মন্ট্রিয়লে প্রদর্শিত হলো নাটক ‘ইতিহাসের কৃষ্ণপক্ষ’

10

বাংলা কাগজ, মন্ট্রিয়ল:  গত ২৭ শে আগস্ট রবিবার বিকেল ৫টায় ৬৭৬৭ কোর্ট-দ্য-নেইজ লাইব্রেরী মিলনায়তনের ৬০২ (৬ষ্ঠ তলা) নং কক্ষে বাঙালি সাংস্কৃতিক জোট কানাডা শাখার  আয়োজনে প্রদর্শিত হলো বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ড নিয়ে কাহিনি চিত্র ‘মহামানবের দেশে’ অবলম্বনে ‘ইতিহাসের কৃষ্ণপক্ষ’।  এছাড়া বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সকলে। এরপরেই শুরু হয় আলোচনা সভা।
বাঙালি সাংস্কৃতিক জোট কানাডা শাখার সভাপতিত্বে জয়দত্ত বড়ুয়া এবং গীতিকবি ও সংগঠনের  সাধারণ সম্পাদক সহিদ রাহমান এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন – জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোট নেতা মাশরেকুল আলম খান, অধ্যাপক বিদ্যুৎ ভৌমিক, মুক্তিযোদ্ধা আ. স. ম. ইসমাইল, কাজী আশরাফ সাজু, লেখক আব্দুল হাসিব, কানাডা জাসদ সভাপতি আবু বক্কর ফিরোজ, মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক হাওলাদার, কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক দিদার মাহমুদ ভুইয়া, কানাডা যুবলীগের সভাপতি বরুণ বণিক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এর অন্যতম সভাপতি সুনীল গোমেজ ও সাধারণ সম্পাদক সরোজ কুমার দাস, মুক্তিযোদ্ধা বশীর আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা এড. আলী আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা বিম্লেন্দু রায়, সাবেক ছাত্রনেতা বেলায়েত হোসেন, শেখ কামালের ঘনিষ্ট বন্ধু মনিরুজ্জামান মনি, খন্দকার মতালেব, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভুইয়া, মুক্তিযোদ্ধা সুবোদ পাল, রিংকন বড়ুয়া, গোপাল দা, মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বনাথ ঘোষ, ক্যথলিক এসোসিয়েশন এর নেতা অনীল গোমেজ, মুক্তিযোদ্ধা হাজী শামসুল হক, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুর রব, অলক চক্রবর্তী, সৈয়দা তাইয়ামুন হোসেন, জাসদ নেতা এনামুল হক, নুরুজ্জামান দুলাল, প্রকাশক শামীম ওয়াহিদ, সৈয়দ ফারুক আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ উল্লাহ, ছাত্রনেতা সৈয়দ মেহেদী রাসেল প্রমুখ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, বাঙালি জাতির জীবনে সর্বাঙ্গীনভাবে একটি কালো দিবস। এই কালো দিনটিতেই জাতি হারিয়েছে তার গর্ব, দেশের স্রষ্টা, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, ইতিহাসের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক ও তার পরিবারশ্রেণৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে রচিত হয় এক কলঙ্কিত ইতিহাস। যেদিন রাতে তিনি নিহত হয়েছিলেন ঠিক সেদিন সকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে হারানো ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। এ উপলক্ষে সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবর্ধনা নিতে আসার কথাও ছিল। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে প্রতিবছর ১৫ আগস্ট বাঙালির হৃদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে ফিরে আসে। এই সত্য ঘটনা অবলম্বনে নাট্যকার ও গীতিকবি সহিদ রাহমান রচনা করেছেন কাহিনি চিত্র ‘মহামানবের দেশে’। কাহিনি চিত্রটি রচনা প্রসঙ্গে নাট্যকার সহিদ রাহমান বলেন, প্রতিটি বাঙালি বঙ্গবন্ধুর অবদানের প্রতি ঋণী। সেই ঋণ তো কোনদিন শোধ করার মত নয়, তবুও তার আদর্শ কতো তীব্রভাবে একদম সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেশের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়েছিল তা দেখানোর চেষ্টা করেছি। এটা বঙ্গবন্ধুর প্রতি ঋণ শোধের অতি ক্ষুদ্রতম প্রয়াস আমার পক্ষ থেকে। কাহিনি চিত্রটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন মান্নান হীরা। এতে অভিনয় করেছেন দেশের প্রখ্যাত দুই অভিনেতা তারিক আনাম খান ও ফজলুর রহমান বাবু। প্রধান নারী চরিত্রে রয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী শর্মিমালা। এছাড়া অভিনয় করেছেন মঞ্চের দাপুটে অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী।

শেয়ার করুন