জমজমাট আয়োজনে আনন্দ উচ্ছাসে ৬ষ্ঠ ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসব সম্পন্ন

31

মন্ট্রিয়ল: প্রতি বছরই ক্রীড়ামোদিরা অপোয় থাকেন ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসবের জন্য। ধারাবাহিকভাবে গত ৬ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসব। ৬ষ্ঠবারের মতো এবারের আয়োজনও ৪১৯ সেন্ট রকের জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এ ক্রীড়া উৎসব। ১৭ই ডিসেম্বর বৈরী আবহাওয়া থাকার পরও শত শত ক্রীড়ানুগীরা জমায়েত হন ভেন্যুতে। মিনি ক্রিকেট, দাবা, ব্যাডমিন্টন, ক্যারম, টেবিল টেনিসে অংশ নেন প্রতিযোগিরা। চরম উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিটি খেলায় উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে উৎসাহ দেন। প্রতিযোগিতার বাহিরেও শিশু-কিশোর ও বয়স্করা মেতে উঠেন যার যার প্রিয় খেলাধূলায়। অনেক বয়োবৃদ্ধ হারিয়ে যান তাদের শৈশবের দিনগুলোতে। আব্দুল কাদের চৌধুরী ক্যারম বোর্ড দেখে স্মৃতিচারণা করেন শৈশবের দিনগুলোতে। বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করা ক্রীড়া তারকারা মেতে উঠেন আড্ডায়। বয়স বাড়লেও প্রাণশক্তিতে ভরপুর তারা। আরাফাত চৌধুরী ৬ বছর হলো কানাডায়। দেশে খেলাধূলা করতেন। এখানে কোনদিন ব্যস্ততার কারণে খেলাধূলা আর করা হয়নি। ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসব খবর শুনে ছুটে আসেন। এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কখনো তিনি ক্রিকেট, কখনো ক্যারম, কখনো টেবিল টেনিস খেললেন। তিনি জানালেন আমার আজকের দিনটা স্বার্থক। আগামী বছরগুলোতেও তিনি আসবেন।
সাপ্তাহিক ভোরের আলো প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ব্যতিক্রমধর্মী বিভিন্ন আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। আয়োজন করে থাকে মন্ট্রিয়লের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট বাংলা মেলা, স্টুডেন্ট এওয়ার্ড এবং ক্রীড়া উৎসব। যা সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসনীয়। ভোরের আলোর প্রতিটি আয়োজনের সাথে নবীন প্রবীণের সেতুবন্ধন। তাই প্রাণবন্ত থাকে প্রতিটি আয়োজন। মানুষ প্রাণভরে উপভোগ করেন আয়োজনগুলো।
এবারের ক্রীড়া উৎসবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ছিলো ব্যাডমিন্টন এবং মিনি ক্রিকেট। মিনি ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন জালালাবাদ ক্রিকেট টিম এবং রানার্সআপ হয় বেঙ্গল টাইগার্স। টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হন কাজী আতিক আখি এবং রানার্সআপ হন এম ছাদেক এ চৌধুরী শিবলী। ক্যারমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন আরিফ মোল্লা এবং রানার্সআপ হন গাজী আহমদ। দ্বৈত ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন হন রুবেল-এহসান জুটি এবং রানার্সআপ হন জসিম বাবু-জাবেদ জুটি। দাবায় চ্যাম্পিয়ন হন কাজি মনিরুজ্জামান এবং রানার্সআপ হন গাজী আহমেদ।
৬ষ্ঠ ভোরের আলো ক্রীড়া উৎসব সফল করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন জসিম উদ্দিন বাবু, মুসা মোহাম্মদ, ফরহাদ টিটো, মাহমুদ হোসেন চৌধুরী কার্জন, সৈয়দ সাইফুল ইসলাম পিন্টু, মুন্সী বশীর, মমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাইদুর রহমান, এম ছাদেক এ চৌধুরী শিবলী, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, প্রকৌশলী এলেন হেলাল, আজহারুল ইসলাম ভ‚ইয়া, সুলতান আহমদ, মকসুম তরফদার, বরুণ বণিক, জাহাঙ্গীর আলম খান, শরীফ হোসেন চৌধুরী গ্রীণ, সৈয়দ আব্দুল মুয়ীজ উসমান, সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী সুইট, রনজিত মজুমদার, সোহেল চৌধুরী, এম এ হাই, করিম উল্লাহ, সমছ উদ্দীন, জয়দত্ত বড়–য়া, ওমর ফারুক, সাজেদা হোসেন, কাজী রমজান রতন, কাজী ওমর ফারুক, রনজয় বড়–য়া, জুবের আহমদ, তপু বড়–য়া, কবির খান, রাসেল মির্জা, মুরাদ হক, জয়নাল উদ্দিন, তোফায়েল আহমেদ আসলাম, ফেরদৌসি খানম, আজিজুল ইসলাম লিটন, পাপিয়া সমীর, দেলোয়ার হোসেন জনি, মারিফুর রহমান, আখলাকুর রহমান আলমগীর, মোঃ তোফাজ্জল হোসেন পরাগ, জামাল নাসের, নূরনবী রশিদ, এম জয়নাল আবেদীন জামিল, মুহিবুর রহমান বাবু, আঃ সবুর, সাধন দেব, বিধান দেব, শরীফ উল্লাহ, ওসমান হায়দার বাচ্চু, অনুপ কুমার চৌধুরী মিঠু, আঃ সালাম, সাইফুর রহমান সাগর, সৈয়দ মেহেদী রাসেল, সৈয়দ ইউসুফ তাকি, কাজী আতিক আঁখি, হুমায়ুন কবির রতন, মাহমুদুল হাসান রুবেল প্রমূখ। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সোনিয়া হাসান ও মকসুম তরফদার।

শেয়ার করুন