ইমরানকে ছেড়ে দিয়েছে র‌্যাব

56

অনলাইন ডেস্ক : মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুর প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারকে আটকের সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে র‌্যাব। রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-৩ এর পক্ষ থেকে ইমরানকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে বিকাল সাড়ে চারটায় শাহবাগ থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বিনা বিচারে হত্যা’র প্রতিবাদে শাহবাগে পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে জড়ো হচ্ছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে ‘নির্বিচারে মানুষ খুনের বিরুদ্ধে জাগো বাংলাদেশ’ নামক ফেসবুক ইভেন্টের মাধ্যমে একত্রিত হন তারা। ৪টা ২৫ মিনিটে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন কর্মী নিয়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইমরান।
এ সময় সেখানে ছাত্র ইউনিয়নের একটি কর্মসূচি শেষ পর্যায়ে ছিলো।

সমাবেশ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ইমরান। হঠাৎ করেই সাদা পোশাকে কয়েক জন ঘিরে ধরে ইমরানকে। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় র‌্যাব-৩ এর গাড়িতে। তখন আশপাশে ছড়িয়ে থাকা পোশাক পরিহিত র‌্যাব সদস্যরা দ্রুত চারপাশে অবস্থান নেন। শাহবাগে তখনও র‌্যাবের চারটি গাড়ি অবস্থান করছিলো। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ শুরু করেন গণজাগরণ মঞ্চ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। তারা র‌্যাবের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কর্মীদের লাঠিচার্জ করে র‌্যাব। র‌্যাবের লাঠিচার্জে সাত জন আহত হন। আহতরা হচ্ছেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, সহসভাপতি অনিক রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, ঢাকা মহানগরের সভাপতি দীপক শীল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহসভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ, সদস্য মীম আরাফাত মানব ও প্রত্ন প্রতিমেধ। এ সময় শাহবাগ মোড় ও শাহবাগ থানার সামনে অর্ধশত পুলিশকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রিয়াজুল আলম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে শাহবাগে আসা মাত্রই র‌্যাব সদস্যরা জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। এর আগে রোববার একই বিষয়ে শাহবাগে প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চ। তবে পূর্বানুমতি না থাকার কারণে পুলিশের বাধায় সেদিন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি তারা। এরপর অনুমতি নিয়ে গতকালের সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছিল বলে মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ৫ই জুন ডিএমপি কমিশনার বরাবর ইমরান এইচ সরকার স্বাক্ষরিত একটি আবেদনও দেখান মঞ্চের কর্মীরা। ওই আবেদনের বিষয় ছিল, ‘গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচি অবগতি ও নিরাপত্তার জন্য আবেদন’। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানান, ইমরানকে কর্মসূচি পালনের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে ব্লগারস অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বানে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে উঠে গণজাগরণ মঞ্চ। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে নজিরবিহীন আন্দোলন করেছিলো এই মঞ্চ। শুরু থেকেই এই মঞ্চের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. ইমরান এইচ সরকার। এই গণজাগরণ মঞ্চের প্রতি আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো সমর্থন দেয়। মঞ্চের কর্মসূচিতে মন্ত্রী এমপিদের অংশ নিতে দেখা যায়। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে শুরুতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে এই আন্দোলন থেকে সরে যায় ছাত্রলীগ। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোল থেকে খুন-ধর্ষণসহ নানা ঘটনার প্রতিবাদেও সরব হন ইমরান এইচ সরকার। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ও বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়ায় ক্রমে সরকার সমর্থকদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় ইমরান এইচ সরকারের। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এসব কারণে ক্রমে মঞ্চের কর্মসূচিতে লোক সমাগম কমে আসে।

শেয়ার করুন