নির্বাচন ইস্যুতে ভুল স্বীকার করে তার ব্যাখ্যা দিলেন মান্না

3

অনলাইন ডেস্ক : ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এতে আমাদের অবশ্যই কিছু আচরণ এবং উচ্চারণে ভুল ছিল। আমরা শীর্ষ নেতারা কেন মনে করলাম সামরিক বাহিনী মাঠে নামলে সব ঠিক হয়ে যাবে। সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ভোটের জন্য তৈরি করতে বলা হয়েছে, কিন্তু প্রতিরোধ করতে বলা হয়নি।

গতকাল দুপুরে সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত ‘৩০শে ডিসেম্বর এবং অতঃপর’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। মান্না বলেন, যদি শুধু আওয়ামী লীগ আর পুলিশ নির্বাচন করতে নামতো বিজিবি চুপচাপ থাকতো, সেনাবাহিনী না থাকতো আন্দোলনের আরেকটা ঢেউ তৈরি হতো। আর সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়তো সারা দেশে।
এই সরকারের কাছে দাবি করে হবে না, আদায় করে নিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি দলটির তৃণমূল নেতারা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে যে বক্তব্য দেন তার জবাবে মান্না বলেন, ঐক্যফ্রন্টে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যু এক নম্বরে আছে। তিনি বলেন, আজকে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়াকে লড়াই করেই মুক্ত করতে হবে।

এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সেই লড়াই কি আমরা করতে পেরেছি? সেই লড়াই কি কেবল খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াই? সেই লড়াই তো বাংলাদেশের মুক্তির লড়াই, গণতন্ত্রের মুক্তির লড়াই, এখন পর্যন্ত যে সকল নেতাকর্মী জেলে আছেন তাদের মুক্তির লড়াই। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, রাস্তায় গিয়ে পাঁচ-সাতজন মানুষ কথা বলতে পারি- সেই অবস্থা আজকের বাংলাদেশে নেই। এই যে বাস্তবতা, সেটা আমাদের প্রত্যেককেই বুঝতে হবে। আমরা আইয়ুবের শাসন দেখেছি, ইয়াহিয়ার শাসন দেখেছি, এরশাদের শাসন দেখেছি। ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে চারজন শহীদকে আমরা মনে রেখেছি। এই চারজন জীবন দিয়ে সারা পাকিস্তান তোলপাড় করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনে আমাদের স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই আন্দোলনে জীবন দিয়েছিলেন মাত্র চারজন। আইয়ুব খানের সময় রাজশাহীতে ড. জোহা, এরশাদের সময় জিপিও মোড়ে একটি মাত্র জীবন গিয়েছিল।

তিনি বলেন, যে বাস্তবতার কথা আমি বলছি সেটা হলো, বিগত ১০ বছরে বর্তমান স্বৈরশাসকের আমলে কত হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে? কাজেই আজকের সরকারের সঙ্গে পূর্ববর্তী শাসকদের যে একটি কোয়ালিটি ডিফারেন্স, গুণগত ব্যবধান আছে, সেটি আপনারা ভুলে যাবেন না। কাজেই ’৫২-এর আন্দোলন ও ’৬৯-এর আন্দোলনের সঙ্গে আজকের আন্দোলনের গুণগত ফারাক থাকতে হবে। যদি সেই ফারাক না থাকে, তাহলে এই আন্দোলন সফল হবে না। আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অব্যাহত দাবির প্রেক্ষিতে বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক বলেন, হুট করে রাস্তায় নেমে দুটো স্লোগান দিলাম, গুলি খেয়ে প্রাণ হারালাম। কারণ, এই সরকার আমাদের ছাড়বে না।

এই সরকারকে কাবু করতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। সরকারকে বিদায় দিতে হলে যে আন্দোলনের কথা আপনারা বলছেন- সেই আন্দোলন করতে হবে ঠাণ্ডা মাথায়। বাস্তবধর্মী পরিকল্পনার ভিত্তিতে। আজকে এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের ভ্যালুজ সিস্টেম হয়েছে বিত্ত, বৈভব, সম্পদ। এখানে মানবাধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই। এখানে দৈনন্দিন কার্যক্রম হচ্ছে খুন, রাহাজানি, নারী- এমনকি অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যাশিশুদের সম্ভ্রমহানি।

এই বাংলাদেশের জন্য কি তারা (মুক্তিযোদ্ধারা) জীবন দিয়েছিলেন? এ প্রশ্নের উত্তর আজ আওয়ামী লীগকে দিতে হবে। মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কেউ চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না, এ সরকারও পারবে না। পৃথিবীর ইতিহাস এটাই সাক্ষ্য দেয়। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন