ভোট চাইলেন খালেদা জিয়া

45

ঢাকা : আগামী একাদশ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ঢাকা সিটি আপনারা আরো ঐক্যবদ্ধ হোন। আমি বলব, আসুন সামনে আসছে শুভ দিন, ধানের শীষই হবে ইনশাআল্লাহ বিজয়ী। ধানের শীষকে আমরা ভোট দিয়ে বিজয়ী করি। এদেশের মানুষকে আবার শান্তি-উন্নতি-গণতন্ত্র-উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে গতকাল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন এ কথা বলেন। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার ‘পুষ্পগুচ্ছ’ ও ‘রাজদর্শন’ এই দুইটিতে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই ইফতার হয়। দুই হলের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর ব্যাপক উপস্থিতিতে হলে প্রবেশ নিয়ে সৃষ্টি হয় দারুণ বিশৃঙ্খলা। ইফতার পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তারা ভাবছে, আগামী নির্বাচনেও তারা চুরি করে ক্ষমতায় বসবে। না, তাদেরকে এবার আর চুরি করে ক্ষমতায় বসতে দেবে না জনগণ। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের এরকম মামলা হামলা ও হয়রানি করে একতরফা নির্বাচন করতে চাইবে আওয়ামী লীগ। আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগকে এবার একতরফা নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। একতরফা নির্বাচন এদেশে আর হবে না। সেটা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, এবারকার নির্বাচন হবে সকলের অংশগ্রহণে। হাসিনা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিন্তু ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করাতে পারবে না। হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। মানুষ বুঝে গেছে, হাসিনা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে ফলাফল কী হয়। নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। সেখানে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা নির্বাচনকে ভয় পাই না, আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কিন্তু সেই নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনের মতো নির্বাচন। সেই নির্বাচন হবে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন ও সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। ইনশাআল্লাহ এই লুটেরা, খুনি, চোর, জনগণের হত্যাকারী, মা-বোনদের নির্যাতনকারী, ছাত্র-ছাত্রীদের অত্যাচারকারী এই সরকারকে জনগণ নির্বাচনে কেমনভাবে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের পরিণতি কি হয়, সেদিন তারা নিজেরা দেখে নিতে পারবে। এ সময় তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরে নতুন কমিটিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠন শক্তিশালী করার তাগিদ দেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকার গরিব মানুষের সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে এটা তারা বুঝে গেছে। সেই জন্য এখন তারা লুটপাট করে সেগুলো পাচার করাতে ব্যস্ত। তাদের যে সেক্রেটারি জেনারেল সে বলে দিয়েছে, যত পারো লুটেপুটে নিয়ে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করো।
নরসিংদী ছাত্রদলের নেতা সিদ্দিকুর রহমান নাহিদের ছবি দেখিয়ে তাকে গুম করার বিষয়টি তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এই সরকার পবিত্র রমজান মাসেও বিএনপির নেতা-কর্মী গুম করছে। পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা মনে করছে, পুলিশ দিয়ে জনগণকে দমন করে রাখবে। পুলিশ বাহিনীকে খারাপ কাজে সরকার ব্যবহার করছে। আমি পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা জনগণের সেবক, আপনাদের দায়িত্ব হলো জনগণের নিরাপত্তা দেয়া। আপনারা ঠিক থাকেন, তাদের পাশে থাকেন। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের এই গুণ্ডা-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করবেন, জেলখানায় নিন। ভবিষ্যতে আপনারা ভালো থাকবেন। আপনাদের জন্য আমাদের অনেক কর্মসূচি রয়েছে। এ সময় বিদেশে থাকা উত্তরের নতুন সভাপতি এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানান খালেদা জিয়া। পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে সেনাবাহিনীর সদস্যসহ ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে আহতদের সুচিকিৎসা দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। মূল মঞ্চে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান, সহ সভাপতি আবদুল আলী নকি, সাহাবুদ্দিনসহ উত্তরের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া। ইফতারে বিএনপির সিনিয়র নেতা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, আতাউর রহমান ঢালী, ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সানাউল্লাহ মিয়া, নুরী আরা সাফা, আমিনুল হক, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আতিকুল ইসলাম মতিন, মাসুদ খান, নবী সোলায়মান, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আবুল হোসেন, আবুল হাশেম, শাহিনুর আলম মারফত, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, এজিএম শামসুল হক, কফিলউদ্দিন আহমেদ, শামীম পারভেজ, দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, ইউনুস মৃধা, মোশাররফ হোসেন খোকন অংশ নেন।

শেয়ার করুন