আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট

10

অনলাইন ডেস্ক: দেশের ২১তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন মো. আবদুল হামিদ। গতকাল বুধবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা মো. আবদুল হামিদকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। আগামী ২৩শে এপ্রিল নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবদুল হামিদের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট গতকাল বিকালেই প্রকাশিত হয়। সন্ধ্যায় গেজেট নিয়ে সিইসি’র নেতৃত্বে অপর চার নির্বাচন কমিশনার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। আর কেউ ওই পদের নির্বাচনে আগ্রহী না হওয়ায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসাবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। তবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন কেবল আবদুল হামিদই। সংবিধানে সর্বোচ্চ দুইবার প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুযোগ থাকায় এটাই হবে তার শেষ মেয়াদ। এর আগে প্রথমবারে ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আবদুল হামিদ। আর এবার ২৩শে এপ্রিল তার শপথ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন সিইসি। উল্লেখ্য, গত ২৫শে জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। ৫ই ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন দাখিলের দিন একমাত্র আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। তফসিলে ১৮ই ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ রাখা হলেও তার প্রয়োজন আর হয়নি। গত ৩১শে জানুয়ারি (বুধবার) রাতে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে মো. আবদুল হামিদকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরপর ২রা ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র নেন মো. আবদুল হামিদ। তার পক্ষে সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ ওইদিন সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দ্বিতীয় মেয়াদেও দায়িত্ব পেলেন তিনি। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরার পর শুধু ১৯৯১ সালেই প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আবদুল হামিদের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১লা জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৬১ সালে কলেজের ছাত্র থাকাকালেই তিনি যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। এক পর্যায়ে তাকে কারাগারেও যেতে হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সবশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন। সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের ১৩ই জুলাই থেকে ২০০১ সালের ১০ই জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১-এর ২৮শে অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ। নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন তিনি।

শেয়ার করুন