একাদশ সংসদের যাত্রা শুরু

2

অনলাইন ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। বেলা ৩টায় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা হবে। অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদে ভাষণ দিবেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। অতীতের ধারাবাহিকতায় এই সংসদ আরো বেশি কার্যকর হবে বলে আশা করছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এই সংসদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ পাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারি দল। ২২টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় জাতীয় পার্টি।
তবে আসন সংখ্যা কম হলেও জাতীয় পার্টির সদস্যরা সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আজ বুধবার অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রথম দিনে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দশম সংসদে বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারে থাকলেও এবার শুধু বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় পার্টির এমপিরা। ইতিমধ্যে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে আমরা প্রস্তুত। সরকারের ইতিবাচক কর্মসূচিতে সহযোগিতা ও নেতিবাচক পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনার মাধ্যমে জনগণের স্বার্থরক্ষায় সংসদে বিরোধী দল দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি জানান।

গত ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের নেতা শেখ হাসিনা এই সংসদে চতুর্থবারের মতো সংসদ নেতার দায়িত্ব পালন করবেন। আর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করবেন। গত ৩রা জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এই সংসদে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি, জাতীয় পার্টি ২২টি, ওয়ার্কার্স পার্টির তিনটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’র দুইটি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর দুইটি, তরীকত ফেডারেশনের একটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু)’র একটি এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা তিনটি আসন পেয়েছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৮জন সদস্য এখনো শপথ নেননি। আর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া একটি আসনে আগামী মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিবেশনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এজন্য সংসদের ট্যানেল ও ড্রাইভওয়েতে যেকোনো ধরনের গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের মোবাইলফোন বাইরে রেখে প্রবেশ করতে বলা হবে। এ ছাড়া প্রত্যেকটি মোবাইলফোন বিশেষ ভাবে পরীক্ষার জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের বসার চেয়ার ঠিক আছে কীনা তা পরীক্ষা করা হয়েছে।

অধিবেশন কক্ষের সকল মাইক্রোফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে সব লিফট ক্রুটিমুক্ত রাখতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সংসদ ভবন ফুলসহ বিভিন্ন গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে অক্সিজেন সুবিধাসহ সার্বক্ষণিক একটি এম্বুলেন্স রাখতে বলা হয়েছে। সংসদ লবিতে একজন ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকবে। এ ছাড়া সংসদ অধিবেশন ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক সম্পর্কে অবহিত করতে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘শর্ট ম্যাসেজ সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে। নতুন সংসদের প্রথম দিনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ওপর আনীত শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ছাড়াও স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচন করা হবে।

এরপর সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনের পর রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে প্রধান বিচারপতি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, দেশি-বিদেশি কূটনীতি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং ভিআইপিদের আত্মীয়স্বজনসহ ৫ শতাধিক অতিথি উপস্থিত থাকবেন। ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংগৃহীত তালিকা চূড়ান্ত করে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়েছে। আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কোনো অতিথি ওই দিন সংসদে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে সংসদের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন