বাংলাদেশের কৃষি খাতে বিনিয়োগ করবে কানাডা

18

বিশেষ সংবাদদাতা: কৃষি গবেষণা প্রশিক্ষণে টেকনিক্যাল সহায়তাসহ বাংলাদেশের কৃষি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়া প্রিফনটেইন বলেছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন লক্ষণীয়। চলতি বছরে আমরা খাদ্য নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রাধান্য পাবে। আমরা বাংলাদেশকে কৃষি গবেষণা প্রশিক্ষণসহ টেকনিক্যাল সহায়তা করব। শস্যের বৈচিত্র্যায়ন ও নতুন জাত উদ্ভাবনে আমরা যৌথভাবে কাজ করব।
গত রোববার সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আবদুর রাজ্জাকের সাথে বৈঠকে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত। এ সময় তার সাথে ছিলেন কানাডার গেøাবালবিষয়ক উপপরিচালক মার্ক স্ট্রেজার, হাইকমিশনের ট্রেড কমিশনার কামাল উদ্দিন, কানাডিয়ান কর্মাশিয়াল করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস পল মারকট প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, কানাডা এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়। স্বাধীন হওয়ার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় দেশটি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করছে কানাডা। কানাডার বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা যেকোনো দেশের ব্যবসায়ী সমাজের মতামতকে গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের কোনো কোনো খাতে কানাডা বিনিয়োগ করতে পারে তা জানতে চান রাষ্ট্রদূত।
কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষিজাত সেক্টরের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়, কৃষির উপখাতেও ভালো অগ্রগতি হয়েছে। দেশের পোলট্রি শিল্প এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফসল, সবজি ফলসহ পোলট্রি ও ডেইরি ফার্মেও উৎপাদন ভালো। সবক্ষেত্রে উৎপাদন ভালো হলেও উৎপাদনকারীরা তেমন লাভবান হচ্ছেন না। উৎপাদন খরচ ও বিক্রির মধ্যে তেমন তারতম্য নেই। অনেক সময় উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রি কমদামে করতে বাধ্য হন উৎপাদনকারীরা। তিনি বলেন, খাদ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের যথাযথ বিকাশ হলে কৃষি সেক্টর লাভবান হবে। সেই সাথে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের নতুন ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগে কানাডার সহযোগিতা চাই। এ ছাড়া আমাদের কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক ও টেকনিশিয়ানদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে এ সেক্টর আরো লাভবান হবে, যা জাতীয় অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করবে।
কৃষিমন্ত্রী কানাডার রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের বলেন, বাংলাদেশে শিল্প স্থাপনে এখন আর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কোনো সমস্যা নেই। দেশে বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ বিদ্যমান, এ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ। মন্ত্রী এসব বক্তব্য দেয়ার পর বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা জানান কানাডার রাষ্ট্রদূত।
কানাডিয়ান কর্মাশিয়াল করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস পল মারকট বলেন, কানাডা নবায়ণযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ুজনিত সমস্যা মোকাবেলায় বিনিয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশে সোলার প্যানেলের ওপর শিল্প করার পাশাপশি কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাত, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও রফতানিতে বাংলাদেশের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে কাজ করার আগ্রহের কথাও বলেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কানাডার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন