মন্ট্রিয়লে ঐতিহাসিক কানাডার ১৫০ বছর পূর্তি উৎসবের দায়িত্বে এনবিসিসি

29

১লা জুলাই কানাডা দিবস। এই দিবসটি এবার কিছুটা ভিন্নতা নিয়ে আসছে। কারণ এই বছর কানাডার জন্মদিন হবে ১৫০তম। তাই এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন চলছে। প্রিয় কানাডা এই দিনে লাল, সাদা পতাকায়, ম্যাপেল পাতায় আলোক সজ্জায় হয়ে উঠবে মুখরিত। কানাডিয়ান এবং ইমিগ্রান্ট কানাডিয়ানরা মহাসমারোহে এই দিনটি পালন করবে।
কানাডা সরকার বরাবরের মতো এবারো এমন গুরুদায়িত্বটি মাল্টিকালচারাল কমিউনিটির অন্যতম অভিজ্ঞ সংগঠন এনবিসিসিকেই নির্বাচিত করে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই থেকে এমন একটি ঐতিহাসিক উৎসবকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে স্থানীয় নাগরিক ও সংগঠনের সহায়তায় – ন্যাশন্যাল বাংলাদেশী-কানাডিয়ান কাউন্সিল (এনবিসিসি) উদ্যোগে মন্ট্রিয়লে ঐতিহাসিক ১৫০তম কানাডা ডে-২০১৭ পার্ক এক্স উদযাপনে ব্যাপক আয়োজনের সমাগম চালিয়ে যাচ্ছে।
এই দিনটি উদযাপনে আয়োজক কানাডার প্রথম সারির মেইন স্ট্রিম সংগঠন ন্যাশনাল বাংলাদেশী ক্যানাডিয়ান কাউন্সিল (এন.বি.সি.সি) স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে ১৩ বারের মত মন্ট্রিয়লের বাঙালি এবং মাল্টি কমিউনিটি অধ্যুষিত এলাকা পার্ক-এক্সে ১৫০তম কানাডা ডে-২০১৭ পার্ক-এক্স অনুষ্ঠানটিকে সার্থকভাবে উদযাপন করতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
আগামী ১লা জুলাই মন্ট্রিয়লের পার্ক এক্স-এর লবলজের বিশাল প্রান্তে-সকল বর্ণ এবং জাতির মিলন মেলার উৎসবে পরিণত হয়। কানাডিয়্যান এবং মাল্টিকালচারাল সঙ্গীতের তালে ফ্রি হালাল বার-বি-কিউ এবং ছোট এবং বড়দের নানা প্রতিযোগিতায় উৎসবস্থল হয়ে উঠবে আরো প্রাণবন্ত। পার্ক-এক্স মেট্রো সামনে ঐতিহাসিক সুবিশাল গ্যার জ্যা তালন পার্কে মন্ট্রিয়লের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু গণ্যমান্য ব্যাক্তি এবং মাল্টিকালচারাল নাগরিকদের পদচারণায় বিশেষ এই ঐতিহাসিক উৎসবটি যেন ভিন্ন মাত্রা পায় সেই দিকটি বিবেচনায় রেখে ন্যাশনাল বাংলাদেশী ক্যানাডিয়ান কাউন্সিল (এনবিসিসি) স্থানীয় নগর অধিদপ্তর এবং লোয়াজীর দ্যে পার্ক এবং অন্যান্য কমিউনিটি সংস্থার বিশেষ সহযোগিতায় কর্মযজ্ঞ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ছোট মণি ও কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় কানাডার জাতীয় সংগীত লাইভ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই দিনের অনুষ্ঠানের শুরু হবে। এরপর অনুষ্ঠানমালার এক পর্বে  ছোট মণিদের  সাথে নিয়ে পার্ক এক্স কানাডা ডে’র ব্যবস্থাপক মনির হোসেন বাবলু স্থানীয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে প্রথমবারের মতো ছয় ফুট দীর্ঘ সুদৃশ্য বিশাল কানাডা ডে কেক কেটে উৎসবের সূচনা করবেন।
একদিকে গানের মূর্ছনা আন্যদিকে হটডগের দীর্ঘ লাইন এবং ছোট ছেলেমেয়েদের উপস্থিতিতে চারিদিকে বিশাল আকারের কানাডার পতাকা এবং ছোট বড় সকলের হাতেই লাল ম্যাপেল পাতার পতাকার বাণী, ছোটদের হাতে লাল সাদা বেলুন আর গালে ম্যাপেল লিফের টাট্টু সত্যিকার অর্থেই পার্ক-এক্সকে করে তুলবে কানাডার একটি প্রকৃত অংশিদার। সবকিছু মিলিয়ে অপুর্ব একটি পরিবেশ তৈরী হবে।
ইতোমধ্যেই স্থানীয় নাগরিকগণ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পদস্থরা মন্তব্য করেন যে, এই ধরনের একটি পরিকল্পনা  নেয়ার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিটির সংগঠন এন.বি.সি.সির উদ্যোগকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান এবং আগামী আগস্ট মাসের ৫-৬ তারিখে এনবিসিসির তত্বাবধানে কানাডা কনফেডারেশনর ১৫০ তম ঐতিহাসিক দিবসটিকে একই স্থানে আরো বৃহৎ করে পালন করার জন্য সর্বাত্বক সহায়তা দেয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
উৎসবে ছোট ছেলে-মেয়েদের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাসহ বড়দের জন্য তরমুজ খাওয়ার এক বিশেষ প্রতিযোগিতারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবারের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ফায়র ওয়ার্ক (আতশবাজী)।
এছাড়া বাংলাদেশসহ বিভিন্ন কমিউনিটির ছেলে-মেয়েদের নিয়ে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বরাবরের মতো এবারের ‘কানাডা ডে’ তে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হবে এবং অংশগ্রহণকারী পিতা-মাতাদের মধ্য থেকে একটি পরিবারকে লটারির মধ্যেমে ‘কানাডা ডে পেরেন্ট’ পুরস্কার  প্রদান করা হবে। কানাডা ডে চিত্রাঙ্কণ এবং কুইজ প্রতিযোগিতার জন্য (রং পেন্সিল)সহ অবশ্যই ছোটদের সঙ্গে নিয়ে আসবেন। প্রতিযোগিতায নাম নিবন্ধন এবং অন্যান্য বিষয়ে অনুসন্ধানে যোগাযোগের জন্য ফোন করুন (৪৩৮) ৯২২-৯২৫০ এবং (৫১৪) ২৭৯ ৩২৪৯ অথবা ফেইসবুক পেইজ www.facebook.com/canadadaypex  ইমেইল 150parcex@gmail.com  ইন্সটাগ্রাম; canadadaypex
এনবিসিসির সভাপতি এবং ১৫০ কানাডা ডে-২০১৭ পার্ক-এক্স উৎসব এর কো-অর্ডিনেটর মনির হোসেন সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এইদিনটি নিজেদের পরিবার এবং সন্তানদের নিয়ে ব্যাপকভাবে পালনের আশা প্রকাশ করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি সকল বাংলাদেশী মন্ট্রিয়লবাসীদের অনুরোধ করে বলেন, আসুন আমারা নিজদের পিছনে না লেগে অযথা ভিনদেশীদের সাথে মিলে নিজ দেশ ও জাতির বিরুব্ধে কাটাকাটি না করে সামনে কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে কাজ করি। কোন সংগঠন বা কারা করছে তা না ভেবে আসুন আমরা ভাবী বাংলাদেশী হিসেবে সকলেই আমারা একসাথেই সকল কর্মকান্ড উদযাপিত করছি। কোন সংগঠনকেই যেন আমরা ছোট করে না দেখি এবং কুচক্রবাজদের সাথে মিলে বাঁধার সৃষ্টি না করি। মনে রাখবেন সকল সংগঠনগুলিই কোন না কোন ভাবে আপনার এবং আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে  এবং এই সকল সংগঠনগুলির মধ্যে যাদের কর্মকান্ড আপনার কাছে উপযুক্ত মনে হবে তাদেরকে সহযোগিতা দিয়ে উৎসাহ প্রদান করাও জাতি হসেবে আপনার দায়িত্ব।

শেয়ার করুন