বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের যতো অজানা কথা!

119

অনলাইন ডেস্ক : দেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ বৃহস্পতিবার রাতে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছে। প্রায় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্যাটেলাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইটটি সম্পর্কে নানা অজানা তথ্য তুলে ধরেছে। চলুন জেনে নেয়া যাক এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

১. মহাকাশে প্রায় অর্ধশতাধিক দেশের দুই সহস্রাধিক স্যাটেলাইট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আবহাওয়া থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষক এবং ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট রয়েছে। তবে বিএস-ওয়ান হচ্ছে যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।

২. টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এর সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। এছাড়া যেসব জায়গায় অপটিক কেবল বা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি, সেসব জায়গায় এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত হবে ইন্টারনেট সংযোগ।

৩. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান ১১৯.১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথে। এর ফুটপ্রিন্ট বা কভারেজ হবে ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। শক্তিশালী কেইউ ও সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত দেশসমূহ এবং ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়াকে ভালোভাবে কাভার করবে।

৪. রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট কেনা হয়েছে। তবে বিএস ওয়ানের স্থায়িত্ব হতে পারে ১৮ বছর পর্যন্ত।

৫. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির ডিজাইন এবং তৈরি করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। আর ৩.৭ টন ওজনের স্যাটেলাইটটিকে মহাকাশে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে।

৬. বিএস-ওয়ান স্যাটেলাইটটি নির্মাণে শুরুতে বাজেট ধরা হয় ২ হাজার ৯৬৭.৯৫ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকায় এর পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাকি টুকু হয়েছে বিদেশি অর্থায়নে।

৭. আর্থ স্টেশন থেকে ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্যাটেলাইটটির কক্ষপথে যেতে সময় লাগবে ৮ থেকে ১১ দিন। আর পুরোপুরি কাজের জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগবে ৩ মাস।

৮. মহাকাশে সফলভাবে স্থাপিত হওয়ার প্রথম ৩ বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় স্যাটেলাইটটির রক্ষণাবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ। পরে পুরোপুরি বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের হাতেই গাজীপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়া আর্থ স্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে এটি।

শেয়ার করুন