নির্বাচনে আসা-না আসা কোনো দলের নিজস্ব ব্যাপার : প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

41

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি করবে না- এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। এটা আমরা চাপিয়ে দিতে পারি না। নির্বাচন না করলে ধরে নিয়ে যাবো, জেলে পাঠাবো- এটা তো আমরা বলতে পারি না। আর আগামী নির্বাচনে কে জিতবে বা হারবে সেটা নির্ভর করছে জনগণের ওপর। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে গতকাল বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিন দেশের সফর নিয়ে লিখিত বক্তব্য পড়ার পর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা।
এ সময় তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলন, নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মামলা, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা আবারো উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার কারাগারে পাঠায়নি। মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে গেছেন। এখানে সরকারের করার কিছু নেই। সড়কে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সড়কে চলাচলে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনি বাসে করে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বের করে যাবেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ছাত্রদের দাবি মেনে কোটা বাতিল করা হয়েছে এ নিয়ে এখন আর আলোচনার দরকার নেই। ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনে সমঝোতা হলে ভোট ছাড়াই কমিটি দেয়া হবে। কারণ ভোটে যেমন সুবিধা আছে তেমনি অসুবিধাও আছে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত,পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম,পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ মনে করছে কিনা, বিরোধী জোটকে নির্বাচনের আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না- সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, পুলিশ হত্যা করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তারা কী করবে, সেটা তাদের ওপরই নির্ভর করছে।
খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকার বিষয়টি আদালতের, সরকারের নয় বলেও মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে তো আমি কারাগারে পাঠাইনি। তাকে তো রাজনৈতিকভাবে পাঠানো হয়নি কারাগারে। রাজনৈতিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে তো আরো আগেই করতে পারতাম। ২০১৪ সালে যেভাবে হুকুম দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিল, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতাম।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ১০ বছর ধরে একটা মামলা চলছে। ১৫২ বার না ১৫৪ বার তারা কোর্ট বদল করেছে, ২২ বার রিট করেছে। তাদের এত বড় বড় আইনজীবী, এত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সব আইনজীবী, তারা কিছুতেই প্রমাণ করতে পারলেন না যে খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত রায় দিয়েছেন। আইনিভাবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তাদের আইনিভাবেই লড়াই করতে হবে। আমাদের কাছে দাবি করে কী হবে? বরং আমি একটা অন্যায় করেছি। একজন নিরপরাধ মানুষ তার জন্য সাজা খাটছেন! কোনো অপরাধ না করে, কোনো বিচার ছাড়াই উনার মেইড সার্ভেন্ট সাজা খাটছেন! মানবাধিকার সংস্থাগুলো কথায় কথায় সোচ্চার। তারা তো এই বিষয় নিয়ে কিছুই বলছে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সব সময় মানুষের ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার আশা করে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে তো সবসময় চাই, আশাও করি যে মানুষ ভোট দেবে। আর এত উন্নয়নের পরও যদি মানুষ ভোট না দেয়, তাহলে তো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। এর আগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমরা যে উন্নয়ন করেছি, আমরা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন মানুষ যদি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়, তাহলে নিশ্চয় তারা আওয়ামী লীগে ভোট দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যদি মনে করে যে উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে, তাহলে তারা আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। আমরা যে উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের এই উন্নয়ন কেবল আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই সম্ভব, অন্য কেউ এই উন্নয়ন করতে পারবে না। এর আগে তো জিয়া ক্ষমতায় ছিল, এরশাদ ক্ষমতায় ছিল, তারা তো কোনো উন্নতি করতে পারেনি। শেখ হাসিনা আরো বলেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আমরা শুরু করেছি। আমরা অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র ৯ বছরে যে উন্নয়ন কাজ আমরা করেছি, তার জন্য একটু শোকর করেন, একটু ধন্যবাদ দেন। আমরা যেন ভোট পাই, সেটাও একটু দেখেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সব ডাটা আছে: কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিল, তাদের সব ডাটা ও ছবি সরকারের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিল তাদের সব ডাটা তো আছে, ছবি আছে। তারা যদি পরে চাকরি না পেয়ে জেলা কোটার জন্য কান্নাকাটি করে তাতে আমার কিছু করার থাকবে না। কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীরা কোটা চায় না বলেই সেটি বাতিল করে দিয়েছি। এখানে ক্ষোভের তো কোনো কারণ নেই। ছাত্রদের দাবি ছিল কোটা চায় না। তাই আমরা বাতিল করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, কোটা থাকবে কি থাকবে না সেটি ছাত্রদের বিষয় না। এটি সরকারের নীতি নির্ধারণের বিষয়। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে গেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করে তারা তো নামকাওয়াস্তে খরচ দিয়ে পড়ে। বলতে গেলে বিনাপয়সায় সবাই পড়ালেখা করছে। তারপরও যেহেতু এত দাবি করছে, তাই আমি দাবি মেনে নিয়েছি। এটা নিয়ে এত কথার কী আছে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের সময় তো আপনাদের কাউকে দেখিনি- ছাত্রদের থামাতে এগিয়ে যেতে। আন্দোলনে কারা জড়ো হচ্ছে কই সেই বিষয়ে তো কেউ কথা বলেননি। শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা হলেও ৭৫ পরবর্তী কতজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারি চাকরি পেয়েছে? তখন তো জিয়াউর রহমানের সরকারের ভয়ে কেউ মুক্তিযোদ্ধা কথাটি লিখত না। কারণ তখন তো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নয় স্বাধীনতাবিরোধীদের সরকার ক্ষমতায় ছিল।
তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে
একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়ে বৃটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো আমরা। লন্ডনে অবস্থানরত তারেকের বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে দেয়া এবং তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক দেশ থেকে এ ধরনের আসামি নিয়ে আসি। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়েও আমরা বৃটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই আমরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। তারপর একটি ট্রাবল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এবং সেটিতে লেখা থাকে পাসপোর্ট জমা দেয়া লোককে কখনো নিজের দেশে ফিরতে হবে না। আর যদি সে নিজ দেশে ফিরে আসতে চায় তাহলে তার আর রাজনৈতিক আশ্রয় থাকবে না। তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করলো। বিএনপি নাকি সবচেয়ে বড়, জনপ্রিয় দল, তাদের দলে কি একজন যোগ্য লোকও নেই? এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করে? এ ধরনের রাজনৈতিক দেউলিয়া দল আর নেই।

পথচারীদেরও সড়কের নিয়ম মানতে হবে
এদিকে দুর্ঘটনা এড়াতে পথচারীদেরও সড়কের নিয়মগুলো মানার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনার পেছনে চালকের পাশাপাশি চলাচলকারী ও যাত্রীদের নিয়ম না মানার বিষয়টি সামনে আনেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ঢাকায় ট্রাফিক আইন না মেনে পথচারীদের পারাপারের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমার এই কথাগুলো অনেকে পছন্দ করবেন না, কিন্তু যা বাস্তব, তাই বলছি। রাস্তায় চলার নিয়ম আছে, সেটা আমরা কতটা মানি? একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে, আমরা হাত একটা তুলে রাস্তায় নেমে গেলাম, যারা পথচারী, তাদেরও কিছু রুলস জানা দরকার, মানা দরকার। শেখ হাসিনা বলেন, আপনি বাসে চড়ে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বাইর করে যাবেন? আপনারা (সাংবাদিক) যার হাত গেল, তার জন্য কান্নাকাটি করছেন, কিন্তু সে যে নিয়ম মানছে না, সে কথা তো বলছেন না। মোটর সাইকেলে এবং সিটবেল্ট না বেঁধে গাড়িতে চড়াও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক পারাপারে পথচারীদের আইন মানার ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরিতে বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোকেও প্রচার চালানোর আহ্বান জানান তিনি। যারা পথে পারাপার হয়, তারাও নিয়ম মানে কী না, সেদিকে আপনারা একটু দেখেন। সড়ক দুর্ঘটনা হলেই আইন হাতে নিয়ে চালককে মারধর না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ছাত্রলীগে মেধাবী নেতৃত্ব বাছাইয়ে  সমঝোতা না হলে ভোট
ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলনে সমঝোতার মাধ্যমে উপযুক্ত মেধাবী ছাত্র নেতৃত্ব নিয়ে আসা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, সমঝোতা না হলে প্রয়োজনে ভোটের মাধ্যমে এই নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কে কে প্রার্থী তাদের তালিকা নেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি আছে। তালিকায় আসা আগ্রহীদের ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সমঝোতা হলে এই কমিটির প্রেস রিলিজ দেয়া হবে। এতে সফল না হলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোট হবে। তবে ভোটের মাধ্যমে হওয়ারও একটা ঝামেলা আছে। তারা ইয়াং ছেলেপুলে, ভোটের মধ্যে অনেক কিছুই হতে পারে। তারা প্রভাবিত হতে পারে। তবে আমরা দেখবো ভোটের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব এসেছে কিনা। না এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা জানেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে একটা উপযুক্ত বয়সসীমা রয়েছে, তাদের ছাত্র হতে হবে। এদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবী নেতৃত্ব নিয়ে আসতে হয় সমঝোতা, না হয় ভোট হবে। ভোটের আবার ভালো দিকও আছে, মন্দ দিকও আছে।

রোহিঙ্গা প্রশ্নে বিশ্বের সমর্থন পেয়েছি
রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ব সমপ্রদায়ের সমর্থন বাংলাদেশের পক্ষে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে কমনওয়েলথ সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ?গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই সফরকে আমার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করি। সফরে নরেন্দ্র মোদি, জাস্টিন ট্রুডোসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এই সফরগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে বলে আমি মনে করি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আমাদের দেশে এসেছেন, তাদের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক, তারাও চান মিয়ানমার থেকে যে ১১ লাখ মানুষ এসেছে, তারা সেখানে ফিরে যাক। বাংলাদেশ যে এতগুলো মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে, তারা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আমরা আশা করছি, তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গ্লোবাল সামিট-২০১৮-তে আমি অংশ নিই। এতে সমুদ্র গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ সরকারের সামপ্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের প্রশংসা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে  প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও দরকার। আইন অনুযায়ী যাতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় চলে, সেদিকে আমাদের নজর সব সময় ছিল, আছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি কমানোর জন্য ইউজিসিকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।

এই পুরস্কার গোটা নারী সমাজের
‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে গ্লোবাল উইমেন’স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ ভূষিত করা হয়েছে, তা তার একার নয়, গোটা নারী সমাজের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পুরস্কার আমার একার নয়, এই পুরস্কার গোটা নারী সমাজের। সে কারণেই এই পুরস্কার আমি সারাবিশ্বের নারী সমাজকে উৎসর্গ করেছি। সংবাদ সম্মেলনে নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকিছু আইন করে করা যায় না। অনুশীলনের মাধ্যমে, চর্চার মাধ্যমে অর্জন করে নিতে হয়। দৃষ্টিভঙ্গির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমাদের সমাজ এক সময় অত্যন্ত রক্ষণশীল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমবার যখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন করে দিলাম, সেই নির্বাচনে নারীদের অংশ নেয়া বা না নেয়া নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ছিল। জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক রাজনৈতিক দল এর প্রতিবাদ করেছে। অথচ ওই নির্বাচনে ১২ হাজার পদের বিপরীতে ৪৫ হাজার নারী অংশ নিয়েছিলেন। যারা এক সময় নারীদের সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের প্রতিবাদ করেছিলেন, তারাই আবার রাতের অন্ধকারে এই নারীদের পক্ষেই প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোট চাইলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো পরিবর্তনই একবারে আসে না। আমরা যখন মেয়েদের খেলাধুলা নিয়ে উদ্যোগ নিলাম, তা নিয়েও অনেক কথা হয়েছে। রাজশাহীতে তো ফুটবল টুর্নামেন্ট হতেই পারলো না। এই ধরনের মানসিকতা এক সময় মানুষের ছিল। সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসার জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। জাতির জনক বলতেন, নারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। তাহলেই তারা সব ক্ষেত্রে কথা বলার সুযোগ পাবে। আমরা সেই চেষ্টা করেছি। বয়স্ক ভাতা চালু করেছি, বিধবা ভাতা চালু করেছি, স্বামী পরিত্যক্তাদের জন্য ভাতা চালু করেছি। এক সময় জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ১৫টি আসন সংরক্ষিত ছিল, এখন রয়েছে ৫০টি। এর বাইরেও কিন্তু সরাসরি নির্বাচনে ২২ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমাদের রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত কথা হলো- কেবল আইন করে সবকিছু হয় না। অনুশীলনের মধ্য দিয়ে, কাজের মধ্য দিয়ে নারীদের ক্ষমতায়ন বাস্তবায়ন করতে হবে। মনের জোর, আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো কিছুই অর্জন করা যেতে পারে। আমি যখন রাজনীতি শুরু করি, তখন অনেকেই বলেছে, কোনো নারী সরকারপ্রধান হতে পারবে না। কিন্তু সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন নারী নেতৃত্ব সবাই মেনে নিয়েছেন।

শেয়ার করুন