সংবিধানে হাত দেয়ার সুযোগ নেই

35

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনের আগে সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ  নেই। নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী  নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালে বর্তমান সরকার সহায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। গতকাল রাজধানীর সেতু ভবনে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী একইসঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধানের বিষয়টির অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার প্রাথমিকভাবে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে।
বিশ্বজনমতও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আরো তৎপর হয়েছে। ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা হয়েছে। ভারত রোহিঙ্গা বিষয়ে তাদের সুর আগের চেয়ে অনেক জোরদার করেছে। আমরা মনে করি, আগে তারা সহযোগিতার কথায় ছিলেন। এবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  ঢাকা সফরে এসে প্রকাশ্যে বলে গেছেন, রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতেই হবে। ভারতও মিয়ানমারের ওপর চাপ দেয়া শুরু করেছে। আমেরিকা মিয়ানমারের ওপর আরো কঠিন অবরোধ আরোপের কথা ভাবছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এভাবে চাপ অব্যাহত থাকলে অবশ্যই মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় মিয়ানমারের ওপর আরো কঠিন চাপ অব্যাহত রাখবে। প্রয়োজনে অবরোধ আরোপ করা যেতে পারে। যেন তারা বাধ্য হয়ে নিজেদের নাগরিকদের বোঝা বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের শেষদিকে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ভারতে যাবে। সমপ্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া ভারতের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের আমন্ত্রণে এ সফরে যাবে প্রতিনিধি দলটি। সাক্ষাতে আলাপের বিষয়ে হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ যেভাবে সহযোগিতা করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টার প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ভারত বিশ্বাস করে, রাখাইনে শুধু সহিংসতা বন্ধ করলেই চলবে না। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আর রোহিঙ্গা সংকটের ইতি টানার জন্য কফি আনান কমিশনের সুপারিশ হতে পারে সঠিক সমাধান।
সিটিং সার্ভিস বন্ধে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা
এদিকে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই এ প্রতিবেদন জমা দেবে তদন্ত কমিটি। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, সড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জাবেদ পাটওয়ারী, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, ভৌত ও অবকাঠামো বিভাগের সচিব জুয়েনা আজিজ প্রমুখ। ওবায়দুল কাদের বলেন, সভায় আঞ্চলিক সড়ক এবং মহাসড়কগুলো রক্ষা করতে পরিবহনের ওভারলোড বন্ধ করতে সড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামকে প্রধান করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবে। ওই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, সড়ক ও মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন পরিবহন বন্ধে আরো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া যানবাহনের বডি থেকে বাম্পার, হুক, অ্যাঙ্গেল অপসারণ করতে হবে। যাত্রী বাসে ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত ৮০ ভাগ কার্যকর হয়েছে। তবে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানে কার্যকর হয়নি। কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ আমদানি বন্ধ করতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিও পেলে সরকার আমদানি বন্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সভা শেষে সড়কে নসিমন ও করিমন না চললে কম দূরত্বে মানুষ কিভাবে চলবে-এমন প্রশ্নের জবাবে হাইওয়ের বিভাগের মহাপরিচালক বলেন, এ জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা যায় কিনা সে বিষয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও বিআরটিসি’র বাস নামানো যায় কিনা তাও বিবেচনা করা হবে।

শেয়ার করুন