নাজিম উদ্দিন রোডের লাল দালান ঘিরে প্রস্তুতি

27

অনলাইন ডেস্ক: বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তর মাঠের বিশেষ আদালত ও পুরনো কারাগার ঘিরে গতকাল দিনভর ব্যস্ত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোর থেকেই আদালতে প্রবেশ পথে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাহারা বসিয়েছে মাদরাসার চারপাশে। চেকপোস্ট বসানো হয় এই এলাকার প্রবেশপথের সবক’টি মোড়ে। সকাল থেকেই টহল অব্যাহত রেখেছে একটি দল। পুলিশি চেকপোস্ট ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে গাড়ি থামাতে বসানো হয়েছে ডিজিটাল রোড ব্লক ডিভাইস।
বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। আদালত চত্বর ও এর আশেপাশে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। সকাল থেকেই সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের সিসিটিভি বসানোর বিশেষ দল। এছাড়া গতকাল সকাল থেকে চকবাজার থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান ও ব্লক রেইড চলমান রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত এসব অভিযানে ২৭ বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরেও তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। কারাগারের প্রধান ফটকের আশেপাশে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি বসানো হয়েছে। কারাগারের ভেতর দৃশ্য দেখার জন্য যেনো কেউ পার্শ্ববর্তী কোনো ভবনে না উঠে সে ব্যাপারে ভবন সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছে পুলিশ। আশেপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছে, সাজা হলে খালেদা জিয়াকে এই কারাভ্যন্তরে রাখবে বলেই তারা নানা সূত্র থেকে জানতে পেরেছেন। ইতিমধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকালের সূর্য ওঠার আগেই বিশেষ আদালত থেকে পুরাতন এই কেন্দ্রীয় কারাগার পর্যন্ত রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। এছাড়া কারাগারের আশেপাশের রাস্তা এবং সবগুলো প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। তবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তারা। বিকালে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিয়ে কারা অধিদপ্তর মাঠে লালবাগ জোনের ডিসি ব্রিফিং করেন। জানা গেছে, আজকে তাদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। মহড়া দিয়েছে র‌্যাব সদস্যরাও। এদিকে আজকের রায়কে ঘিরেও এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল সকালে সরজমিন দেখা যায়, আলীয়া মাদরাসার আদালতের প্রবেশপথে পুলিশি পাহারা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল দিতে থাকে। আদালত এলাকার সবগুলো প্রবেশপথে বসানো হয় অস্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট। সন্দেহজনক মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, রিকশা যাত্রী এমনকি সন্দেহভাজন পথচারীদেরও তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির গতিরোধ করার জন্য বসানো হয়েছে ডিজিটাল রোড ব্লক ডিভাইস। রিমোটের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করছেন এক পুলিশ সদস্য। পুরো এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মোড়ে মোড়ে পুলিশি পাহারা। পাহারা বসানো হয়েছে পলাশী মোড়েও। পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, অস্থায়ী বিশেষ আদালতের আশেপাশের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যার পর থেকেই বন্ধ করে দেয়া হবে। রায় শেষ হওয়ার পর অবস্থা বুঝে সেগুলো খোলার অনুমতি দেয়া হবে। একাধিক এলাকাবাসী জানিয়েছে, আশেপাশে বসবাসরত পরিবারকেও আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে বিনা কারণে ঘর থেকে না বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাকে কোথায় রাখা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশের এসআই পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই রাখা হবে। ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানান। পরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে ফটকের আশেপাশে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কারাভ্যন্তরে কর্মরত বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, ভেতরে সব সাজগোজ করা হয়েছে। এছাড়া ভোর থেকেই এলাকার সকল পথ বন্ধ করে দেবে পুলিশ। বন্ধ থাকবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।

শেয়ার করুন