শর্ত দিলে টেলি আলাপেও আপত্তি কাদেরের

218

অনলাইন ডেস্ক : অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ক্ষেত্রে বিএনপি কোনো ধরনের শর্ত দিতে চাইলে তাতে আপত্তি আছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। তিনি বলেছেন, ‘কন্ডিশনের প্রশ্ন এলে আমি ফোন দেবো না। কথা হতে পারে যেকোনো সময়, কোনো কন্ডিশন আমি মানবো না।’

রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের সম্ভাবনা আওয়ামী লীগ নাকচ করে এলেও ওবায়দুল কাদের গত শুক্রবার হঠাৎ করেই অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

তিনি সেদিন বলেন, আনুষ্ঠানিক সংলাপ না হলেও বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে টেলিফোনে কথা তো হতেই পারে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের তাতক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেদিন বলেছিলেন, ‘উনি যদি আমাদের ফোন করেন, আমরাও ফোন করব।’

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রোববার ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানেও তারা শর্ত জুড়ে দিচ্ছে, টেলিফোনে কথা বলবে সেক্রেটারি টু সেক্রেটারি, আমি কল করলে উনি ফিরতি কল করবেন- এটা কি প্রি-কন্ডিশন নয়? এ রকম কনভারসেশনে কি প্রি-কন্ডিশন আরোপ করা ?উচিত? এটা কোন ডেকোরাম?’

ফোন করলে বিএনপি মহাসচিব নিজের দলেই ‘তোপের মুখে পড়তে পারেন’- এমন সন্দেহ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি আমাকে কোনো দিন ফোন করেননি, আমি জানি তার অসুবিধা আছে। এমনকি অফিসের মধ্যেই একজন আরেকজনকে সরকারের দালাল বলে থাকেন। আমার কাছে ফোন করলে লন্ডনের তোপের মুখে পড়েন কিনা সেটাও একটা বিষয় আছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পার্সোনালি উনি সজ্জন মানুষ।

তবে এ আলোচনাটা টেলিফোনে হলেও দরকার আছে, হোক না এগুলো থেকে আস্তে আস্তে বরফ গলে যেতে পারে।’

এর মধ্যে বিএনপির মহাসচিবকে ফোন করেছেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি কল দিলে তিনি ফিরতি কল দেবেন, দিস ইজ এ কন্ডিশন, আই ডোন্ট একসেপ্ট ইট। টেলিফোন করলাম সেটাতেও যদি সীমাবদ্ধতা থাকে তাহলে রাজনীতির স্রোত তো থেমে যাবে।’

কাদের আবারও স্পষ্ট করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ হতে পারে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক সংলাপের কোনো সুযোগ নেই।

‘আমার মনে হয় একটা যোগাযোগ থাকতে পারে, অসুবিধা কী? তাহলে তো অনেক কঠিন সম্পর্কের বরফও গলতে পারে। যোগাযোগটা থাকা ভালো, ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ রাখলে বিটারনেসটা কমতে পারে।’
আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে আলোচনা- তা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলে, একজনের সঙ্গে হয়তো সৌজন্য সাক্ষাত করতে যাচ্ছি, এর সঙ্গে রাজনীতি নেই সেই কথা আমি বলব না। কিন্তু একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে।

যাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, তাদের আওয়ামী লীগের জোটে চান কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘আমরা চাইলে তো হবে না, তাদেরও তো চাইতে হবে। এই চাওয়াটা তো আমাদের ওপর নির্ভর করবে না।’

সেসব দলকে আওয়ামী লীগের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখনও না, প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের মনোভাব… কথাবার্তা বলেছি। এটা একেবারে ইনিশিয়াল স্টেজের বিষয়, এগুলো এখনও ফাইনাল কিছু হয়নি।’

কাদের বলেন, ‘যদি এটা কোনো মেরুকরণের দিকে আগায়, স্ট্র্যাটেজিক কোনো অ্যালায়েন্সের দিকে, সেটা তো আর গোপন থাকবে না। সেটার আনুষ্ঠানিকতা থাকবে, তখন তো আপনারা সবাই জানবেন। চাঁদ উঠলে আপনারা দেখবেন না?’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক আছে। উনি এক সময় এখানে কাজ করতেন। কনস্ট্রাকশনের কাজটাজ ছিল। এখানে উনার কিছু পাওনা আছে, এমন একটা কথা আমাদের বলেছেন। আমি বলেছি কাগজপত্রগুলো পিএসের কাছে দিতে, আমরা খতিয়ে দেখব।

সঙ্গে ফাঁকে ফাঁকে তো সব কথাই হয়েছে। রাজনীতির কথা তো হবেই। নাথিং ইজ ফাইনাল। কোনো সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছাইনি।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচন: সোমবার তিন সিটিতে ‘ভালো নির্বাচন হবে’- এমন আশা প্রকাশ করে কাদের বলেন, ‘ভালো ইলেকশন হবে কিন্তু বিএনপি যদি না জেতে তারা কখনো ভালো বলবে না। বিএনপি হেরে গেলে ‘মানি না মানব না’ আমি জানি না এ সংস্কৃতি থেকে তারা কবে বের হয়ে আসবে।’

কাদেরের ভাষায়, বিএনপির রাজনীতি এখন ‘রাজনৈতিক নালিশ ও প্রেস ব্রিফিংয়ে’ সীমাবদ্ধ।

“তারা আইন মানে না আদালত মানে না সালিশ মানে না হেরে গেলে নির্বাচন মানে না। মানি না মানবো না সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে যাওয়া দরকার। নির্বাচনে অনিয়ম হলে তা ধরিয়ে দিন। আগে ভাগে বলা শুরু করছে ‘কর্মী ও নেতা অ্যারেস্ট করছে’।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
‘আমরা যদি জিতি তাহলে ওয়েলকাম, হেরে গেলেও লজ্জা নাই। রাজনীতির জোয়ার-ভাটা আছে। আমাদের কি ভাটা আসতে পারে না? আমরাই জিতব এ অহংবোধ আমাদের মধ্যে নেই।’

শেয়ার করুন