দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

20

ঢাকা : টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রথমেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে সরকারের বার্তা প্রশাসনের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সুনির্দিষ্ট একটা নির্দেশনা যেতে হবে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত, কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি তা পূরণ করতে পারব। তার জন্য প্রয়োজন সুশাসন, তার জন্য দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।

গতকাল সকালে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতেই সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এত বেশি বৃদ্ধি করে দিয়েছি- সেই ক্ষেত্রে আমি তো মনে করি, দুর্নীতি হবে কেন? যা প্রয়োজন এর সব তো আমরা মেটাচ্ছি, তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? কাজেই এখানে মানুষের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দিয়েছি। তেমনি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দিয়েছি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সরকার পরিচালনার মূল জায়গাটায় হলো আপনাদের এই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অনেক বিশাল এক কর্মযজ্ঞ এখানে। সেক্ষেত্রে আপনাদের দায়িত্ব কিন্তু অনেক অনেক বেশি। রাষ্ট্র পরিচালনার হার্ট জনপ্রশাসন। আপনাদের সেভাবে কাজ করতে হবে, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। পদোন্নতির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, এখানে দক্ষতাটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কে কত বেশি কাজ করতে পারে, সততার সঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলবে- সবকিছু বিবেচনা করে পদোন্নতি হওয়া উচিত। পদ ফাঁকা পেলেই পদায়ন নয়- মন্তব্য করে যার যে বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ রয়েছে তাকে সেই জায়গায় পদায়ন করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সবক্ষেত্রে ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত হতে পারে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় বাংলাদেশে দরপত্রের বাক্স ছিনতাই হতো। আমরা ই- টেন্ডারে চলে গেলাম। এখন আর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা শোনা যায় না।

এভাবেই আমি মনে করি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি অনেকটা নিশ্চিত করা যায়, আমরা সেটাও করব। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ধরা হলেও এটা ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে, প্রবৃদ্ধি এই পাঁচ বছরের মধ্যে যেন ১০ ভাগে তুলতে পারি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বলব, আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছি সেটা আমরা করতে পারব। এজন্য দরকার সুশাসন, দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা। আমরা সরকারি কর্মচারী আইন পাস করেছি ২০১৮ সালে। এখন এ আইনটা কার্যকর হবে। কার্যকর করার সময় অনুশীলন করতে থাকব। এ সময় এর সমস্যাটা চোখে পড়তে পারে। তখন প্রয়োজন মতো এটা সংশোধনও করা যাবে। দেশের অগ্রগতি ধরে রাখতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সারা বিশ্বে একটা সম্মানজনক জায়গায় আসতে পেরেছি। এখন সেই পাকিস্তানও বলে আমাদেরকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও।

আজকে কিন্তু আর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলার সাহসও তাদের নেই। বলতেও তারা পারবে না। কারণ, আমরা অনেক এগিয়ে আছি। এই এগিয়ে যাওয়াটা, এই যাত্রাটা আমাদের কিন্তু অব্যাহত রাখতে হবে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার মূল জায়গাটা হলো আপনাদের, এই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। সেটা মাথায় রেখে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনারা ভালোভাবে পালন করবেন। মতবিনিময় সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দশম জাতীয় সংসদের মতো এবারও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিদর্শন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সেই কার্যক্রম শুরু করলেন তিনি। এ মাসেই আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

শেয়ার করুন