“ইকোনমিক হিটম্যান” (পূর্ব প্রকাশিতের পর)

25

জন পার্কিন্স : বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা জালাল কবির
বৈশ্বিক সাম্রাজ্যের দিকে কুঁচকাওয়াজ, একটি বাস্তব রূপ নিয়েছিল। যেখানে দেশের অধিকাংশই (জনমত) অংশ নিয়েছিল। আমাদের মনমানসিকতার আভ্যন্তরীন পথে দ্বৈত আদর্শ- বিশ্বায়ন এবং ব্যক্তিমালিকানার উল্লেখযোগ্য অনুপ্রবেশ ঘটেছিল।
চূড়ান্ত বিশ্লেষনে, এটি একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বৈশ্বিক সাম্রাজ্য ঠিক এ রূপটিই ধারন করে সমস্ত দেশের সীমান্ত অতিক্রম করেছিল। যাদের আমরা আগে মার্কিন-কর্পোরেশন বলে মনে করতাম, তারা এখন সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক, এমনকি একটি আইনগত অবস্থান থেকেও। এদের মধ্যে অনেকেই বিপুল সংখ্যক দেশের মধ্যে একীভুত হয়ে গিয়েছিল। তারা একটি রকমারি আইন এবং বিধি-নিয়ন্ত্রণের সমষ্টি থেকে ইচ্ছামত বেছে নিতে পারত, যার অধীনে তারা তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। এমনকি একটি বিরাট পরিমাণের বিশ্বায়ন, বাণিজ্য, মতৈক্য ও চুক্তি এবং সংস্থা এসব আরো সহজ করে দিয়েছিল। শব্দাবলী যেমন, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, প্রায় সেকেলে-অপ্রচলিত, অথচ এর বিপরীতে কর্পোরেটোক্রেসী একটি বাস্তব সত্য হয়ে গিয়েছিল। বর্ধিতহারে এই শব্দটি পৃথিবীর অর্থনীতি এবং রাজনীতির উপরে একমাত্র প্রধান প্রভাব হিসেবে নিজেকে প্রয়োগ করছিল।
ঘটনার একটি আজব মোচড়ে, আমি কর্পোরেটোক্রেসীর প্রলোভনে পড়ে গিয়েছিলাম। যখন আমি নভেম্বর ১৯৯০ সালে আইপিএস বিক্রি করে দিলাম যা আমার অংশীদার এবং আমার জন্য একটি লোভনীয় কারবার হয়েছিল। আসলে কিন্তু আসল্যান্ড তেল কোম্পানি আমাদের উপরে সাংঘাতিক চাপ দিয়েছিল, মুলতঃ সে কারনেই আমরা বিক্রি করেছিলাম। অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানতাম, তাদের সাথে লড়াই করা নানাভাবে আমাদের জন্য অত্যন্ত মহার্ঘ হবে। অন্যদিকে, বিক্রি করলে আমরা ধনবান হব। যাই হোক, নিয়তির পরিহাস হিসেবে এটা আমাকে আঘাত দিয়েছিল, একটি তেল কোম্পানি আমার বিকল্প এনার্জি কোম্পানির নতুন মালিক হবে। আমার একটি অংশের অনুভুতি ছিল বিশ্বাসঘাতকের মত।
এসডাবিøওইসি আমার সময়ের খুব কম দাবিই করত। মাঝে মাঝে মিটিংএর জন্য আমাকে প্লেনে বোষ্টনে যেতে হত বা একটি ব্যবসার প্রস্তাব তৈরিতে সাহায্য করতে হত। আমাকে মাঝে মাঝে ব্রাজিলের ‘রিও ডি জেনিরোর’ মত শহরে পাঠানো হত। সেখানে যারা ব্যবসার ধারক-বাহক, তাদের সাথে মেলামেশা করতে হত। একবার আমি একটি প্রাইভেট জেট প্লেনে গুয়াতেমালাতে গিয়েছিলাম। আমি প্রায়ই প্রকল্প-ম্যানেজারদের ফোন করতাম। তাদের স্মরণ করিয়ে দিতাম আমি এখনও বেতন পাই এবং পরামর্শ দেবার জন্য প্রাপ্তিসাধ্য। সামান্য কাজ আর তার জন্য প্রচুর বেতন, আমার বিবেকে বাঁধত। আমি ব্যবসা ভালো বুঝতাম এবং অন্তত প্রয়োজনীয় কিছু দায়িত্ব পালন করতে চাইতাম। কিন্তু আমার কর্মতালিকায় এ ধরনের কিছু ছিল না।
আমি মাত্র একজন মাঝখানের ব্যক্তি, এ চিন্তা আমাকে তাড়া করে ফিরত। সক্রিয়ভাবে আমি কিছুটা অংশ নিতে চাইতাম যা আমার অস্তিত্বকে ন্যায্য প্রমান করতে পারে। তা হয়ত আমার অতীতের সমস্ত নেতিবাচক কার্যকলাপকে সামান্য ইতিবাচকে রূপান্তর করতে পারত। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে আমার কাজ করে যেতে থাকলাম। খুবই অনিয়মিতভাবে Conscience of an Economic Hit Man’ বইটির কাজও করতাম। কিন্ত তবুও এটা যে কখনও প্রকাশিত হবে, এরকম ধারনা করে আমি নিজেকে প্রতারণা করিনি।
১৯৯১ সালে সময় কাটানোর জন্য, আমি আমাজন এলাকায় সুয়ার্স আদিবাসিদের সঙ্গে থেকে এবং তাদের কাছে শিক্ষা নিয়ে কয়েকটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠিকে পথ-প্রদর্শন করা শুরু করেছিলাম। পরিবেশগত তত্ত্বাবধান ও দায়িত্ব পালন এবং দেশজ পদ্ধতিতে রোগ সারানোর কৌশল কি তা জানার জন্য আদিবাসিদের বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরবর্তী কয়েক বছরে এ ধরনের সফরের দাবী খুবই দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল। যার ফলে ‘ড্রিম চেঞ্জ কোয়ালিশন’ নামের একটি বিনালাভের সংস্থা গড়ে উঠেছিল। শিল্প-সমৃদ্ধ দেশগুলির নাগরিকরা যেভাবে পৃথিবী এবং এর সাথে আমাদের সম্পর্ককে অবলোকন করে, তার পরিবর্তন সাধন করার জন্য ‘ড্রিম চেঞ্জ’ পৃথিবীর সর্বত্র সমতুল্য আদর্শে অনুরূপ প্রতিষ্ঠান গঠন করার জন্য অনেক দেশে আগ্রহী ব্যক্তিদের ক্ষমতা প্রদান করেছিল। টাইম ম্যাগাজিন এই প্রতিষ্ঠানকে মোট তেরোটি সংস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, যাদের ওয়েবসাইট ‘পৃথিবীর দিন’ (Earth Day) আদর্শ এবং উদ্দেশ্য সবচাইতে ভালোমত প্রতিফলিত করত।
গোটা ১৯৯০ দশকে, আমি ক্রমশঃ বিনালাভের পৃথিবীতে জড়িত হয়ে পড়েছিলাম। আমি অনেক প্রতিষ্ঠান গঠনে সহায়তা করেছি এবং অন্য অনেক সংস্থার পরিচালনা-কমিটিতে কাজ করেছি। এদের মধ্যে অনেকগুলি প্রতিষ্ঠান, ‘ড্রিম চেঞ্জের’ নিবেদিত-প্রাণ সদস্যদের অনুপ্রেরণায় ল্যাটিন আমেরিকার দেশজ জনসাধারনের সঙ্গে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিল- আমাজনের সুয়ার্স এবং আচুয়ার্স, আন্দিজের কোয়েচুয়াস, গুয়াতেমালার মায়া। এই সমস্ত দেশজ গোষ্টির সংস্কৃতি সম্মন্ধে তারা (ড্রিম একচেঞ্জ এর অনুসারীরা) মার্কিন যুক্তরাষ্ট ও ইউরোপে লোকজনদের শিক্ষা দিত। এসডাব্লিওইসি এই সমস্ত লোকহিতকর কাজ অনুমোদন করত। এসব ঐক্যের পথ তাদের নিজস্ব প্রতিশ্রুতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। আমি আরও অনেক বই লিখেছিলাম। সবসময় সতর্কতার সাথে দেশজ-শিক্ষার বর্ণনা দিতাম। আমার ইএইচএম-সংশ্লিষ্ট কাজকর্মের কথা এড়িয়ে যেতাম। আমার বিরক্তি দূর করা ছাড়াও এসব কার্যকলাপ, লাটিন অমেরিকা এবং আমার প্রিয় রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর সাথে আমার সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল।
কিন্তু আমি যতই নিজেকে যথাসাধ্য আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলাম, আমার বিনালাভের কাজকর্ম এবং লেখালেখি একটি ভারসাম্য নিয়ে এসেছে। আমি আমার অতীত কার্যকলাপের জন্য গুনাহগারি দিচ্ছি (অনুতাপ) দেখতে পেলাম ক্রমেই এসব কঠিন হয়ে উঠছিল আমার হৃদয়ে। আমি জানতাম কন্যা জেসিকার প্রতি আমার যে কর্তব্য তা আমি অবহেলা করছিলাম। উত্তরাধিকারসুত্রে জেসিকা এমন একটি পৃথিবীকে পাচ্ছিল, যেখানে লক্ষ লক্ষ শিশু ঋণের জিনে চড়ে জন্ম নিচ্ছে। যে ঋণ তারা কখনই শোধ করতে সক্ষম হবে না। শেষ অবধি আমাকে এর দায়িত্ব স্বীকার করে নিতে হয়েছিল।
আমার বইয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। বিশেষ করে, ‘দি ওয়ার্ল্ড ইজ এজ ইউ ড্রিম ইট।’ এর সফলতার প্রেক্ষিতে আমার বক্তৃতা শোনার ও বিভিন্ন কর্মশালায় যোগদান করার দাবীও বৃদ্ধি পেয়েছিল। মাঝে মাঝে বোস্টন, নিউইয়র্ক, মিলানে শ্রোতাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি বক্রাঘাতের মুখোমুখি হতাম। যদি ‘পৃথিবী তাই হয় যা আপনার স্বপ্ন’ তাহলে আমি কেন এধরনের একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলাম? এরকম একটি দুঃস্বপ্নের স্পষ্ট প্রকাশের জন্য কিভাবে আমি একটি সক্রিয় ভ‚মিকার ব্যবস্থা করতে পেরেছিলাম?
১৯৯৭ সালে, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ‘সেন্ট জন’ দ্বীপের একটি বিশ্রাম-ভবনে অবস্থিত ওমেগা ইনস্ট্যুটে আমাকে এক সপ্তাহের জন্য কর্মশালা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। অনেক রাতে আমি পৌছেছিলাম। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি একটি সরু ব্যালকনি দিয়ে হেঁটে বাইরে উপসাগরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম, সতেরো বছর আগে এ দৃশ্য আমি দেখেছিলাম। তখন আমি মেইন ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেই। আবেগের তাড়নায় একটা চেয়ারে ধপ করে বসে পড়লাম।
সারা সপ্তাহ ধরে, আমার বেশির ভাগ ছুটির সময় আমি এই ব্যালকনিতে কাটিয়েছি। লাইনস্টার উপসাগরের দিকে তাকিয়ে আমার অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করেছি। আমার উপলব্ধি হয়েছিল যদিও আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি, আমি পরবর্তী পদক্ষেপ নেইনি। আমার মাঝামাঝি থাকার সিদ্ধান্ত ছিল ঠিক একই মাপের বিধ্বস্তকারি মাশুল। সপ্তাহের শেষে, আমি ফয়সালা করেছি, আমার চারদিকের পৃথিবী এবং আমি যে পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে চেয়েছি, তা এক নয়। আমার তাই করা একান্ত প্রয়োজন যা আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছিলাম- আমার স্বপ্ন সব বদল করতে হবে এমন একটি ধারায় যা আমার জীবনে আমি সত্যিকার অর্থে চেয়েছিলাম এবং যার সঠিক প্রতিফলন হবে।
বাড়ি ফিরে এসে, আমি কর্পোরেট-পরামর্শদাতার চাকরি ছেড়ে দিলাম। এসডাব্লিওইসির প্রেসিডেন্ট, যিনি আমাকে ভাড়া করেছিলেন, ইতিমধ্যে অবসর নিয়েছিলেন। তার জায়গায় এক নতুন লোক এসেছিল, যে আমার চাইতে বয়েসে ছোট। আমি স্পষ্টই বুঝতে পেরেছিলাম, আমার কাহিনী শোনার তার কোন আগ্রহ নেই। সে ব্যয়সংকোচের একটি কর্মসুচি গ্রহন করেছিল। সে বরং খুশী। আমাকে আর তাকে মোটা বেতন দিতে হবে না।
দীর্ঘদিন ধরে যে বইটি লিখছিলাম, সিদ্ধান্ত নিলাম সেটা আগে শেষ করতে হবে। সিদ্ধান্তটি আমার জন্য একটি চমৎকার মুক্তির হাওয়া বয়ে নিয়ে এসেছিল। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আমার লেখার ব্যাপারে আমি ভাব বিনিময় করতাম। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল বিনালাভের পৃথিবীতে। তারা দেশজ কৃষ্টি ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বন-জঙ্গলের সুরক্ষার সাথে জড়িত। আমি বিষ্মিত হয়েছিলাম, তারা সবাই হতাশ। তাদের ভয়, বাইরে বলাবলি করলে আমার শিক্ষকতার কাজটি দুর্বল হয়ে পড়বে। আমি যেসব বিনালাভের সংস্থাকে সমর্থন দিতাম সেগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আমাদের অনেকেই আমাজন-আদিবাসীদের তেলকোম্পানির গ্রাস থেকে তাদের ভুমি রক্ষায় সাহায্য করছিল। আমাকে তারা বলেছিল, প্রকাশ্যে সব কথা প্রকাশ করলে আমার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুন্ন হতে পারে। হয়ত গোটা আন্দোলনই পিছিয়ে যেতে পারে। কয়েকজন সমর্থন প্রত্যাহার করার ভয়ও দেখিয়েছিল।
সুতরাং, আবার একবার আমি লেখা বন্ধ রাখলাম। পরিবর্তে, আমাজন অঞ্চলের প্রতি গভীর মনোযোগ দেবার জন্য আমি লোকজনকে উৎসাহিত করেছি। তাদের একটি জায়গা ও একটি আদিবাসী গোষ্ঠির সাথে পরিচয় করিয়েছি, যাদের অধিকাংশই আধুনিক পৃথিবীর স্পর্স থেকে বঞ্চিত। আসলে, ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর আমি এ জায়গাতেই ছিলাম।
অধ্যায়-৩২
সেপ্টেম্বর ১১ এবং আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে এর পরিণাম
২০০১ সাালের ১০ই সেপ্টেম্বর, আমি সাকাইম চুম্পির সাথে ইকুয়েডরের আমাজনে একটি নদীতে ভ্রমন করছিলাম। সে আমার বই, ‘স্পিরিট অব দি সুয়ার’ বইয়ের সহ-লেখক। ষোলোজন উত্তর আমেরিকানের একটি দলকে রেইন-ফরেষ্টের গভীরে তার সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলাম। এদের সাথে পরিচিত হবার এবং তাদের মুল্যবান রেইন-ফরেষ্ট সংরক্ষণে সহায়তা করার জন্য দর্শনার্থীরা এসেছিল।
সাকাইম সাম্প্রতিক ইকুয়েডর-পেরুর সংঘর্ষে সৈন্য হিসেবে লড়েছে। তেলব্যবহারকারী অধিকাংশ দেশের জনসাধারন কখনই এ যুদ্ধের কথা শোনেনি। যদিও এ যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল মুলতঃ তাদেরকে তেল সরবরাহের জন্য। বহু বছর ধরে যদিও এ দুটি দেশের সীমানা নিয়ে সংঘাত ছিল, শুধুমাত্র সম্প্রতি একটি প্রস্তাব খুবই জরুরী হয়ে পড়েছিল। অত্যাবশ্যকতার কারন, তেল কোম্পানিগুলির জানা দরকার হয়ে পড়েছিল, তেল-সমৃদ্ধ এই দেশদুটির কিছু বিশিষ্ট অঞ্চলে ব্যবসার অধিকার পাবার জন্য, তারা কোন দেশের সাথে আলাপ-আলোচনা করবে? এজন্য দুটি দেশের মধ্যে সীমান্ত চিহ্নিত করার প্রয়োজন। সুয়ার গোষ্ঠি ইকুয়েডরের প্রতিরক্ষার প্রথম সারি। তারা নিজেদেরকে দুর্দান্ত ও নিষ্ঠুর যোদ্ধা হিসেবে প্রমান করেছে। প্রায়ই তারা তাদের চেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং উন্নততর অস্ত্রধারীদের পরাস্ত করেছে। সুয়াররা যুদ্ধের পশ্চাতে রাজনীতি বা এই প্রস্তাব গ্রহন করা হলে তেল কোম্পানিগুলির সামনে দুয়ার খুলে যাবে, সে সম্পর্কে কিছুই জানত না। তারা যুদ্ধ করেছিল কারন তারা একটি যোদ্ধার ঐতিহ্যের দীর্ঘ দিনের ধারক ও বাহক। তারা কখনই বিদেশী সৈন্যদের তাদের এলাকায় ঢুকতে দেবে না।
নদীতে নৌকা বিহারের সময়, মাথার উপর দিয়ে আমরা এক দল টিয়াপাখীর কিচিরমিচির করে উড়ে যেতে দেখলাম। আমি সাকাইমকে জিজ্ঞেস করলাম, এখনও যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরী রয়েছে কিনা? (চলবে)

শেয়ার করুন