ইতালিতে রোনালদোর প্রথম শিরোপা

12

স্পোর্টস ডেস্ক: জুভেন্টাসের হয়ে প্রথম শিরোপার স্বাদ নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বুধবার ইতালিয়ান সুপার কাপের ফাইনালে এসি মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা কুড়ায় জুভেন্টাস। সুপার কাপে সর্বাধিক ৮ বার শিরোপা জিতলো তুরিনের ‘ওল্ডলেডি’ খ্যাত দলটি। সাতবার ইতালিয়ান সুপার কাপ জয়ের কীর্তি রয়েছে এসি মিলানের। ইতিলিয়ান সুপারকাপের ৩১তম ফাইনালে জুভেন্টাসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রোনালদো। প্রথমবারের মতো এবারের সুপার কাপের ফাইনাল খেলা হয় সৌদি আরবের জেদ্দায়। এ নিয়ে ১০ ( চায়না ৪, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২, কাতার ২, লিবিয়া ১, সৌদি আরব ১) বারের মতো ইতালির বাইরে সুপারকাপের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হলো। জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়।
৬৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় জুভেন্টাস। বসনিয়ার মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচের চিপ থেকে হেড করে এসি মিলানের জালে বল জড়ান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা রোনালদো। এই গোল নিয়ে জুভেন্টাসের জার্সিতে চলতি মৌসুমে ২৬ ম্যাচে ১৬ গোল করলেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার। আর পেশাদার ফুটবলের ফাইনালে এটি রোনালদোর ১৯তম গোল। ম্যাচে ফিরতে গিয়ে ধাক্কা খায় এসি মিলান। ৭৪তম মিনিটে জুভেন্টাসের তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান তারকা এমরে চানকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন এসি মিলানের আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে। এ নিয়ে ভিন্ন চার দেশে সুপার কাপ শিরোপার স্বাদ নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এর আগে স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে পর্তুগালে (২০০২) ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ইংল্যান্ডে (২০০৭ কমিউনিটি শিল্ড) এবং রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে স্পেনে (২০১২, ২০১৭) সুপার কাপ শিরোপা জেতেন তিনি। ক্লাব ক্যারিয়ারে এটি রোনালদোর ২৬তম শিরোপা। জেদ্দায় ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ম্যাচটি খুবই কঠিন ছিল। প্রচণ্ড গরমে ৯০ মিনিট খেলাটা খুবই কষ্টের ছিল। ২০১৯ সালটা ট্রফি জিতে শুরু করার খুবই ইচ্ছা ছিল। আর জুভেন্টাসের হয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিততে পেরে আমি খুব খুশি। লীগ এবং কাপ আসরের শিরোপা জয়ী দু’দল মুখোমুখি হয় সুপারকোপা দ্বৈরথে। গত সিরি আ এবং কোপা ইতালিয়ার দুটিই জিতেছিল জুভেন্টাস। সেই সুবাদে কোপা ইতালিয়ার রানার্স আপ হিসেবে সুপার কাপ খেলার সুযোগ পায় এসি মিলান।
সৌদি আরবের স্টেডিয়ামে নারী সমর্থকদের ঢল

সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইতালিয়ান সুপার কাপের ফাইনাল ম্যাচে নেমেছিল নারী সমর্থকদের ঢল। বুধবার ফাইনালে দর্শকের উপস্থিতি ছিল ৬২,০০০। আর এর মধ্যে নারী দর্শকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫,০০০। তবে কোনো নারী সমর্থকরা মাঠে একা প্রবেশ করতে পারেনি। শুধুমাত্র পরিবারের সঙ্গে ব্যানার, ফেস্টুন, স্টিকার একে মাঠে খেলা দেখার সুযোগ পেয়েছিল নারী সমর্থকরা। একা কোনো মেয়েকে মাঠে খেলা দেখার সুযোগ না দেয়া নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়েছেন ইতালির সহকারী প্রধানমন্ত্রী মাতেও সালভিনি। এ ধরনের কার্যক্রমকে বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন সালভিনি। সৌদি আরবের মাঠে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নারী সমর্থকদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইতালিয়ান লিগের সভাপতি গেতানো মিচিচে। ২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত সৌদি আরবের মাঠে শুধুমাত্র পুরুষরাই প্রবেশ করতে পারতো। ২০১৮ সালের জুনে পরিবারের সঙ্গে নারীরা মাঠে প্রবেশ করতে পারবে এমটা ঘোষণা করে সৌদি আরবের সরকার।

শেয়ার করুন