রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে প্রত্যাশা নেই

53

বাংলা কাগজ ডেস্ক: বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলিম ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু শরণার্থীদের বিষয়ে ট্রাম্পের যে অবস্থান- তাতে তার কাছে তিনি কিছু প্রত্যাশা করেন না। গতকাল সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে স্বল্প সময়ের সাক্ষাৎ হয় শেখ হাসিনার। পরে তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সাংবাদিক মাইকেল নিকোলস রয়টার্সে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতিসংঘে যোগ দিয়ে এতে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। এমন এক অনুষ্ঠান শেষে ট্রাম্প বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কয়েক মিনিটের জন্য থামান শেখ হাসিনা। পরে তিনি রয়টার্সকে বলেছেন, এ সময় তিনি (ট্রাম্প) শুধু জিজ্ঞাসা করলেন বাংলাদেশের কি খবর? জবাবে আমি বললাম খুব ভালো চলছে। কিন্তু একটিই সমস্যা রয়েছে। তা হলো, মিয়ানমার থেকে (বিপুল সংখ্যক) শরণার্থী এসেছে বাংলাদেশে। কিন্তু শরণার্থী প্রসঙ্গে তিনি (ট্রাম্প) কোনো মন্তব্যই করলেন না। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করে। রাখাইনে তাদের অভিযানের কারণে কমপক্ষে চারলাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে আশ্রয় নেন বাংলাদেশে। জাতিসংঘ একে জাতি নির্মূল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে মিয়ানমার সরকার বলছে, লড়াইয়ে প্রায় ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। তিনি বলেছেন, শরণার্থী ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার। তাই রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের বিষয়ে তার কাছে সহায়তা চাওয়া অর্থহীন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে তারা কোনো শরণার্থী অনুমোদন করবে না। তাহলে তাদের কাছ থেকে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আমি কি প্রত্যাশা করতে পারি। তিনি তো মানসিকতা পরিষ্কার করেছেনই। তাহলে আমি কেন তাকে আবার এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করবো? বাংলাদেশ কোনো ধনী দেশ নয়। কিন্তু আমরা যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি তাহলে আরো ৫ লাখ বা ৭ লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারবো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে শেখ হাসিনার এই কথোপকথন সম্পর্কে অবহিত নন হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। তবে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহ রয়েছে ট্রাম্পের। যদি এ ইস্যুটি সামনে আনা হয় তাহলে অবশ্যই তিনি তার সঙ্গে যুক্ত হবেন। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার অল্প পরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী কর্মসূচিতে ১২০ দিনের স্থগিতাদেশ দেন। কিন্তু সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য করা হয় তা। পরে তিনি ৬টি মুসলিম প্রধান দেশের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ দেন। ট্রাম্প বলেছেন, ওই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল সন্ত্রাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানোর জন্য। তবে তার এই নির্বাহী আদেশের বিষয়ে আগামী মাসে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনে বসবাস করেন প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংসতায় তাদের বেশির ভাগই পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব শরণার্থীকে যাতে ফেরত নিতে বাধ্য হয় এ জন্য মিয়ানমারের ওপর আরো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ প্রত্যাশা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির উচিত এটা মেনে নেয়া যে, এসব শরণার্থী তার দেশের মানুষ এবং তাদের দেশ মিয়ানমার। তাদের (মিয়ানমার সরকার) উচিত এদেরকে ফেরত নেয়া। শরণার্থীরা ভীষণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ না করায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে অং সান সুচি। সোমবার মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন রয়টার্সকে বলেছেন, যারা বাড়ি ছেড়ে গেছেন তারা ফিরতে পারবেন- এটা নিশ্চিত করবে মিয়ানমার। তবে এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া আলোচনা করতে হবে। ওদিকে রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। তিনি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষকে তাদের বাড়িঘরে নিরাপদে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন