আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ ও তার পরিবার

156

বাংলা কাগজ, মন্ট্রিয়ল: কানাডা আওয়ামী লীগের একাংশের ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ পরিবার নিয়ে জীবননাশের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কানাডার মত সভ্য দেশে কেন এমন ভয়ে থাকতে হচ্ছে চার সন্তানসহ স্ত্রীকে নিয়ে সেই কথাগুলোই তিনি বলতে চেয়েছেন গণমাধ্যমের কাছে। লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ বলেন,  গত ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ তে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সম্মেলনে যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্টে আসেন এবং নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করেন। মাননীয় নেত্রীর আগমণ উপলক্ষে উনার সাথে দেখা করার জন্য আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যুইবেক কানাডা শাখার সভাপতি মুন্সী বশীর, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী সুইট, সহ সভাপতি আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিন মিয়া ও সাংবাদিক শরীফ ইকবাল চৌধুরীর সাথে একই গাড়িতে ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার মন্ট্রিয়ল থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছাই।
নিউইয়র্কে আমি ক্যুইবেক আওয়ামী লীগ এর নেতৃবৃন্দের সাথে বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলে রাত্রি যাপন করি। ১৮ই সেপ্টেম্বর সোমবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টায় নেত্রীর সাথে দেখা করতে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে অবস্থান করি। তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে আগত প্রায় পাঁচ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী লবিতে অবস্থান করছিলেন। রাত ৯টার পর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ হোটেল লবিতে আসলে ক্যুইবেক আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী সুইট উনার সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং আমাকে আমার মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে অনুরোধ করেন (ছবিটি আমার ফোনে সংরক্ষিত রয়েছে)। হঠাৎ করে কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মাহমুদ মিয়া ক্যুইবেক আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী সুইটকে সজোরে ধাক্কা দেন। তখন গোলাম মাহমুদ মিয়া আমাকে ছবি তোলা দেখে অগ্নিমূর্তি চেহারা নিয়ে তেড়ে আসেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় মা-বাপ তুলে গালিগালাজসহ আমাকে তিনি জামাত-শিবির ও বিএনপি’র বাচ্চা এবং পাকিস্তানী রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেন। গলা চড়িয়ে উচ্চস্বরে আমাকে তেড়ে এসে বলেন, ‘তুই পাকিস্তানী রাজাকারের বাচ্চা কেন এখানে এসেছিস?’  তাৎক্ষণিক এই ঘটনায় আমি হতবিহব্বল হয়ে পড়ি এবং উনাকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করি। আমি উনাকে অনুরোধ করি, উপরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আছেন, তাঁর এবং বাংলাদেশীদের সম্মানার্থে আপনি শান্ত হন। একথা শুনে তিনি উল্টো আরো ক্ষেপে গিয়ে চিৎকার করে আরো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আশেপাশের বিভিন্ন মানুষ তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও গোলাম মাহমুদ মিয়া সরাসরি তেড়ে এসে আমার শরীরে আঘাত করার চেষ্টা করলে মানুষজন তাকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে মানুষের জটলা থেকে আঙ্গুল তুলে হুমকি দেন, মন্ট্রিয়লে পৌঁছার আগেই আমার মানুষ তোকে তোর বউ-বাচ্চাসহ দুনিয়া থেকে শেষ করে দিবে। এ ঘটনার সময় আমার কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন আরো অনেকের সাথে মুন্সী বশীর ও আবুল কাশেম।
গোলাম মাহমুদ মিয়ার এই ভয়ংকর আচরণে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি এবং সাথে সাথে আমি মন্ট্রিয়লের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে দেই। গাড়িতে উঠার সাথে সাথেই আমি আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলি, নিজেদের দিকে খেয়াল রাখিও, গোলাম মাহমুদ মিয়ার দল আমাদেরকে মেরে ফেলতে পারে।  তারপর আমি মন্ট্রিয়ল এর উদ্দেশ্যে গাড়ি ড্রাইভ করছিলাম। আমি এমনই আতংকিত ও টেনশনে ছিলাম যে আমি মন্ট্রিয়ল না এসে বাফেলো চলে গিয়েছিলাম। প্রায় ১৬ ঘন্টা লেগেছে মন্ট্রিয়লে আসতে।
১৯শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আমি যখন মন্ট্রিয়লে চলে আসি তখন শুভাকাঙ্খিদের কাছ থেকে আমার ফোনে কল আসে এবং সবাই আমাকে নিরাপদে থাকার উপদেশ দেন। তারা আমাকে ফোনে বলেন গোলাম মাহমুদ মিয়ার অতীত ইতিহাস কলঙ্কিত ও ভয়ংকর। বিগত তিন দশক ধরে একে একে তিনি অনেক গুণীজনকে অপমান করেছেন ও গায়ে হাত তুলেছেন এবং অন্যান্য অপরাধের কারণে রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এর কাছে পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন।
২০শে সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে বাসায় ফিরে রাতের খাবারের পর আমার স্ত্রীর সাথে নিউইয়র্কের অঘটনগুলো নিয়ে আলোচনা করি। আলোচনার এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী বলেন গার্বেইজ ব্যাগ ফেলে আসার জন্য। ততক্ষণে ২১শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এর প্রথম প্রহর। গার্বেইজ ব্যাগ নিয়ে আমি বাইরে আসি। গার্বেইজ ব্যাগ নির্দিস্ট জায়গায় রাখার পূর্ব মূহূর্তেই হঠাৎ করে আমার বাসার সামনে একটি কালো রঙের গাড়ি হার্ড ব্রেক করে। মুহূর্তের মধ্যেই আমি দেখি গোলাম মাহমুদ মিয়া, তার ভাই গোলাম মোতাহির মিয়া ও জিয়াউল হক জিয়া মরণঘাতী অস্ত্র নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি সাহায্য চেয়ে ভয়ে চিৎকার দিয়ে হাতে থাকা গার্বেইজ ব্যাগ ফেলে দিয়ে বাসার দিকে দৌড়ে চলে যাই। আমার স্ত্রী তখন জানালা দিয়ে ঘটনাটি দেখছিল। আমার চিৎকারে আমার পাশের এপার্টমেন্টের প্রতিবেশী এপার্টমেন্টের বাহিরে চলে আসেন। আমার ভয়ার্ত এবং হতবিহ্বল চেহারা দেখে আমার প্রতিবেশীর পরামর্শে আমি সাথে সাথে ৯১১ এ কল দিয়ে পুলিশের সাহায্য চাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার বাসার চারিদিকে কয়েকটি পুলিশের গাড়ি চলে আসে। পুলিশ এসেই আমাকে সহযোগীতার আশ্বাস দেয় এবং ভয় না পাওয়ার জন্য বলে। কিন্তু আমরা সত্যি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমার স্ত্রী পুরো ঘটনায় খুব ভয় পেয়ে যান। বেশ কয়েক ঘন্টা সময় নিয়ে পুলিশ আমাদের কাছে পুরো ব্যাপারটি জানতে চাইলে আমরা পুলিশকে সমস্ত ঘটনা বলি। পুলিশ আমার পরিবারকে তাদের হেফাযতে সাথে সাথে নিয়ে যেতে চাইলেও যেহেতু আমার বাচ্চারা তখন ঘুমে তখন তাদেরকে আমি পরে যাবার কথা বললে, পুলিশ আমাকে বাসায় থাকতে বলে এবং একই সাথে আশ্বাস দেয় আমার পরিবারের নিরাপত্তা তারা দেখভাল করবে, আমরা যেন নিশ্চিন্তে থাকি। আমাদের মামলাটি পুলিশ প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।
পরে আমার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ তাদের হেফাযতে নিয়ে যায়। পুলিশ প্রশাসন আমার পরিবারকে যে পরিমাণ সহযোগিতা করেছেন তা ভুলার নয়। সেজন্য আমি আমার পরিবার খুবই কৃতজ্ঞ পুলিশ প্রশাসনের কাছে। পুলিশ প্রশাসন বিবাদীদের তাদের অধীনে নেওয়ার পরে আমার পরিবারকে বাসায় চলে যেতে সম্মতি দেন। পুলিশ প্রশাসনের সাথে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকলেও এখনো আমার পরিবার নিয়ে আমি আতঙ্কিত। আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আমার আত্মীয় স্বজনরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
কানাডার মত উন্নত ও মানবতাবাদী দেশে আমাকে এবং আমার পরিবারকে কেন এমন আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে? সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমার এবং আমার পরিবারের কিছু হলে গোলাম মাহমুদ মিয়া এবং তাঁর অনুসারীরা দায়ী থাকবেন।

গোয়েন্দা অফিসারের সাথে বাংলা কাগজ ও ভোরের আলো মন্ট্রিয়ল ব্যুরোর সাক্ষাৎ
বাংলা কাগজ, মন্ট্রিয়ল: মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহর লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে বাংলা কাগজ ও ভোরের আলো মন্ট্রিয়ল ব্যুরো প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নেয়।  ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য মামলার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে টরন্টো থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক দেশের আলো পত্রিকায় (২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, পৃষ্ঠা-৩৩) “রাখে আল্লাহ মারে কে? কানাডা আ’লীগ সভাপতির জন্মদিন পালনের রাত মিথ্যার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক সাক্ষী” শিরোনামে একটি সংবাদে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমাদের কাছে পাঠানো শরীফ উল্লাহর দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তির বক্তব্যের কোন মিল না থাকায় আমরা গোয়েন্দা পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্যে যোগাযোগ করি।
গত ৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪.৩৫ মিনিট থেকে ৪.৫০ মিনিট পর্যন্ত ৯৮০ গাই স্ট্রীটের অপারেশনাল সেন্টারে গোয়েন্দা অফিসারের সাথে সাক্ষাৎ করেন বাংলা কাগজ ও ভোরের আলোর দু’জন প্রতিনিধি।
পরিচয় পর্ব শেষে গোয়েন্দা অফিসার (S/D Forest) এর কাছে মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি আমাদের আইনানুযায়ী তথ্য দেন। তবে আরো তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত জানাতে বিরত থাকেন। তখন আমরা উনার হাতে থাকা বিশাল ফাইলে সাপ্তাহিক দেশের আলো’র ২৭ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত পত্রিকাটি দেখে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করি।  অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ বলে প্রকাশিত সংবাদের দৃষ্টি গোচর করলে তিনি বলেন, এটি কিছুতেই এখন পর্যন্ত খারিজ হয়নি। বরং এ বিষয়ে আরো উচ্চতর তদন্তের জন্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি ইতিমধ্যেই এই সংবাদের অনুবাদ পড়েছি। এ ব্যাপারেও আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।

শেয়ার করুন