ভ্যাট আদায়ে হোটেলের সামনে ময়লার স্তূপ

21

অনলাইন ডেস্ক : কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেলজোনের চারটি হোটেলের সামনে গারবেজ-ট্রাক থেকে ময়লা ফেলেছে পৌরসভা। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে কলাতলীর হোটেল জামাল, সি-ওয়েভ, কক্স ভ্যালি ও সি-পয়েন্ট রিসোর্টের সামনে ময়লার স্তূপ জমা করতে দেখা যায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। ভ্যাট বকেয়া থাকায় পৌর ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর নির্দেশে ময়লাগুলো ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিচ্ছন্নকর্মীরা।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বলেন, বারবার তাগাদা দেয়ার পরও কিছু হোটেল, মোটেল ও কটেজ থেকে ভ্যাট আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। এতে যেন ভ্যাট বকেয়া থাকা প্রভাবশালীরা কিছুটা হলেও লজ্জিত হন এবং বিবেকের দংশনে ভ্যাট দেন।

হোটেল জামালের ম্যানেজার শাহনিয়াজ জানান, আকস্মিক পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত একটি ডামপার এসে হোটেলের একদম সম্মুখেই ময়লাগুলো ফেলে। এতে মুহূর্তের মধ্যে দুর্গন্ধে সয়লাব হয়ে যায় পুরো এলাকা।
ময়লা ফেলার ফলে হোটেলের পথও বন্ধ হয়ে যায়। এতে আটকা পড়ে যায় হোটেলের গেস্টরা।

একইভাবে সি-ওয়েভ, কক্স ভেলি, সি-পয়েন্ট রিসোর্টেও এভাবে ডামপার দিয়ে ময়লা ফেলা হয়। এতে হোটেল ও রিসোর্টগুলো কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হোটেল জামালের ম্যানেজার শাহনিয়াজ বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাছে এভাবে ময়লা ফেলার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান- ভ্যাট বকেয়া থাকায় এসব হোটেল ও রিসোর্টের সামনে ময়লা ফেলার জন্য পৌর ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশেই ময়লা ফেলা হয়েছে।

হোটেল ও রিসোর্টগুলোর কর্তৃপক্ষ বলছেন, ভ্যাট বকেয়া থাকলে নোটিশ করতে হবে। তাতে না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ ভ্যাট আদায়ের আরো মাধ্যম রয়েছে। কিন্তু ভ্যাট আদায়ে এই রকম জঘন্য কাজ করা চরম অন্যায়।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর চৌধুরীর বলেন, কয়েক দফা নোটিশ দেয়ার পরও অনেক হোটেল ও রিসোর্ট ভ্যাট দেয়নি। এতে পৌরসভা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

তিনি বলেন, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতায় প্রকল্প পাওয়ার জন্য ৮৫ভাগ ভ্যাট আদায় দেখাতে হয়। কিন্তু কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত ৩৪ ভাগ ভ্যাট আদায় করা সম্ভব হয়েছে। ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ায় আমরা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই বাধ্য হয়ে ময়লা ফেলে অভিনব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করি এতে তাদের বোধোদয় হবে।

এদিকে ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লাগুলো আবার সরিয়ে নিয়েছেন। পৌর কমিশনার হেলাল উদ্দীন কবির নিজে উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে ময়লাগুলো অপসারণ করান।

শেয়ার করুন