নির্বাচন করবো, বাইরে রাখা যাবে না: খালেদা

56
রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত খালেদা জিয়ার গাড়ি -ছবি: নাসির উদ্দিন

ঢাকা : বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবেই, চেষ্টা করেও নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না। তবে সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আর সরকার যদি মনে করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে জেলে রেখে নির্বাচন দেবে তাহলে সে নির্বাচন হবে না। কারণ বিএনপি অনেক বড় রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না ।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে এরা তো ভোটই পায়নি। এদের তো পার্লামেন্টে থাকার যোগ্যতাও নেই। কাজেই বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিতেই হবে। এই পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। আমরা নির্বাচনমুখী দল, নির্বাচনে যাবো। নির্বাচন করবো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, হাসিনার অধীনে নয়। সারা পৃথিবীর মানুষ বুঝে গেছে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগকে আর বিশ্বাস করে না। সত্যিকারে জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় আসে না। তারা কারো না কারো কাঁধের ওপর ভর করে ক্ষমতায় বসেছে। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। গুম-খুন করেছে। খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশকে কারাগার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা সবাই কারাবন্দি। এই কারাগার থেকে মুক্ত শুধু আওয়ামী লীগ ও হাসিনা। দেশে যে গণতন্ত্র নেই তারা তা আবারো প্রমাণ করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, বৈধ সরকার নেই, আইনের শাসন ও কথা বলার অধিকার নেই। তার প্রমাণ একটু আগে দেখলাম। অনেকদিন ধরে ছাত্ররা আলোচনা সভার প্রস্তুতি নিয়েছে। অনুমতি দিয়েছে, ভাড়াও নিয়েছে। অথচ হঠাৎ করে হলরুমে তালা লাগিয়ে দিলো। এটা কেমন আচরণ? আজকে দেশ এক ব্যক্তির দখলে, দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ তার জন্য দায়ী। খালেদা জিয়া বলেন, ৫ই জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমরা সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা অন্য একটি দলকে সমাবেশ করার অনুমতি দিলো। আমাদের অন্য আরেকদিন সমাবেশের অনুমতি দিতে পারতো। এ ভেন্যুতে না দিয়ে আমরা প্রয়োজনে অন্য ভেন্যুতে আয়োজন করতাম। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা শৃঙ্খলা মেনে চলতে চাই। তারাই (সরকার) শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। পুলিশ খারাপ নয়। তারা পুলিশকে খারাপ বানায়। আপনারা (পুলিশ) জনগণের সেবক। জনগণের সমস্যা সমাধানে আপনারা কাজ করবেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। রাগ নেই। যাদেরকে বিনা কারণে আটক করেছেন তাদের ছেড়ে দিন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, শেখ হাসিনা জঙ্গি সৃষ্টি করেছে। আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন তারা জঙ্গি তৈরি করেছে। শায়েখ আবদুর রহমান, বাংলাভাই আওয়ামী লীগের আত্মীয়। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তি চায়। সরকার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জঙ্গি বানাচ্ছে। নিজেরা বোমা রাখে, অস্ত্র রাখে। তারপর যাকে ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। কথায় কথায় কিছু হলে জঙ্গির ভয় দেখায়। তারা দিনের পর দিন আটক রেখে নিরপরাধ মানুষকে জঙ্গি সাজায়। কিন্তু সরকারের কারসাজি এদেশের মানুষ জেনে গেছে। তিনি বলেন, দেশের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের লবণ দিয়ে ভাত খাওয়ার আজ উপায় নেই। শেখ হাসিনার অধীনে দেশ আর চলছে না। সামনে এগিয়ে যাওয়ার বদলে পেছনের দিকে যাচ্ছে। হাসিনার অধীনে আরো কিছুদিন দেশ চললে কিছুই থাকবে না। এজন্য ছাত্র ও যুবসমাজকে জেগে উঠতে হবে। এ সময় ‘ভিশন-২০৩০’র কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া ভবিষ্যতে তার নানা প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিতে পারেনি, নেতৃত্ব দিতে পারেনি। জিয়াউর রহমান সেদিন, পরিবার, নিজের কথা চিন্তা না করে, দেশের কথা চিন্তা করে স্বাধীনতা ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধে ডাক দিয়েছিলেন। এবং যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে নিজের দায়িত্বে চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং যতই তারা অস্বীকার করুক, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, এটা ইতিহাসে লেখা হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের সাহায্য করেছে। ভারতকে আমরা বন্ধুর মতো দেখতে চাই। বন্ধু হয়ে থাকতে চাই সবসময়। আমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালো সম্পর্ক চাই। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানেও হাসিনার অত্যাচার শুরু হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের জোরে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেন কাউকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি? কারণ এখনও তাদের মতলবটা ভালো নয়। কিন্তু ওই দিনও এই পদটা খালি রাখা যায় না। অর্থাৎ হাসিনা যা বলবে তাই করতে হবে। না হলে পদত্যাগ, মামলা হবে ও জেল। কিন্তু এক ব্যক্তির শাসন তো এদেশে চলতে পারে না। এগুলো আল্লাহ দেখছেন, আল্লাহ বিচার করবেন। তারা এত খারাপ করছে যে, বিচার আল্লাহতালার তরফ থেকেই হবে। আমাদের আর কিছু করতে হবে না। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ছবি তুলে আন্দোলনে আছি, তা বললে হবে না। এগুলো আর চলবে না। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করেছি। সবার পিছনে গোয়েন্দা নিয়োগ করা হয়েছে। বিএনপির নেতাদের পিছনেও গোয়েন্দা নিয়োগ করা হয়েছে। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঐক্য, ঈমান, শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। এই তিনটি বিষয় রাখলে সব কিছু জয় করা সম্ভব। শুধু স্লোগান দিলে হবে না। স্লোগানের ধারা পরিবর্তন করতে হবে। আগের স্লোগান দিলে হবে না। সময়ের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তা পরিবর্তন করতে হবে। আগামীতে যাকে যে পদে দেয়া হবে সেখানে কাজ করতে হবে। তোমরা এগিয়ে চলো। ২০১৮ সাল হবে গণতন্ত্রের বছর। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে আজ যা সংকট, তার মূলে আছে এখানে একটা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না এ ধরনের একটি সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। আজ থেকে এ সরকারের পতনের দিন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এ সরকারকে এ মুহূর্তেই চলে যাওয়া উচিত। ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় ছাত্রসমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বক্তব্য দেন। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, নাজিমউদ্দিন আলম, এবিএম মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রশীদ হাবিব, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহসভাপতি এজমাল হোসেন পাইলট, আতিক আল হাসান মিন্টু, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, নাজমুল হাসান, আলমগীর হোসেন সোহান, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, কাজী মোকতার হোসেন, বায়েজিদ আরেফিন, মুশফিকুর রহমান লেনিন ও ওমর ফারুক মুন্নাসহ ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনভর নাটকীয়তার পর সন্ধ্যায় অনুমতি
৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুলিশের অনুমতি ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের অডিটোরিয়াম ভাড়া করে ছাত্রদল। অডিটোরিয়ামের ভাড়াও পরিশোধ করা হয়। সাজানো হয় মঞ্চ। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে জড়ো হতে থাকে। তবে পুলিশ ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে অনুষ্ঠান করা যাবে না। ছাত্রদল নেতারা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। কিন্তু পাশেই হাইকোর্টে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান থাকার কারণে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ নিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হলে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। পরে বিএনপি নেতারাও বারবার পুলিশ এবং অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায় বিকাল চারটার পর ছাত্রদল চাইলে অনুষ্ঠান করতে পারে। এদিকে সকাল থেকেই অডিটোরিয়ামের দরজায় ছিল তালা। সামনে সতর্ক পাহারায় ছিল পুলিশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা সভা করতে না দেয়ায় বেলা আড়াইটার দিকে ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মী। অডিটোরিয়ামের মূল ফটকের সামনে কড়ই চত্বরে দাঁড়িয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা স্লোগান ও বক্তব্য দিতে শুরু করেন। ৪টা ২৫ মিনিটে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু তখনো অনুমতি মেলেনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে পরামর্শ করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু তারাও নিরাশ হয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু অনুমতি না পেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছিলেন অনড়। তিনি অডিটোরিয়ামের দরজার সামনে গাড়িতে বসে থাকেন। আর তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখে স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী। সময় তখন ৫টা ১৭। গাড়িতে খালেদা জিয়ার অপেক্ষার ৫০ মিনিটের পর মেলে অনুমতি। এ সময় শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, খালেদা জিয়ার সম্মানে অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েছে। এরপর নেতাকর্মীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। দুপুর দুইটার অনুষ্ঠান শুরু হয় সাড়ে ৫টায়। তারপরও এটাকে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে বিজয়ী হিসেবে দেখছে বিএনপি। নতুন করে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার প্রসঙ্গে পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে আইইবির ভেতরে ঢুকতে কেউ বাধা দেয়নি। নতুন করে অনুমতি দেয়ার কিছু নেই। এর আগে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নির্ধারিত ছাত্রসমাবেশ করতে না দেয়ার বিষয়ে জানাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে ছাত্রদল… তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অর্থাৎ পুলিশের অনুমোদন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ মঞ্চ নির্মাণের জন্য গেলে প্রধান গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। একমাস আগে এই অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে আজকে অনুষ্ঠান করতে না দেয়া, গড়িমসি করা- এটা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে গণতান্ত্রিক যে অধিকারগুলো, সেই অধিকারকে খর্ব করার শামিল বলে আমরা মনে করি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন