রক্তাক্ত কাবুলের কূটনীতিক পাড়া

36

বাংলা কাগজ ডেস্ক : ফের রক্তাক্ত হলো আফগানিস্তান। রাজধানী কাবুলের কূটনৈতিক পাড়ায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৮০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক শ’ মানুষ। নিহতদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলেছেন, কাবুলে আঘাত হানা ‘অন্যতম বড়’ বিস্ফোরণ ছিল এটা। বুধবার কাবুলের কেন্দ্রে জানবাক স্কয়ারের কাছে আত্মঘাতী এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর কাছেই রয়েছে অনেকগুলো বিদেশি দূতাবাস ও সরকারি কার্যালয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করে নি কোনো গ্রুপ। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আল জাজিরাকে বলেছেন, তাদের গ্রুপ এ হামলায় জড়িত নয়। পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছেন যে, হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৬০ জনেরও বেশি। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আফগান সংবাদ মাধ্যম টোলো নিউজের একজন আইটি প্রকৌশলী আজিজ নাউইন এবং বিবিসি’র একজন গাড়িচালক মোহাম্মদ নাজি। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিবিসি’র চার সাংবাদিক। জার্মান দূতাবাসের একজন আফগান নিরাপত্তা রক্ষীও হামলায় মারা গেছেন। হামলায় হতাহতের মধ্যে প্রধানত রয়েছে বেসামরিক আফগান সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশি দূতাবাসগুলোর কোনো কর্মীর প্রাণহানি হওয়ার খবর মেলেনি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুস্তাক রহিম বলেন, ‘এলাকাটি কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত। এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা চৌকি থাকার কারণে সাধারণত ট্রাফিক জ্যামও থাকে। আর এ কারণেই এতো বেশি বেসামরিক লোকের প্রাণহানি হয়েছে।’ ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ, ভেঙেপড়া দেয়াল, ভবন আর ধ্বংসপ্রাপ্ত গাড়ি। অনেক গাড়ির ভেতরে মৃত বা আহত ব্যক্তিদের দেখা যায়। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল জানান, আফগান একজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরণে জার্মান দূতাবাসের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ টুইট করে জানিয়েছেন, ভারতীয় দূতাবাসের সকল কর্মী নিরাপদ রয়েছেন। ফরাসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় তাদের দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার লক্ষণ দেখা যায় নি।
বিস্ফোরণের পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্স। সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের তোড়ে শত মিটার দূরের বাড়িঘর, দোকানপাটও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। জানালা, দরজা ছুটে যায় কপাট থেকে। কাবুলের স্থানীয় এক নিবাসী ফাতিমা ফাইজি বলেন, বিস্ফোরণ এতো জোরালো ছিল যে, এতে তার জানালার সব কাচ ভেঙেচুরে যায়।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা এমনকি এই পবিত্র মাস রমজানে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা থেকে বিরত হচ্ছে না।’ এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তান, ভারত, ফ্রান্স ও জার্মান কূটনীতিকদের বাসভবন বা কার্যালয়। পাকিস্তান হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর দরুন মানুষের মহামূল্যবান জীবনহানি হয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেন, জার্মান দূতাবাসের কর্মীরাও আহত হয়েছেন। এক আফগান নিরাপত্তা রক্ষীও নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হতাহতদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এই মানুষদের টার্গেট করা হয়েছে, এটিই বেশ জঘন্য একটি ব্যাপার।’ তিনি আরো বলেন, এ হামলার দরুন আফগান সরকারকে দেশে স্থিতিশীলতা আনয়নে সাহায্য করার ব্যাপারে জার্মানির অঙ্গীকারে চিড় ধরবে না। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন জসিম আল-থানি এই ‘সাংঘাতিক হামলা’র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, কাবুলে চালানো এই হামলার কড়া নিন্দা জানাই। কাতার সব ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ প্রত্যাখ্যান করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন