তবে আমরা তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি সরাসরি শারীরিক ক্ষতি হয় এমন কিছু না করতে। ফুটবল খেলতে গেলে একটু ঝুঁকি থাকেই। তাই বলি গলফ কিংবা টেনিস খেলুক। কিন্তু ফুটবলটা সহজ বলেই তারা খেলে। এক্ষেত্রে তাদের নিজেদেরই সতর্ক থাকা উচিত। নাসির যেটা করেছেন যে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছেন। এটিতো খেলার বাইরের ঘটনা। এক্ষেত্রে তারই দায়িত্ব ছিল সতর্ক থাকা।’

নাসির হোসেনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিসিবি’র চিকিৎসক বলেন, ‘ওর এন্টেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট বা এসিএল পুরোটাই ছিঁড়ে গেছে। এজন্য অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে আমাদের। আমরা চেষ্টা করছি, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি কোথায় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা যায়। আমাদের সিইও দেশের বাইরে আছেন। উনি ফিরলে সিদ্ধান্ত হবে।’ সামনের দিনগুলোতে ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়াও ভারতের মাটিতে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। তাই অস্ত্রোপচার হলে কতদিনে নাসির মাঠে ফিরবেন তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এ বিষয়ে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘যত দ্রুত অস্ত্রোপচার হবে, তত তাড়াতাড়ি খেলায় ফিরতে পারবে।’ অন্যদিকে তাসকিন ও মিরাজকে নিয়ে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘তাসকিনের আস্ত্রোপচার দরকার নেই। প্রায় প্রতিটি পেসারেরই এমন ধরনের সমস্যা থাকে। পিঠে ও কোমরের দিকে ব্যাথা। এটি আসলে রিহ্যাবের মাধ্যমেই ঠিক রাখতে হবে।
এছাড়াও মিরাজের অবস্থা একটু খারাপই বলতে হবে। ওকে আমরা আরো দেড় মাসের মতো দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি এর মধ্যে ঠিক না হয় ওর কাঁধে মোস্তাফিজের মতো অপরারেশন করতে হতে পারে।’ এছাড়াও ক্রিকেটারদের প্রতি দেবাশিষ চৌধুরী আরো একবার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘দেখেন ওরা খেলবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সতর্ক থাকা খুবই প্রয়োজন। এটি তাদের নিদের দায়িত্বে মধ্যেই পড়ে। বিশেষ করে যে সব খেলা বা অনুশীলন শারীরিকভাবে সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা থাকে সেগুলোতে সাবধান থাকা বেশি জরুরি। ফুটবল খেলবে সেখানেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশলগুলোও ঠিক রাখতে হবে। আমি মনে করি আমাদের পাশাপাশি ওদেরও (ক্রিকেটার) দায়িত্ব আছে নিজেদের খেয়াল রাখার।’

শেয়ার করুন