ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞায় সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন

24

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ছয়টি মুসলিম প্রধান দেশের বিরুদ্ধে জারি করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ অনুমোদন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এক্ষেত্রে শর্ত দেয়া হয়েছে। আর তা হলো- এ বিষয়ে নিম্ন আদালত থেকে আইনি বৈধতা আসতে হবে। রায়কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, তিনি ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহের মাথায় প্রথমে সাতটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা হলে আইনি প্যাচে আটকে দেন বিচারক।
একাধিক আদালত ওই নির্দেশ আটকে দেয়। এরপর তিনি সাতটি দেশ থেকে ইরাককে বাদ রেখে ছয়টি দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেন। তারও পরিণতি একই ঘটে। অবশেষে সংশোধিত আকারে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেন সেপ্টেম্বরে। এবার আফ্রিকার দেশ চাদ, ইরান, লিবিয়া, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। এরই মধ্যে আলাদা দুটি আদালতও এ নির্দেশ আটকে দিয়েছে। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্ট তা অনুমোদন করায় প্রথমবারের মতো স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছে ট্রাম্প প্রশাসন। অনলাইন সিএনএন লিখেছে, যখন অধীনস্ত আদালতে আইনি লড়াই চলছে তখন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করতে পারবে। ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার ক্ষমতা রাখেন। ওদিকে সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের রায়ের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হোগান গিডলে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হোয়াইট হাউস বিস্মিত নয়। তবে এই রায়ের বিরোধীরা বলছেন, এ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ট্রাম্প মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের ইমিগ্র্যান্টস রাইস প্রজেক্ট-এর পরিচালক ওমর জাডওয়াট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে মুসলিমবিরোধী এটা কোনো গোপন কথা নয়। তিনি বার বার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমনকি গত সপ্তাহেও তিনি টুইটারে এ কথাই জানান দিয়েছেন। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ এখন করা যাবে এটা একটি দুঃখজনক ঘটনা। ওদিকে বিবিসি লিখেছে, আপিল বিভাগের নয়জন বিচারকের মধ্যে সাতজন একমত হন যে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ছয়টি মুসলিম দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে সর্বশেষ যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, তা বহাল থাকবে। তবে নিম্ন আদালতের দেয়া নির্দেশনার আইনি সুরাহা হয়ে আসতে হবে। এ সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টির বৈধতা নিয়ে শুনানি হবে সানফ্রানসিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া, রিচমন্ড এবং ভার্জিনিয়ার ফেডারেল কোর্টে। অবশ্য উত্তর কোরিয়া এবং ভেনিজুয়েলার ওপর জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিম্ন আদালত অনুমোদন দিয়েছে আগেই। ক্ষমতায় আসার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের ওপর ৯০ দিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সঙ্গে শরণার্থীদের প্রবেশেও বাধা সৃষ্টি করে নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয় এবং নিম্ন আদালত থেকে তা আইনি বাধার মুখে পরে। এই নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া মুসলিম প্রধান দেশের শিক্ষার্থীরা। নির্বাহী আদেশটি দুই দফা পরিবর্তনের পর সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়া ও ভেনিজুয়েলার ওপর একইরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় হোয়াইট হাউস থেকে। সামপ্রতিক সময়ে নানা বিষয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত কার্যকলাপের মধ্যে আপিল বিভাগের এই রায়কে তার জন্যে একধরনের বিজয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন