ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না

64

অনলাইন ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো একসময় নিষিদ্ধ ছিল। তারপরও দলের নেতাকর্মীরা ওই ভাষণ বাজিয়েছেন। তারা ওই ভাষণ বাজাতে গিয়ে নানা ধরনের অত্যাচার আর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব করে জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিলো। বিকৃত ইতিহাস তৈরির চেষ্টা হয়েছিলো। কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়।
কেউ ইতিহাস নিশ্চিহ্ন করতে পারে না। আজ সারা বিশ্বে প্রমাণ হয়েছে ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব। ইউনেস্কো ওই ভাষণকে বিশ্বের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি উপলক্ষে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে দিবসটি পালন করেছে আওয়ামী লীগ। তাই জনসভাকে ঘিরে ছিল বাড়তি আয়োজন। এছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল নেতাকর্মীদের বড় শোডাউনও হয়েছে রাজধানীতে। জনসভায় ঢাকা ও আশেপাশের জেলা থেকে বিপুল নেতাকর্মী অংশ নেন। এতে সমাবেশ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ৪৪ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে কথা বলেন সমসাময়িক বিষয়ে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এতিমের টাকা চুরি করে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, মানুষকে পুড়িয়ে মারে তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধীরা যেন কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে না পারে আমি সে আহ্বান জানাই সকলের কাছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক সম্পর্কে সবাই সজাগ থাকবেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্বে যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের সময় তো দেশ এত উন্নতি করতে পারেনি। তারা দেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করতো না। যারা দেশের স্বাধীনতাই চায়নি তারা দেশের উন্নয়ন চাইবে কেন? বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার উৎসব ছিল মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা। জীবনে কোনোদিন এরকম আন্দোলন-সংগ্রামের কথা শুনিনি। তাদের আমলে দেশটা যেন ছিল সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। দেশকে নরকে পরিণত করেছিলো তারা। দুই দিন আগে বাচ্চা হয়েছে এমন নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিলো। দেশকে নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলা শুরু করেছিলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে নিম্ন উন্নয়নের দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। আর এখন আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছি। খুব শিগগিরই আমরা সেই সম্মান পাবো। এদিকে জনসভা ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানী ও আশেপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। দুপুরের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় ভরে যায়। পরে নেতাকর্মীদের স্রোত ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের রাস্তায়।

বিকাল চারটার পর বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের শুরুতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতির পিতা সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন এদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের জন্য। এদেশে একবেলা খাবার পেতো না এমন কোটি মানুষ ছিল। পরনে ছিল ছিন্ন কাপড়। রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যেতো। মানুষ ছিল শোষিত বঞ্চিত। তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য ছিল জাতির পিতার সংগ্রাম। শোষণ বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি বার বার কারাগারে গেছেন। ৭ই মার্চের ভাষণসহ স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চ, ১৭ই মার্চ এমনকি ১৫ই আগস্টের কর্মসূচি পালন করা যেতো না। এই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ইতিহাসকে কেউ নিশ্চিহ্ন করতে পারে না। আজকে এটা প্রমাণ হয়েছে। ৭ই মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিলের স্বীকৃতি পেয়েছে। আড়াই হাজার বছরে যত ভাষণ পৃথিবীতে হয়েছে বৃটিশ সাংবাদিক ও লেখক তা নিয়ে গবেষণা করে ৪১টি ভাষণ বেছে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৭ই মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছিল। জাতির পিতার এই ভাষণের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়নের ইতিহাস উঠে এসেছে। অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় কি কি করণীয় তাও তিনি বলে দিয়েছিলেন এই ভাষণে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রতি আহ্বান গ্রামেগঞ্জে উন্নয়নের চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো, দেশকে উন্নত করবো। দেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত করা ছিল আমাদের লক্ষ্য। আমরা বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে আসীন করবো। আমাদের সরকারের সময় ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণযুগ। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। আমরা দেশের প্রতিটি খাতকে উন্নত করতে কাজ করেছি। জাতির পিতা সোনার বাংলাদেশ গড়তে যে কাজ শুরু করেছিলেন, সেই কাজ আমরা শেষ করতে কাজ করছিলাম। দেশের এত উন্নয়ন করার পরও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জন্য এতকিছু করার পরও আমরা ২০০১ সালে সরকারে আসতে পারলাম না। তখন দেশের গ্যাস উত্তোলন করার প্রক্রিয়া চলছিল। আমেরিকান কোম্পানি সেই গ্যাস তুলে ভারতের কাছে বিক্রি করবে। কিন্তু আমরা বললাম, গ্যাসের মালিক জনগণ। আমাদের জনগণের জন্য ৫০ বছরের রিজার্ভ নিশ্চিত করতে হবে, তারপর গ্যাস বিক্রির সিদ্ধান্ত হবে। দেশের জনগণের এই স্বার্থ দেখেছিলাম বলে আমাদের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত হলো, ষড়যন্ত্র হলো। আওয়ামী লীগ ভোট বেশি পেয়েছিল। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। দেশের মানুষের স্বার্থ দেখার কারণে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া হলো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় একটা ভাষাভিত্তিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে পরিচিতি লাভ করিয়েছিলেন জাতির পিতা। এদেশের মানুষ ছিল শোষিত-বঞ্চিত, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, রাজনৈতিক মুক্তির জন্যই ছিল জাতির পিতার আন্দোলন-সংগ্রাম। ফলাফল- তিনি গ্রেপ্তার, নির্যাতিত হয়েছেন, বারবার বন্দি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যুবসমাজ একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য মাত্র সাড়ে ৩ বছর হাতে সময় পেয়েছিলেন জাতির পিতা। এ অল্প সময়ে একটা দেশকে অনেক দূর নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জাতির পিতা সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে (১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট) চরম আঘাত আসে। কী অন্যায় তিনি করেছিলেন? দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। এজন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। যে দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে সে দেশের উন্নয়ন কীভাবে হবে বলেও প্রশ্ন রাখেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, জাতির পিতাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে বিচার শুরু করেছিলেন ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধু আদালতে গিয়ে বসলে সবাই বলতেন, মনে হচ্ছে যেন বাঘের বাচ্চা এসে বসেছেন। তিনি সবসময় জয় বাংলাদেশ বলে বক্তব্য শুরু করতেন। বলতেন তোমরা আমার বিচার করে কি করবা। বাংলার মানুষকে ঠেকায়ে রাখতে পারবা না। মৃত্যুর পর পারলে আমার লাশটা বাংলার মাটিতে পৌঁছে দিও। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০১ এ আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। যাদের বিচার হয়েছিল তাদের চাকরিতে ফেরত দেয়া হলো। খুনি রশীদ ও হুদাকে সংসদ সদস্য করে পার্লামেন্টে বসালো। যুদ্ধাপরাধীরাই হয়ে গেলেন মন্ত্রী, তাদের হাতেই ক্ষমতা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য এর চেয়ে খারাপ আর কি হতে পারে। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছরে একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আজ যেখানে শিশুপার্ক ঠিক সেখানে সেদিনের মঞ্চ ছিল। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সেখানে উপস্থিত থাকার। জাতির পিতা সেখানে দাঁড়িয়েই এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। তার সে ঘোষণা সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে যায়। সত্যি প্রতিটি ঘর দুর্গ গড়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পাকিস্তানিরা যখন গণহত্যা শুরু করলো তখন বঙ্গবন্ধু ইপিআরের ওয়্যারলেস ব্যবহার করে স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলছিলেন।

কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ বরদাশত করবে না
জনসভায় সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, এ দেশ কখনো বাঙালির ছিল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাঙালির জন্য একটি দেশ হবে। সেই চিন্তা থেকে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারেনি। একটি দেশের নির্বাচন হয় সে দেশের সংবিধান অনুযায়ী। আমেরিকা নির্বাচন গ্রহণ করতে পারেনি, তারপরও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে।
দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুটি স্বপ্ন ছিল, স্বাধীনতা আর বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। একটি তিনি করে গেছেন, অন্যটি তিনি পারেননি। সেটিই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার মেয়ে শেখ হাসিনা করে যাচ্ছেন।
প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা দেশে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর শেখ হাসিনা ক্ষুধা, অশিক্ষা, স্বাস্থ্যহীনতা থেকে বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তি দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলছেন। তার নেতৃত্বেই আমরা দেশকে উন্নত করব।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বিজয় অর্জন করব। শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী করব। এটাই হোক আজকে আমাদের শপথ।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মির্জা আজম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল।
দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ: জনসভাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তা মেনে নেয়ার অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জনসভার শুরুতে তিনি এ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এই দিনটি সকল বাঙালির সম্পদ। এই দিনটি পরিবর্তন করা যায় না। আমরা আমাদের অন্য জনসভাগুলো ছুটির দিনে শুক্রবার ও শনিবার করেছি। কিন্তু এই তারিখ তো বদলানো যাবে না। ঢাকাবাসীর উদ্দেশে কাদের বলেন, আপনাদের একটু কষ্ট হলেও সহনশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই
সমাবেশে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন: মনোনয়ন প্রত্যাশীর মিছিলে আসা এক কর্মী আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ৭ই মার্চের জনসভা। তারা জনসভায় নিজ নিজ অনুসারী ও সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ প্রবেশ করেন। তারা ব্যানার, ফেস্টুন, টি-শার্টে নানান কথা, স্লোগান লিখে সোহরাওয়ার্দীতে জনসভাস্থলে হাজির হন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মিছিল এভাবে ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশের জেলার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্নভাবে শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

কবিতা আবৃত্তি করলেন নির্মলেন্দু গুণ: ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করতে আয়োজিত জনসভায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কবি নির্মলেন্দু গুণ শোনালেন, ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটি। তিনি এই কবিতাটি লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে। যে ভাষণ মানুষের মনের কথা, চাহিদাকে ধারণ করতে পেরেছিল। জনসভার শুরুতেই কবিতাটি পাঠ শুরু করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। কবিতা পাঠের শুরুতে কবি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে লেখা কবিতা, ৭ই মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আবৃত্তি করছি। এরকম সুযোগ পৃথিবীর আর কোনো কবির পক্ষে পাওয়া সম্ভব হয়েছে কিনা, আমার জানা নেই।
কঠোর নিরাপত্তা বলয়: এদিকে জনসভা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা ও তার চারপাশের সড়কে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। উদ্যানের চারপাশে বসানো হয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। সেই ক্যামেরা থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হয়। গতকাল সকালেই পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে সকল নেতাকর্মীকে বের করে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো মাঠে তল্লাশি চালায়। মৎস্য ভবনের মোড়ে ও শাহবাগের শিশুপার্কের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। মৎস্য ভবনের মোড় থেকে শাহবাগের শিশুপার্ক পর্যন্ত কোনো পথচারীকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ- শিশুপার্ক সড়ক দিয়ে যানবাহন ছাড়াও কোনো পথচারীকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এসময় পথচারীরা রমনা পার্কের ভেতর দিয়ে রজনীগন্ধা গেট দিয়ে বের হয়ে শাহবাগে যান। জনসভায় প্রত্যেক গেটে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্চওয়ে বসানো হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। র‌্যাব-৩ এর পক্ষ থেকেও একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। এছাড়াও র‌্যাব-৩ এর পক্ষ থেকে মাঠের মধ্যে ২টি ওয়াচ টাওয়ার বসানো ছিল। জনসভার সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ক্রাইম কৃষ্ণপদ রায়ের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল সকালেই ঘটনাস্থলে যান। তারা সেখানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন। র‌্যাব-৩ এর সিও লে. কর্নেল ইমরানুল হাসান মানবজমিনকে জানান, জনসভা উপলক্ষে র‌্যাবের একটি দল ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল দিয়েছে। এছাড়াও মাঠের ভেতরে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হয়।

শেয়ার করুন