আরাকান সড়কে কাঁদছে মানবতা

47

উখিয়া, কক্সবাজার: পেটে দানা পানি নেই। রাখাইনের দুর্গম ও বিস্তীর্ণ পথ পাড়ি দেয়ার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। বিশেষত নারী, শিশু ও বৃদ্ধ রোহিঙ্গারা। এরমধ্যে যারা আচমকা পরিবারের সক্ষম পুরুষ হারিয়েছেন তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়। সহায়-সম্বলহীন দুর্বল ওই মানুষগুলো এখন রাস্তায়। আরাকান সড়কই তাদের ঠিকানা। উখিয়া টু টেকনাফ। প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়কেই দিনরাত কাটাচ্ছেন তারা। রোদে পুড়ছেন, বৃষ্টিতে ভিজছেন। আরাকান সড়কে কাঁদছে বিপন্ন রোহিঙ্গারা। কাঁদছে মানবতা! কখনো যাত্রী ছাউনি, কখনো স্কুল- মাদরাসার বারান্দা আবার কখনো বন্ধ দোকানের সামনে একটু জিরিয়ে নেয়া। বাকিটা সময় ত্রাণের পেছনে ছুটাছুটি। রোদ কি বৃষ্টি- তাতে তাদের কিছু যায় আসে না? বৃৃষ্টি হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। রোদ-গরমেও ভ্যাঁপসা অবস্থা। কিন্তু তাতে কি? জীবন হাতে নিয়ে ফেরা এই মানুষগুলো যেকোনো মূল্যে বাঁচতে চায়। তারা মরতে চায় না। যদিও বর্মীদের আক্রমণে ক্ষত-বিক্ষত ওই মানুষগুলোর খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের অভাবে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার আশঙ্কা এরইমধ্যে ব্যক্ত করেছে দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আশ্রয়হীন এ মানুষদের পয়ঃনিষ্কাশনে জাতিসংঘের একটি সংস্থার উদ্যোগে সড়কের পাশেই আধাপাকা ল্যাট্রিন বসানো হয়েছে। মৃত্যুকূপ থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসা বিশেষ করে যারা এখনো খাবার, পানি ও মাথাগোঁজার ঠাঁই পায়নি, কাটিয়ে ওঠতে পারেনি স্বজন হারানোর মানসিক আঘাত, তাদের জীবনের ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। অবশ্য এ নিয়ে সরকারের পাশাপাশি তাদের উদ্যোগও রয়েছে। ঢাকাস্থ সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পায়ার্স বলেছেন, ক্ষুধার্ত, পরিশ্রান্ত এবং স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কাছে কোনো খাবার, এমন কি পানি পর্যন্ত নেই। এটি তাদের বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কিন্তু এসব পরিবারে খাবার, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তারা এখনো অনেকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি না হলে দুর্ভোগ আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এতে অনেকের প্রাণহানিও ঘটতে পারে।’ জাতিসংঘের হিসাবে রাখাইনে কঠোর সেনা অভিযানে গত ৩ সপ্তাহে প্রায় সাড়ে চার লাখ মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে পালিয়ে এসে জীবন রক্ষা করেছে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে নবাগত রোহিঙ্গাদের মূল স্রোতের মিলন ঘটেছে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে। ৩৩ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গার ওই ক্যাম্পের পাশেই বালুখালি এলাকায় গড়ে ওঠছে নবাগতদের আশ্রয়স্থল। সরকারি বরাদ্দ করা প্রায় দুই হাজার একর জমিতে নতুন নতুন তাঁবু টাঙ্গানো হচ্ছে। পাহাড়ের ঢালে, পুরনো বস্তির পাশে, যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিচ্ছে। স্থানীয় লোকজন এবং প্রশাসনের ভাষ্য মতে কুতুপালং ক্যাম্পের ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাতেই নতুন-পুরান মিলে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। সেখানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে রোহিঙ্গারা আবাস গড়ছেন। তবে প্রশাসন দিনে দিনে তৎপর হচ্ছে। স্থানীয় দালালদের ঠেকাতে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিপন্ন এসব মানুষের জন্য আসা দেশি-বিদেশি ত্রাণ ও সাহায্য সহায়তার সুষ্ঠু এবং সুষম ব্যবস্থাপনায় সেনাবাহিনীও নামানো হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। সরজমিন আরাকান সড়কে দিনের পর দিন অবস্থান করে সেভ দ্যা চিলড্রেনসহ আন্তর্র্জাতিক সংস্থার উদ্বেগের বিষয়টি আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। সেখানে দেখা যায়, কুতুপালং ও বালুখালি এলাকায় একের পর এক তাঁবু টাঙ্গানো বা আশ্রয় গড়ার কাজ চললেও কিছু নারী, শিশু ও বৃদ্ধের সেদিকে তেমন নজর নেই। তাদের সেই প্রস্তুতিও নেয়ার তাড়া নেই। কথা বলে জানা গেল তাদের সেই সুযোগ এবং সামর্থ্য না থাকার বিষয়টি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাস্তায় আশ্রয় নেয়া ওই লোকজনকে সরাতে প্রশাসনের তরফে বারবার মাইকিং করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পুলিশ দিয়ে তাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তারা সড়কেই থাকছেন। আরাকান সড়কই তাদের বাড়ি, তাদের ঘর। বিশেষ করে পরিবারের সক্ষম পুরুষ হারানো নারী, শিশু ও বৃদ্ধারা সড়কের মধ্যে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আরাকান সড়কের বালুখালি ঢালে সন্তানদের জন্য ত্রাণ নিতে ব্যস্ত এক রোহিঙ্গা নারী। সঙ্গে তার সন্তানরাও। যাকে কাছে পাচ্ছে তার কাছেই হাত পাচ্ছিলো। কিছু পেয়ে তারা গাছের নিচে খেতে বসলো। কথা হয় ওই নারীর সঙ্গে। জানান, তার নাম শায়ে জান। বয়স ২৮ কি ৩০। চার সন্তানের মা তিনি। তার স্বামী নূর কামালকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমার আর্মি। তিনি বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন আজও জানেন না মংডুর কেয়ারিপাড়া থেকে স্বজনদের সঙ্গে পালিয়ে আসা শায়ে জান। তার পাশেই বস্তা নিয়ে দাঁড়ানো মংডুর আতিপাড়া থেকে পালিয়ে আসা ছমেরা খাতুন। ৩ বছর বয়সী মেয়ে নূর কয়েদার মাথায় ফুসকা পড়েছে অনেক দিন ধরে। এরমধ্যেই তাকে নিয়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় আছেন তিনি একটু ত্রাণের আশায়। তার আরো ৩ সন্তান রয়েছে। তারাও ত্রাণ সংগ্রহ করছিল যে যার মতো। ছোট্ট নূর কয়েদার মাথায় ফসকুড়ি দেখিয়ে চিকিৎসা করিয়েছে কি-না জানতে চাইলে ছমেরা বলেন, ভাত জোগাড় করতে পারি না। চিকিৎসা করাবো কি করে। তার স্বামীর বিষয়ে জানতে চাইলে ছমেরা বলেন, স্বামী মো. আলী হোসেনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বার্মার জেলে আছেন। কিভাবে এলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাশের ঘরে এক পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন। এখানে আসার পর তারা পাহাড়ে ঘর বেঁধেছে ৩ হাজার টাকা দিয়ে। তার কাছে কোনো টাকা না থাকায় তিনি রাস্তায় থাকছেন। ষাটোর্ধ্ব কওছর খাতুন জানান, তার ছেলে সন্তান নেই। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা নিজেরাই বিপদে আছে। তিনি তার গ্রামের একটি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন। তারা পাহাড়ে তাঁবু গেড়েছে। তিনি দুইদিন ওই তাঁবুতে ছিলেন। তাঁবু থেকে রাস্তায় যাতায়াতে কষ্ট হওয়া এবং তাঁবুতে কোনো ত্রাণ না পাওয়ায় এখন রাস্তায়ই থাকছেন বলে জানান রাথিডংয়ে চৌ ফরাং এলাকার আদি বাসিন্দা কওছর আলী। দুদিন আগে কুতুপালং এলাকায় কথা হয় একদল কিশোরের সঙ্গে। তারা দিনরাত রাস্তায় থাকে। এদের অনেকের পিতা নেই। কারো কারো বাবা-মা দুজনই নিহত হয়েছেন। এমন এক শিশুর নাম আবদুর রহিম। বাংলাদেশের বান্দরবান ঘুমধুম ইউনিয়নের বিপরীতে রাখাইনের ঢেকুবুনিয়া এলাকায় তার বাড়ি। কোরবানি ঈদের পরদিন বাংলাদেশ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা ১২ বছর বয়সী আবদুর রহিম এখন কুতুপাংলয়েই থাকে। তার বাড়ি নেই, ঘর নেই। আছে শুধু পরিচিত কয়েকজন বন্ধু। তাদের সঙ্গে দলবেঁধে ত্রাণ সংগ্রহ করে। যে যায় না তার প্রাপ্ত ত্রাণ ভাগাভাগি করে নেয় বলে জানায় রহিম ও তার বন্ধুরা। উল্লেখ্য, দিন নেই, রাত নেই রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কুতুপালং এলাকা ২৪ ঘণ্টা সরগরম থাকছে। ৩৩ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গার ওই ক্যাম্প ঘিরেই রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ নবাগত রোহিঙ্গা। দিনে-রাতে নতুন নতুন তাঁবু টাঙ্গানো হচ্ছে। পাহাড়ের ঢালে, পুরনো বস্তির পাশে, যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে মাথাগোঁজার ঠাঁই নিচ্ছে। ত্রাণ আসছে। বিতরণ হচ্ছে বিরামহীনভাবে। কিন্তু তারপরও শৃঙ্খলা না থাকা এবং ফড়িয়াদের কারণে অনেকটাই নয়ছয় হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের তরফে রোহিঙ্গাদের মানবিক দিকটি দেখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এক সঙ্গে এত আসা বিশাল উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর চাপ সামলে নেয়ার কোনো প্রস্তুতি তো ছিল না। এ নিয়ে আগাম কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা ধারণাও ছিল না বলে দাবি করেন মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা। তবে তাদের মতে, সরকার বিষয়টি দৃঢ়তার সঙ্গে মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদেশিরাও বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। ত্রাণ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আছে। ত্রাণ বিতরণে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রাস্তায় ত্রাণ বিতরণ বন্ধ এবং লোকজনকে তাঁবুতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক কুতুপালং ক্যাম্পের ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাতেই নতুন-পুরান মিলে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে জানিয়ে স্থানীয় পালংখালি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বলেন, সংকট ঘরে-বাইরে। নবাগত রোহিঙ্গাদের জন্য যে জায়গাটি একোয়ার করা হয়েছে সেখানে আগে থেকে অনেকে ভোগ দখল করে আসছে। তারা হতদরিদ্র। এখন তারা উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছে। অনেকে রোহিঙ্গাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে, অনেক রোহিঙ্গা জোর করেই ভোগদখলকারী ব্যক্তির ঘরের কাছে ঘর বাঁধছে। চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে আন্তরিক এবং মানবিক। সবকিছু একটি সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। প্রশাসন তৎপর রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশের টেকনিক্যাল টিমে কাজ করে আবু বকর স্বপন। উখিয়া টেকনাফেই কাজ তার। ওই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে ফিরছিলেন শহরের দিকে। তার গাড়িতে বসেই কথা হয়। স্বপন আফসোস করেন রাস্তায় থাকা প্রায় লাখখানেক রোহিঙ্গার জন্য। বিশেষত যাদের ছোট্ট বাচ্চা কোলে। স্বপন আরাকান সড়কের পাশের একটি পরিবারকে দেখিয়ে বলেন, দেখুন এ মহিলাকে অনেকে রিলিফ দিয়েছে। কিন্তু কেউ দুধের শিশুটির চিন্তা করেনি। মা বা অন্য বাচ্চারা হয়তো খেতে পারবে। কিন্তু এই বাচ্চাটি কি খাবে? রাস্তার পাশে গাছের নিচে এক নবজাতককে নিয়ে বসেছিলেন হালেমা খাতুন। কথা বলে জানা গেল পালিয়ে রাখাইন ছাড়ার পথেই মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ওই মা। তিনিও ত্রাণের জন্য বসেছিলেন। কিন্তু ত্রাণের গাড়ির পেছনে দৌড়াতে না পারার জন্য কিছুই পাননি বলে জানান সদ্য মা হওয়া ওই নারী।
১ লাখ রোহিঙ্গার আবাস তৈরি করবে তুরস্ক, ১৪ হাজার তাঁবু বানাচ্ছে আইওএম: কেবল নিরাশা নয়, বাস্তুচ্যুত সহায় সম্বলহীন এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ, আছে গোটা বিশ্বও।  তুরস্ক জানিয়েছে, তারা প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গার আবাস গড়ে দেবে, যেভাবে বাংলাদেশ সরকার চাইবে। প্রতিটি ঘরে একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুমও থাকবে। এদিকে কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে  রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ হাজার তাঁবু  তৈরি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)  রোববার থেকে তাঁবু তৈরির কাজ শুরু করেছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁবু নির্মাণকাজ শেষ হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প বালুখালীতে স্থানান্তর, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন বিষয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউএসএইচসিআর ও আইওএম কাজ করছে। এই দু’টি সংস্থা বিপন্ন রোহিঙ্গাদের জন্য তাঁবু সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। বালুখালি নতুন ক্যাম্পে স্থান সংকুলান না হলে আরো জমি বরাদ্দ করা হবে। বালুখালিতে ৫ হাজার ২০০ একর খাস জমি রয়েছে। কক্সবাজারের  জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু ও গতিশীল করতে ইতিমধ্যে বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদিন ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার জন্য খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ জেলা প্রশাসন সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি। ওদিকে বৃটিশ এমপি এন মেইনের নেতৃত্বে বৃটেনের একটি প্রতিনিধি দল নবাগত রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে বালুখালি ও কুতুপালং পরিদর্শন করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ অনুবিভাগের মহাপরিচালক খোরশেদ  আলম জানিয়েছেন তারা সীমান্ত এলাকার নো-ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের অবস্থাও দেখেছেন। সেখানে কিছু ত্রাণও বিতরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন