এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

25

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ায় তিন দিনের সরকারি সফর শেষে গত মঙ্গলবার বিকালে দেশে ফিরেছেন। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে তিনি দেশটি সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে এবং পর্যটন, কৃষি, বেসামরিক বিমান, আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি চুক্তি এবং ৯টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। তিনি কম্বোডিয়ার রাজা নরদোম সিহামনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ দান করেন।
তিনি কম্বোডিয়া চেম্বারের বাণিজ্য আলোচনায় যোগ দেন এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া একটি সরকারি ভোজসভায়ও যোগ দেন। কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কম্বোডিয়ার রয়েল পার্টি ফানসিনপেকের প্রেসিডেন্ট নরদোম রনারিধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর হোটেল স্যুটে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের স্বার্থে এ অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গতকাল সকালে হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কম্বোডিয়ার রয়্যাল পার্টি ফানসিনপেকের প্রেসিডেন্ট ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নরোদম রনারিধ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ গুরুত্বরোপ করেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি এম নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, এই দুই নেতা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ এবং গণযোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমরা ঢাকার কাছে নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে। কম্বোডিয়ার বর্তমান রাজার সৎ ভাই নরোদম রনারিধ দেশটির সাবেক প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের নামে ঢাকার একটি সড়কের নামকরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নমপেনে একটি সড়কের নামকরণ করায় কম্বোডিয়ার সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা ও কম্বোডিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সাবেক প্রেসিডেন্ট রনারিধ ঢাকায় এশিয়ার দেশগুলোর পার্লামেন্টারিয়ানদের সম্মেলনসহ নানা অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত তাদের আগের বিভিন্ন বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন