ডিএনসিসি নির্বাচনে প্রতীক নিয়ে সতর্ক আওয়ামী লীগ

26

ঢাকা : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়ে সতর্ক আওয়ামী লীগ। দল থেকে মনোনয়ন দেয়ার আগে কারও পোস্টার, ব্যানার বা লিফলেটে নৌকা প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে দলটি। এরইমধ্যে যেসব নেতা প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন তাদের সতর্ক করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দল মনোনয়ন দেয়ার আগে কারও নৌকা প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই। কেউ ব্যবহার করলে আওয়ামী লীগ সেটি খতিয়ে দেখবে।
তিনি বলেন, আমরা বিএনপির মতো নই যে, বাবা ছেলের নাম ঘোষণা করবে। আওয়ামী লীগে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ নেই। ইউ?নিয়ন চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রেও দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। ?শিডিউল ঘোষণার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বলেন, কয়েকদিন ধরে ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্তরের নেতারা এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে জড়িত। এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করে দলের পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়েছে মনোনয়নের আগে কেউ যেন এ ধরনের প্রচারণা না চালায়। মহানগরের সেক্রেটারি হিসেবে আমি বিষয়টি দেখছি। দলের এ সিদ্ধান্তকে সঠিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ এখনই না নিলে প্রচারণা নিয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হতে পারে। এদিকে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী ৬ই জানুয়ারির মধ্যে সব ধরনের পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা জারি করেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার মধ্যে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে দল। তাই যোগ্য ও স্বচ্ছ ইমেজের প্রার্থী দিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করতে চায় আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বরাবরের মতো এবারও মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীর মধ্যে। এরইমধ্যে দলের টিকিট পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। জোর লবিং ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সাবেক মেয়র আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভিন্ন ধারার একটি ইমেজ তৈরি করেছিলেন। তার সেই কাজ ও ইমেজের কথা মাথায় রেখেই প্রার্থীর খোঁজ করছে আওয়ামী লীগ। ডিএনসিসি’র উপনির্বাচনে গতবার আনিসুল হককে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এবারও দলটি একজন ব্যবসায়ী নেতাকে মনোনয়ন দিচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। দলের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যারা আগ্রহী তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। ইতিমধ্যে তিনি দলের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা। গত সপ্তাহে আতিকুল ইসলাম গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলেও আওয়ামী লীগ নেতারা জানান। আর প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় নেমে গেছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ এই ব্যবসায়ী। তার ছবি সংবলিত ব্যানার-পোস্টারও সাঁটানো হচ্ছে ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায়। ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের আগ্রহের কথা জানিয়ে আতিকুল ইসলাম জানান, অবশ্যই কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমি কিছু নেতার সঙ্গে দেখা করেছি। আগামী কয়েকদিন আরো করব। আড়াই বছর আগে ঢাকা উত্তরের প্রথম নির্বাচনের আগেও একই প্রক্রিয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হয়েছিলেন আনিসুল হক। এদিকে ঢাকা উত্তরের পুরো এলাকায় ও দক্ষিণের নতুন ১৮ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, বিলবোর্ড, তোরণ, দেয়াল লিখনসহ সব সামগ্রী ৬ই জানুয়ারির মধ্যে নিজ উদ্যোগে সরাতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণা করে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের যেকোনো দিন ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তফসিল ঘোষণার আগেই উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্পূর্ণ এলাকা এবং দক্ষিণের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের আগাম প্রচার সামগ্রী ৬ই জানুয়ারি রাত ১২টার মধ্যে নিজ খরচে অপসারণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সরাতে হবে। তা না হলে প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানার কোথাও দেখা গেলে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারে।

শেয়ার করুন