“ইকোনমিক হিটম্যান” (পূর্ব প্রকাশিতের পর)

22

জন পার্কিন্স : বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা জালাল কবির
বুশ-প্রশাসন দৃঢ়সংকল্প, তাদেরকে রেগানের চাইতে বেশি কর্মদক্ষ হতে হবে। পৃথিবীকে দেখাতে হবে, উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা যেকোন ধরনের ভয়ানক শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেনা। এটাও মনে হল, পানামায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূল একটি পুতুল সরকারের সহায়তায় টোরিয়াসের উত্তরাধিকার স্থলাভিষিক্ত করা ছাড়াও অন্য একটি উদ্দেশ্য ছিল, ইরাকের মত দেশগুলিকে আত্মসমর্পণের জন্য ভয় দেখানো।
ডেভিড হ্যারিস, নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনেরর একজন লেখক-সংবাদিক এবং অনেক বইয়ের গ্রন্থকার, একটি মজার পর্যবেক্ষণ করেছেন। ২০০১ সালে প্রকাশিত তার বই, ‘সুটিং দি মুন’ এ তিনি লিখেছেন:
পৃথিবীর সব কোণায় হাজার হাজার শাসক, নৃপতি, লৌহমানব, সামরিক শাসক, এবং যুদ্ধবাজ-নেতা, যাদের সাথে আমেরিকা কায়কারবার করেছে, তার মধ্যে জেনারেল ম্যানুয়েল এন্টোনিও নরিয়েগা একটি মাত্র একক উদাহরন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যার পশ্চাদ্ধাবন করেছে। জাতি হিসেবে গত ২২৫ বছরের আনুষ্ঠানিক অস্তিত্বের ইতিহাসে মাত্র একবারই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি দেশ আক্রমন করেছে। তার স্বীয়দেশে ‘আমেরিকান আইন’ ভঙ্গ করার অপরাধে বিচার করে জেল খাটানোর জন্য পানামার সরকার প্রধানকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ধরে নিয়ে এসেছে।
বোমাবর্ষনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আকষ্মিকভাবে নিজেকে একটি নাজুক অবস্থার মধ্যে দেখতে পেল। কিছু সময়ের জন্য, মনে হয়েছিল যেন পুরো ব্যাপারটিই উল্টো আক্রমন চালাবে। হয়ত বুশ-প্রশাসন ‘মস্তকাবরন-গুজবকে’ বাতিল ঘোষনা করেছিল। কিন্ত এটা এখন বৈধতার সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। প্রতীয়মান হয়েছিল, বলপ্রয়োগ করে দুর্বলকে ভয় দেখানোর সন্ত্রাসবাদী কর্মে সে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। গোপনীয়তার বেড়াজাল থেকে খবর বেরিয়ে এল, মার্কিন সেনাবাহিনী গুরুতরভাবে যেসব স্থানে বোমাবর্ষন করেছিল, তিনদিনের জন্য সেসব স্থানে সংবাদ-মাধ্যম, রেডক্রস, এবং অন্যান্য বাইরের পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল। এ সময়ে সৈন্যরা আগুন জ্বেলে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন ভষ্ম করে এবং মৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে দেয়। কত পরিমান অপরাধ ও অন্যায় কাজকর্মের প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে, এবং সময়মত চিকিৎসা না পাওয়াতে কতজন মারা গিয়েছিল, এসব প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিল । কিন্ত এসব প্রশ্নের উত্তর কখনও পাওয়া যায়নি।
আক্রমনের অনেক তথ্য আমরা কখনও জানতে পারব না। নির্বিচার ও নৃশংস হত্যাকান্ডের সত্য বিবরন কখনও জানব না। প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি রিচার্ড চেনী দাবী করেন, মৃতের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৬০০র মধ্যে। কিন্ত স্বাধীন মানবাধিকার গোষ্ঠির হিসেবে এ সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয় হাজার। আরো পঁচিশ হাজার বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। নরিয়েগাকে গ্রেপ্তার করে মিয়ামীতে প্লেনে নিয়ে আসা হয়। তার চল্লিশ বছরের জেল হয়। সে সময়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেই ছিল একমাত্র ব্যক্তি যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবন্দী হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল।
গ্রহের সবচাইতে শক্তিশালী সামরিক শক্তির হাতে এই আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ ও নিরস্ত্র জনসাধারনের অপ্রয়োজনীয় ধ্বংস হওয়ার কারণে পৃথিবী কুপিত হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুব কম লোকই পৃথিবীবাসির এই ক্রোধ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অপরাধ করেছিল, সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিল। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত। এর কারন অনেক, সরকারি নীতিসহ, প্রকাশক এবং টিভি-প্রশাসক, সংবাদদাতাদের কাছে হোয়াইট হাউসের ফোন। কংগ্রেসের সদস্যরা যারা আপত্তি জানানোর সাহস পায়নি, বলা যায়না, মস্তকাবরন-উপাদান আবার না তাদের সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, এবং যেসব সাংবাদিকরা মনে করেছিলেন জনতার কাছে বস্তুনিষ্ঠতার চাইতে নায়কদের জন্য যুদ্ধের প্রয়োজন বেশি।
পিটার আইসনার ছিলেন একটি ব্যতিক্রম। তিনি নিউজডে পত্রিকার একজন সম্পাদক, এসোসিয়েটেড প্রেসের রিপোর্টার। তিনি পানামা-আক্রমনের খবর দিতেন এবং পরে বেশ কয়েক বছর ধরে এ যুদ্ধের বিশ্লেষন করেন। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত পুস্তক, ‘দি মেমোরিজ অব ম্যানুয়েল নরিয়েগা এমেরিকা’স প্রিজনার’ তিনি লিখেছেন:
“মৃত্যু, ধ্বংস এবং অন্যায়- আঘাত করে মেশানো হয়েছে নরিয়েগার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সাথে- যেসব মিথ্যা এই ঘটনার চারদিকে ছড়িয়ে আছে- মার্কিন গণতন্ত্রের মূল নীতির জন্য সেসব হুমকি স্বরূপ। পানামাতে সৈন্যদের হত্যা করার আদেশ দেয়া হয়েছিল এবং যখন তাদের বলা হল, একজন নিষ্ঠুর, দুরাত্মা একনায়ক যে তার দেশকে লোহার বন্ধনী দিয়ে আটকে রেখেছে, সেই দেশকে মুক্ত করতে হবে। সে আদেশ তারা পালনও করেছিল। যখন তারা এ কর্মটি সম্পাদন করল, তাদের দেশের জনসাধারন সারিবদ্ধ হয়ে তাদের পেছনে কুচকাওয়াজ করেছিল।”
দীর্ঘদিন গবেষণা করার পর, মিয়ামী জেলখানায় তার সেলে নরিয়েগার সাথে সাক্ষাত করে, আইসনার বলেন:
“প্রধান ব্যাপারগুলি বিবেচনা করলে, আমি মনে করিনা যে এমন কোন প্রমান আছে, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, নরিয়েগা সে সব অপরাধে অপরাধী। আমি মনে করিনা- একজন বিদেশী সামরিক নেতা হিসেবে বা একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম প্রধান হিসেবে তার ক্রিয়াকান্ড, পানামা-আক্রমনকে ন্যায়সঙ্গত করে বা সে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার কোন হুমকি ছিল।”
আইসনারের সমাপ্তি-মন্তব্য:
“রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার বিশ্লেষন এবং আক্রমনের আগে ও পরে আমি পানামায় যে সব রিপোর্ট লিখেছি, সেসব মিলে আমাকে যে মন্তব্যে নিয়ে এসেছে তা হল, পানামায় মার্কিন-আক্রমন, শক্তির একটি ন্যাক্কারজনক অপব্যবহার। নীতিগতভাবে আক্রমনটি উদ্ধত আমেরিকান-রাজনীতিক ও তাদের পানামার মিত্রদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করেছে, যার মুল্য হল বিবেকহীন রক্তপাত।
আরিয়াস পরিবার এবং টোরিয়াস-পুর্ব ক্ষমতাগোষ্ঠি ছিল কলম্বিয়া থেকে পানামার বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে টোরিয়াসের ক্ষমতা নেয়া অবধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল। তারা আবার পুর্নপ্রতিষ্ঠিত হল। নতুন খাল-চুক্তি হল একটি অমীমাংসিত, বিতর্কীত প্রসঙ্গ। সংক্ষেপে, ওয়াশিংটন পুনরায় জলপথের নিয়ন্ত্রন-ক্ষমতা পেল। যদিও আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রে এর কোন উল্লেখ নেই”।
এই সব ঘটনা নিয়ে আমি যখন ভাবছি এবং মেইনে কাজ করার সময় যা কিছু অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, সবকিছুর পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে বার বার একই প্রশ্নের উদয় হল। কত ধরনের সিদ্ধান্ত- একটি মহান ঐতিহাসিক গুরুত্ব যার মধ্যে অন্যতম, যা লক্ষ লক্ষ জনতার উপরে প্রভাব বিস্তার করবে, তার উৎপত্তি নারী-পুরুষের সঠিক কাজ করার সদিচ্ছা থেকে নয় বরং তারা ব্যক্তিগত প্রবৃত্তির দ্বারা চালিত হন। এদের সংখ্যা কত? আমাদের সেরা সরকারী কর্মচারীর মধ্যে ক‘জন জাতীয় বিশ্বস্ততার বদলে ব্যক্তিগত লোভের দ্বারা সচল থাকেন? প্রেসিডেন্টকে যেহেতু নির্বাচকমন্ডলীর সদস্যরা অসৎ মনে করেন, এ কারনে কতগুলি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে ?
এসডাব্লিওইসির (SWEC) প্রেসিডেন্টকে কথা দেয়া সত্তে¡ও, এখন আমি টোরিয়াসের উপরে ‘দৃষ্টিপাত করব, এ চিন্তাটি ছাড়াও পানামা আক্রমনের প্রেক্ষিতে আমার হতাশা এবং অক্ষমতার বোধ, বই লেখা পুনরায় শুরু করার জন্য আমাকে খোঁচাতে থাকল। এসব কাহিনী দ্বারা আমাদের পৃথিবী যেসব অন্যায় কর্তৃক জর্জরিত তার অনেকগুলি আমি উদঘাটন করার এবং আমার অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাবার উপায় হিসেবে দেখেছিলাম। অবশ্য এবার আমি সংকল্প করেছিলাম, যা করছি সে ব্যাপারে বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে তার জন্য কোন পরামর্শ না চেয়ে বরঞ্চ তা গোপন করব।
বইটির কাজ যখন করছিলাম, অনেক জায়গায় মেইন যা সুসম্পন্ন করেছে তার পরিমান দেখে আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি। আমি চেষ্টা করলাম যে দেশগুলি আমার নজরে এরমধ্যে কয়েকটি দেশে আমার মনোযোগ সীমিত রাখতে। কিন্ত যেসব জায়গায় আমি কাজ করেছি, এবং পরবর্তীকালে যেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, তাদের তালিকা বিষ্ময়কর। আমি আমার নিজের দুর্নীতির পরিমান দেখে আতঙ্কিত হয়ে গেলাম। আমি অনেক সময় ধরে আত্মার সন্ধান করেছি। তবুও আমার মনে হয়েছিল, যখন আমি এসব ব্যাপারের ভেতরে (চাকুরিতে) ছিলাম, তখন আমার দৈনন্দিন কর্মসুচি নিয়ে এতটা ব্যস্ত ছিলাম যে আমি বৃহত্তর অবস্থানগত সঠিক দৃষ্টিপাত করতে পারিনি। সেজন্য, যখন ইন্দোনেশিয়াতে ছিলাম, আমি হাওয়ার্ড পার্কারের কার্যকলাপে বিক্ষুব্ধ হয়ে বা রাসির ইন্দোনেশিয়ান তরুন বন্ধুরা যেসব বিষয় উত্থাপন করত সেসব নিয়ে আলোচনা করতাম। পানামায় কাজ করার সময়, ফিডেল যখন আমাকে বস্তি, খাল অঞ্চল, এবং ডিস্কো দেখাতে নিয়ে যেত, যা অবলোকন করতাম এবং এসবের নিহিত অর্থ নিয়ে আমি কত ভীষনভাবে রোমাঞ্চিত হতাম। ইরানে ইয়ামিন এবং ডকের সাথে আমার কথাবার্তা আমাকে ভয়ানকভাবে শিহরিত করেছিল। এখন, এই বইটি লিখতে গিয়ে আমি বহির্ভাগের একটি চিত্র পেয়েছি। আমি বুঝতে পেরেছিলাম বৃহত্তর ছবি না দেখাটি কত সহজ এবং সেজন্য নিজস্ব ক্রিয়াকর্মের সঠিক গুরুত্বটি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম।
কতই না সহজ এর আওয়াজ, এবং কত স্বতঃসিদ্ধ। তবুও এ ধরনের অভিজ্ঞতার প্রকৃতি অলক্ষ্যতে কত অনিষ্টকর। আমার জন্য এটি একজন সৈনিকের প্রতিচ্ছবির ভেল্কিবাজী। শুরুতে সে খুবই সরল। সে হয়ত অন্যকে হত্যা করা নিয়ে নীতির প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্ত বেশির ভাগ তাকে তার নিজস্ব ভীতির সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হয়, নিজের জীবন টিকিয়ে রাখার উপর মনোযোগ দিতে হয়। প্রথমবার সে যখন তার শত্রকে হত্যা করে, সে আবেগের তাড়নায় ভেসে যায়। সে হয়ত নিহতের পরিবারের জন্য ব্যাকুল হয়ে এ ধরনের অনুশোচনা অনুভব করে। কিন্ত সময় যতই যায় এবং সে আরও অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে, আরও অনেক হত্যা করে, তার মন কঠিন হয়ে যায়। সে একজন পেশাদার সৈনিকে রূপান্তরিত হয়।
আমিও একজন পেশাদার সৈনিকে পরিনত হয়েছিলাম। এ সত্যটি স্বীকার করলে পদ্ধতিটি ভালো করে উপলব্ধির দরজাটি খুলে যায়। যে পদ্ধতিতে অপরাধ সংঘটিত এবং সা¤্রাজ্য গঠিত হয়। আমি এখন সম্যক অনুভব করতে পারি কেন বহু ব্যক্তি নৃশংস কাজ করে? উদাহরনস্বরূপ, উত্তম পরিবারপ্রেমী ইরানীরা শাহের নিষ্ঠুর গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগে কীভাবে কাজ করতে পেরেছিল? কীভাবে হিতকারি জার্মানরা হিটলারের আদেশ অনুসরন করেছিল? ভালো আমেরিকান নারী-পুরুষেরা পানামা সিটিতে কিভাবে বোমাবর্ষণ করেছিল?
একজন ইএইচএম হিসেবে, আমি কখনও এনএসএ বা অন্য কোন সরকারি সংস্থা থেকে সরাসরি একটি পেনীও উপার্জন করিনি। মেইন আমাকে বেতন দিয়েছে। আমি একজন বেসামরিক নাগরিক ছিলাম। একটি প্রাইভেট কর্পোরেশন আমাকে চাকরি দিয়েছিল। এই অনুধাবন আমাকে কর্পোরেট-প্রশাসক হিসেবে ইএইচএমের উত্থানশীল ভুমিকা আরও স্পষ্টভাবে দেখতে সাহায্য করেছিল। বিশ্বের মঞ্চে গোটা একটি নতুন শ্রেণীর সৈন্যদলের আগমন ঘটছিল। এইসব ব্যক্তিরা নিজস্ব ক্রিয়াকর্মের প্রতি উদাসীন ও নির্বিকার হয়ে উঠছিল। আমি লিখলাম:
আজ আমেরিকান নারী-পুরুষ, থাইল্যান্ড ফিলিপাইন বোতসোওয়ানা বলিভিয়া এবং অন্য প্রতিটি দেশে যাচ্ছে, যেখানে তারা আশা করে জনতার সন্ধান পাবে যারা কাজের জন্য বেপরোয়া। এইসব দেশে তারা যায়, দুস্থ জনসাধারনকে শোষন করার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য ও বাসনা নিয়ে। জনসাধারন যাদের সন্তানেরা ভীষনভাবে অপুষ্টির শিকার, এমনকি অনাহারে থাকে। জনসাধারন যারা শহরের বস্তি এলাকায় ঝুপড়ি ঘরে থাকে এবং একটি সুস্থ জীবনের সমস্ত আশা ত্যাগ করেছে। যারা এমনকি আরেক দিনের স্বপ্ন দেখাও বাদ দিয়েছে। আমেরিকান এইসব নারী-পুরুষেরা ম্যানহাটান বা সান ফ্রান্সিস্কো বা শিকাগোর বিলাসবহুল অফিস থেকে বিদায় নিয়ে, ভোগবিলাসের জেটপ্লেনে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে, এক মহাসাগর থেকে আরেক মহাসাগরে বিদ্যুতবেগে ছুটে বেড়ায়। প্রথম শ্রেণীর হোটেলে রাত্রি যাপন করে। ঐ সব দেশের সর্বোৎকৃষ্ট বিলাসী রেষ্টুরেন্টে খানা খায়। তারপর বেপরোয়া ব্যক্তিদের খোঁজে বের হয়।
আজও আমাদের দাস-ব্যবসায়ী রয়েছে। প্রধান নমুনা খোঁজার জন্য তাদের এখন আর আফ্রিকার জঙ্গলে ছুটে যাবার প্রয়োজন হয় না, ওরা চার্লেস্টন, কার্টাজেনা, এবং হাভানার নিলাম চত্বরে সর্বোচ্চ ডলারে বিক্রি হয়। তারা শুধুমাত্র বেপরোয়া জনতাকে রিক্রুট করার পর একটি ফ্যাক্টরি নির্মান করে।
যেখানে জ্যাকেট, নীল-জীনস, টেনিস-জুতা, মটরের পার্টস, কম্পুটারের খুচরা যন্ত্রপাতি, এবং হাজার রকমের অন্য সামগ্রীর উৎপাদন করা হয়। এসব পণ্য তারা তাদের পছন্দমত বাজারে বিক্রয় করতে পারে। বা এমনকি তারা ফ্যাক্টরির মালিকানা না নেবার সিদ্ধান্তও নিতে পারে। বদলে, তারা স্থানীয় একজন ব্যবসায়ীকে ভাড়া করে। যে তাদের জন্য সমস্ত নোংরা কাজগুলি সম্পন্ন করে। (চলবে)

শেয়ার করুন