নাইকোর সঙ্গে চুক্তি অবৈধ

36

ঢাকা: কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) চুক্তি বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পেট্রোবাংলার সঙ্গে নাইকোর গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার চুক্তিও বাতিল বলে রায় দিয়েছেন আদালত। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। রায়ে আদালত বলেছেন, ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় নাইকোর গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন দুটি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাইকোকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা যাবে না। একই সঙ্গে ওই দুই চুক্তির আওতায় নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশের সকল সম্পত্তি এবং ৯ নম্বর ব্লকে থাকা নাইকোর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে দুটি চুক্তি করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের (জয়েন্ট ভেঞ্চার) একটি চুক্তি এবং গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল আরেকটি। পরে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম ওই দুই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালের মে মাসে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ৯ই মে এক আদেশে চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে ওই চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলা হয় আদেশে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল রায় দিলেন হাইকোর্ট। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম। নাইকোর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। আর সালিশি আদালতের আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন আইনজীবী মঈন গণি। রায়ের পর আইনজীবী তানজীব-উল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে বাংলাদেশে নাইকোর যত সম্পত্তি আছে তা সরকারের অনুকূলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আইনজীবী মঈন গনি বলেন, নাইকো যখন এই চুক্তি করে তখন তারা দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। দুর্নীতির বিষয়টি কানাডিয়ান আদালতে তারা স্বীকারও করেছে। তিনি বলেন, যেহেতু তাদের স্বীকারোক্তি আছে তাই নাইকো বাংলাদেশ ও নাইকো কানাডার বাংলাদেশি সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শেয়ার করুন