‘খালেদা জিয়ার ঘাড়ে ও হাড়ে সমস্যা আছে’

42

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘাড় এবং হাড়ে সমস্যা রয়েছে। রক্তে কোনো সংক্রমণ বা সমস্যা নেই। তার অবস্থা স্থিতিশীল। যে ওষুধপত্র চলছে, তাই চলবে। এর সঙ্গে কিছু ফিজিওথেরাপি করতে হবে। চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার রক্ত পরীক্ষা ও এক্স-রে’র রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। ওনার এক্স-রে রিপোর্টগুলোতে দেখা যাচ্ছে ঘাড়ে ও কোমরের হাড়ে কিছুটা সমস্যা আছে। রক্তের রিপোর্টগুলো খুবই ভালো আছে, একদম নরমাল। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া আগে থেকে হাড়ের কিছু রোগে ভুগছিলেন। তার দুটো হাঁটুই প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। সেই জায়গাতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এটা উদ্বেগের মতো কিছু নয়। বয়সের কারণে ওনার এই অসুস্থতা। প্রায় দু’মাস আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসায় গঠিত এই মেডিকেল বোর্ডের অপর সদস্যরা হলেন- ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

তাদের পরামর্শে গত শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়ে খালেদার এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়। সেখানে আরো তিনজন চিকিৎসক তাকে দেখেন। তারা হলেন- তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মামুন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এফ.এম সিদ্দিকী ও নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুর রহমান।

গত সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছেছে। এর ভিত্তিতেগতকাল আলোচনায় বসেন মেডিকেল বোর্ড। চিকিৎসায় কী কী করণীয় সে প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করছেন বোর্ডের সদস্য চিকিৎসকরা।
তবে বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন। তাকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছে দলটি। উল্লেখ্য, গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর সাজা পেয়ে খালেদা জিয়া কারান্তরীণ। দুই মাসের মাথায় গত ৭ই এপ্রিল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কারাগারের বাইরে বিএসএমএমইউ’তে নেয়া হয়। তার এক্স-রে এবং রক্তের আলামত নিয়ে তাকে আবার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে পাঠানো হয়। গত সোমবার কারাগারে ওই মেডিকেল রিপোর্ট পৌঁছার পর গতকাল তা দেখে চিকিৎসকরা মতামত দেন।

শেয়ার করুন