প্রতিরক্ষা সমঝোতা বা চুক্তি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না: ফখরুল

39

ঢাকা : ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা সমঝোতা বা চুক্তি দেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সকালে শেরেবাংলা নগরে  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর তিনি এসব কথা বলেন। সদ্য কারামুক্ত মহানগর সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে যান মির্জা আলমগীর। মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাতে অংশ নেন। গত ২৩শে মার্চে উচ্চ আদালতের জামিন নিয়ে হাবিব উন নবী খান সোহেল কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। গত বছরের ৯ই অক্টোবর নাশকতার বিভিন্ন মামলায় ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে সোহেলকে কারাগারে প্রেরণ করে।

মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, সরকার যেটা বলেছেন যে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে উচ্চতম পর্যায়ে রয়েছে। সম্পর্ক  উচ্চতম পর্যায়ে যদি থাকে, তাহলে এই ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্বারক সই করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। শুধুমাত্র ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা কোনোটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি বা সমঝোতা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সম্ভাব্য চুক্তি বা সমঝোতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর উপলক্ষে ইতিমধ্যে আমাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের সমস্যাগুলো তার মধ্যে প্রধান সমস্যা হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি সমস্যার সমাধান করা অর্থাৎ ন্যায্য হিস্যা পাওয়া, ৫৮টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা পাওয়া, আমাদের সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে তার নিরসন হওয়া এবং ট্যারিফ-নন-ট্যারিফ বিষয়ে বানিজ্যের ক্ষেত্রে যে বাঁধা রয়েছে, সেই বাঁধাগুলো অপসারিত করা- এগুলো বাংলাদেশের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যাগুলোর যদি সমাধান না হয়. তাহলে শুধুমাত্র ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি অথবা সমঝোতা কোনটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সব সময়ে শুধু প্রতিবেশী দেশের কাছে নয়, সমগ্র গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে প্রত্যাশা করে যে, গণতন্ত্রকে এখানে ফলোপ্রসূ করতে, জনগণের অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে গণতান্ত্রিক বিশ্ব তার ভূমিকা পালন করবে। এ সময়ে  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, সহ সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওযাজ আলী নেওয়াজ,  যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিবর, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পদক নূরুল ইসলাম নয়ন, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফা কামাল রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি  শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহ সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, আজাদসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন