পাহাড় গিলে খাচ্ছে পাহাড়দস্যুরা

30

মো. সজল আহাম্মদ খান, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : কসবায় পাহাড়দস্যুরা প্রকাশ্যে অবাধে পাহাড় কাটছে। এতে সৌন্দর্য লীলাভূমি এখন সমতল ভূমিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের কোনো চিহ্ন পর্যন্ত রাখা হচ্ছে না। পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে পাহাড় কাটা এলাকায়। স্থানীয় একটি চক্র প্রশাসনের যোগসাজেশে অবৈধভাবে পাহাড় কেটেই চলছে।
কারণ প্রশাসনকে হাত করে চক্রটি তাদের কর্মটি চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে পাহাড়ের মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে নিয়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ঘেঁষা সীমান্তবর্তী উপজেলা কসবা। সীমান্ত এলাকায় রয়েছে উঁচু নিচু টিলা দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্র্য লীলাভূমি। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে পাহাড়দুস্যরা পাহাড় জঙ্গল পরিষ্কার করে মাটি কেটে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে প্রকৃতি এখন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী বায়েক ইউনিয়নের কোল্লাপাথর, মাদলা, নোয়াপাড়া, ধোপাখলা, সাগরতলা, বেলতলী ও গোপীনাথপুর ইউনিয়নের লতুয়ামোড়া, রামনগর, রামপুর, ক্ষিরনাল, পাথারিদ্বার, কাজীয়ামোড়া, মধুপুর, জেঠুয়ামোড়া, মানিক্যমোড়া, ফতেহপুর গ্রামে অবাধে পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ এখন হুমকির মুখে রয়েছে। ওই এলাকা প্রভাবশালী একটি মহল পাহাড় কাটা অপরাধ জেনেও টাকার বিনিময়ে প্রতিদিন ফজরের আজান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড় কাটা শুরু করে। চলছে সূর্য উঠা পর্যন্ত ওই সময়ে পাহাড়দস্যুরা পাল্লা দিয়ে প্রায় ৫০-৬০টি স্পটে পাহাড় কাটাছে কোন ভয়ভীতি ছাড়াই। কিছু কিছু স্থানে দিনে দুপুরেও পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে গেছে গ্রামের অনেক রাস্তা। সেই রাস্তার পাশের পাহাড়গুলোর মাঝখান থেকে সুড়ঙ্গ করে মাটি কেটে নেয়ার কারণে যেকোনো সময় উপরদিক থেকে মাটি পড়ে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড় কাটার দরুণ ওইসব লোকজন এখন বেকার হয়ে পড়ছে। বায়েক গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম মানবজমিনকে বলেন, অবাধে পাহাড় কেটে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০টি স্পটে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে কসবায় কোন পাহাড়ের চিহ্ন থাকবে না। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ধ্বংস করছের প্রাকৃতিক পরিবেশ। হিউম্যান রাইস রিভিউ কসবা উপজেলার সভাপতি মোবারক হোসেন চৌধুরী নাছির মানবজমিনকে বলেন, পত্রপত্রিকায় খবর ছাপা হলে প্রশাসন অভিযান চালায়। এতে পাহাড় কাটা কিছু দিন বন্ধ থাকে। বর্তমানে প্রশাসনের কোনো চাপ না থাকার কারণে পুরোদমে পাহাড় কাটা চলছে। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান জাহাঙ্গীর বলেন, পাহাড় কাটার খবর পেলেই তা বন্ধ করে দিই। এমন বহু জায়গার পাহাড় কাটা আমি বন্ধ করেছি। পাহাড় কাটা অথবা পাহাড়ের শ্রেণি পরিবর্তন করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করি। কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবাইদা খাতুন মানবজমিনকে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন