“ইকোনমিক হিটম্যান” (পূর্ব প্রকাশিতের পর)

46

জন পার্কিন্স : বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা জালাল কবির
দেয়ালের কোণায় এবং প্রশস্ত- চৌদ্দ নম্বর ওয়াল স্ট্রীটের এই বিল্ডিং-নির্মাণের পেছনে রয়েছে সেই ডিজাইন-কল্পনাটি। তার সময়ে পৃথিবীর সবচাইতে উঁচু ব্যাংক-ভবন, ৫৩৯ ফিট গগনচুম্বি উচ্চতা। ব্যাংকার্স-ট্রাস্টের সদর দফতরের আদি বাসস্থান, দেশের সবচাইতে ধনবান ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সংস্থার অন্যতম”।
আমি সম্ভ্রম ও আতঙ্ক নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে বিল্ডিংটিকে দেখছিলাম। গত শতাব্দির সমাপ্তির কিছু সময় পরেই, ১৪, ওয়াল স্ট্রীট সেই ভ‚মিকাটি নিয়েছিল, যে দায়িত্বটি পরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার পালন করেছিল। অর্থনৈতিক-কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার এটি ছিল উজ্জল প্রতীক। এখানে ব্যাংকার্স-ট্রাস্টের অফিসও ছিল। অন্যতম একটি ফার্ম যাকে আমার এনার্জি কোম্পানির আর্থিক সহায়তার জন্য আমি নিয়মিত কাজে লাগাতাম। এটা আমার উত্তরাধিকারের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। একজন সৈন্যের স্বত্বাধিকার, যেমন বৃদ্ধ আফগানটি তার তীক্ষ্ম বুদ্ধি দিয়ে এটা ব্যাখ্যা করেছিল।
তার সাথে কথা বলে, আমি এখানেই দিনটি শেষ করেছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছিল এটি একটি অদ্ভুত আকষ্মিক যুগপৎ সংঘটন। সমকালীনতা শব্দটি আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম, কিভাবে যুগপৎ ঘটনার প্রতিক্রিয়া আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। আজকের এই ঘটনার প্রতি আমার প্রতিঘাত কি হবে?
হাঁটতে হাঁটতে আমি ভীড়ের লোকদের মুখ পর্যবেক্ষন করে, তার কোন চিহ্ন দেখতে পেলাম না। পরের বিল্ডিংএ একটি প্রকান্ড মুর্তি নীল প্লাস্টিকে মোড়া। অট্টালিকার দেয়ালের পাথুরে উৎকীর্ণ মুখমন্ডল দেখে জানা যায়, এটি ফেডারেল হল, ২৬, ওয়াল স্ট্রীট যেখানে ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্বভার গ্রহনের শপথ গ্রহণ নিয়েছিলেন। এটাই সেই স্থান যেখানে দেশের প্রথম ব্যক্তিটিকে সমস্ত জনসাধারনের জীবনের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং সুখের পশ্চাদ্ধাবনের নিশ্চয়তা সাধনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তার শপথ গ্রহণের এই ছিল প্রকৃত অর্থ। গ্রাউন্ড জিরোর এত নিকটে, ওয়াল স্ট্রীটের এতটা কাছে।
আমি অট্টালিকার সারির পাশ দিয়ে হেঁটে পাইন স্ট্রীটে এলাম। এখানে আমি চেজ-ভবনের সামনা সামনি ডেভিড রকফেলারের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের সদর দফতরের সামনে এলাম। একটি ব্যাংক- তেলের টাকা দিয়ে তার বৃক্ষরোপন এবং আমার মত লোকেরা যার ফল আহরন করে। এ ব্যাংকটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যে ইএইচএমকে সহায়তা করত এবং বিশ্বসাম্রাজ্য উন্নয়নের কুশলী কারিগর ছিল। আমার বিবেচনায় এটি কর্পোরেটোক্রেসীর প্রতীক।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার সম্মন্ধে আমি যা পড়েছি, তা স্মরণে এল। ১৯৬০ সালে ডেভিড রকফেলার এই প্রকল্পটি শুরু করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই জটিল-সম্পর্কিত সংগঠনটিকে আলবাট্রস বলে বিবেচনা করা হয়। এর কুখ্যাতি ছিল যে এটি একটি অর্থনৈতিক বেমানান প্রতিষ্ঠান। আধুনিক তন্তু-দৃষ্টিশক্তি ও ইন্টারনেট প্রকল্পের জন্য একদম বিসদৃশ। একটি অযোগ্য এবং দামী গুদামঘর-পদ্ধতির ভারে জর্জরিত। ঐ দুটি টাওয়ারকে এক সময়ে ডেভিড এবং নেলসন বলে ডাকা হত। এখন আলবাট্রাস পক্ষীটি অদৃশ্য।
আমি আস্তে আস্তে এবং প্রায় নিরাসক্তি নিয়ে হাঁটতে থাকলাম। অপরাহ্নের উষ্ণতা সত্তে¡ও, আমার ঠান্ডা বোধ হল। আমি উপলব্ধি করলাম, একটি আজব উদ্বেগ, অশনী-সঙ্কেত আমাকে গ্রাস করেছে। আমি এর উৎসকে সনাক্ত করতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবে হাঁটা শুরু করে একে কোন পাত্তা না দেবার চেষ্টা করলাম। পরিশেষে আবার আমি নিজেকে আবিস্কার করলাম; ধুমায়িত গর্ত এবং পৃথিবী-পৃষ্ঠের ক্ষতচিহ্নকে অবলোকন করছি। ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া একটি বিল্ডিংএ ঠেস দিয়ে মৃত্তিকাগহ্বরের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কল্পনায় দেখার চেষ্টা করেছি, ভেঙ্গে পড়া টাওয়ার থেকে লোকজন দ্রæতবেগে বাইরে আসছে এবং ফায়ারব্রিগেডের লোকেরা তাদের সাহায্য করার জন্য দৌড়ে যাচ্ছে। আমি ভাবতে চেষ্টা করলাম, সেই সব ব্যক্তিদের কথা, যারা উঁচু থেকে লাফ দিয়েছিল এবং কি ধরনের বেপরোয়াবোধ তাদের মধ্যে ছিল।
এর বদলে আমি (মনঃশ্চক্ষুতে) দেখতে পেলাম, বিন লাদেন একটি পরামর্শদাতা কোম্পানিতে নিযুক্ত এক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দামের অস্ত্র গ্রহণ করছে। কোম্পানিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ। তারপর দেখতে পেলাম, আমি একটি কম্পুটারের সামনে বসে আছি, যার পর্দা খালি।
গ্রাউন্ড জিরো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমি চারদিকে তাকালাম। নিউ ইয়র্ক এর রাস্তায়, যেসব আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। আমি ভাবলাম, যারা এইসব রাস্তা দিয়ে হাটছে, সেইসব পথচারীরা আজ এসবকিছু নিয়ে কি চিন্তা করছে? শুধুমাত্র টাওয়ার দু’টির ধ্বংস নিয়ে নয়। ডালিম বাগানের বিনাশ এবং ২৪ হাজার লোকের কথাও, যারা প্রতিদিন অনাহারে মারা যায়। আমার ভাবনা ছিল, যদি তারা আদৌ এধরনের ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায়, যদি তারা তাদের চাকরি-বাকরি, গোগ্রাসে গেলা তেলের মটরগাড়ি এবং জমানো টাকার সুদ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করতে পারে। ততটা সময়ের জন্য, যতটা সময় তাদের প্রয়োজন এ অনুধাবনের জন্য। পৃথিবীকে তারা কি দিয়ে যাচ্ছে, যা পরে হবে তাদের সন্তানদের উত্তরাধিকার। আমি চিন্তা করলাম, তারা আফগানিস্থান সম্পর্কে কি জানে? টেলিভিশনে দেখা আফগানিস্থান নয়। সেই আফগানিস্থান নয় যা এখন মার্কিন সেনাবাহিনী, মিলিটারী তাঁবু, এবং ট্যাংক দিয়ে ভর্তি। বরং সেই বৃদ্ধের আফগানিস্থান। যে ২৪ হাজার লোক প্রতিদিন অনাহারে মৃত্যুবরন করে, তারা কে? এ নিয়ে মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম।
তারপর আমি আবার নিজেকে দেখতে পেলাম, একটি কালো কম্পুটারের পর্দার সামনে বসে আছি।
আমি আবার জোর করে গ্রাউন্ড জিরোর দিকে আমার মনোযোগ ফিরিয়ে আনলাম। এই সময়ে একটি ব্যাপার নিশ্চিত ছিল। আমার দেশ প্রতিশোধ নেবার চিন্তা করছিল। তার প্রতিফলন হচ্ছিল আফগানিস্থানের মত দেশগুলিতে। কিন্ত আমি পৃথিবীর অন্যান্য সব জায়গার কথা ভাবছিলাম, যেখানে জনসাধারন আমাদের কোম্পানি, আমাদের সেনাবাহিনী, আমাদের রাজনীতি, এবং বৈশ্বিক-সাম্রাজ্যের প্রতি আমাদের কুঁচকাওয়াজকে ঘৃণা করে।
আমি মনে মনে আরও ভাবলাম, পানামা, ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, গুয়াতেমালা এবং অধিকাংশ আফ্রিকান দেশগুলির কি হবে?
আমি যে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, ঠেলা মেরে সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে এনে আবার হাঁটা শুরু করেছি। একটি খাটো, শ্যামবর্নের লোক বাতাসে একটি খবরের কাগজ উড়িয়ে স্পেনীশ ভাষায় চিৎকার করছিল। আমি থামলাম।
“ভেনিজুয়েলায় বিপ্লব আসন্ন!” রাস্তার যানবাহন-মোটরগাড়ির ভেঁপুর এবং বিশৃঙ্খলভাবে চলাচলকারি পথচারীদের শব্দ ছাপিয়ে সে চিৎকার করে খবরটি বলল।
একটি কাগজ কিনে সেখানে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে আমি প্রধান খবরটিতে চোখ বুলিয়েছি। এটা হুগো চেভেজ সম্পর্কে। যিনি ভেনিজুয়েলার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত মার্কিন-বিরোধী প্রেসিডেন্ট। ল্যাটিন আমেরিকায় মার্কিন-নীতির পরিনামে যে ঘৃণার জন্ম হয়েছে, তার অন্তঃপ্রবাহ।
ভেনিজুয়েলায় কি ঘটছে?
অধ্যায়-৩৩
সাদ্দাম ভেনিজুয়েলাকে রক্ষা করলেন
বহু বছর ধরে আমি ভেনিজুয়েলাকে লক্ষ্য করেছি। দেশটি একটি সনাতনধর্মী, তেলের কল্যানে দারিদ্র থেকে ঐশ্বর্যশালী হওয়ার একটি ভালো উদাহরন। তেল-সম্পদের বিশৃঙ্খলা, ধনী-দরিদ্রের ভারসাম্যহীনতায় ইন্ধন জোগানোর, এবং কর্পোরেটোক্রেসী কর্তৃক নির্লজ্জভাবে শোষিত একটি দেশের নিদর্শন। আমার মত পুরোনো ধারার ইএইচএম এখানে যে নতুন স্টাইলের কর্পোরেট-ভাষ্য হিসেবে একই বিন্দুতে মিশে গিয়েছিল, তার প্রতীক।
গ্রাউন্ড জিরোতে সেদিন পত্রিকায় আমি ভেনিজুয়েলা সম্পর্কে যেসব ঘটনা পড়েছিলাম, তা ছিল ১৯৮৮ সালের নির্বাচনের একটি প্রত্যক্ষ ফলাফল। যখন দেশটির দরিদ্র এবং নিঃস্ব জনতা হুগো শেভেজকে বিপুল ভোটাধিক্যে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছিল, তিনি তখন সঙ্গে সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। যেমন: কোর্ট এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ-গ্রহণ এবং ভেনিজুয়েলার কংগ্রেসের বিলুপ্তি। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তার ‘নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদের’ জন্য কঠোর নিন্দা এবং প্রচন্ড কন্ঠে বিশ্বায়নের বিরোধিতা করেছিলেন। একটি হাইড্রোকার্বন আইন প্রবর্তন করেছিলেন, এমনকি যার শিরোনামও ছিল ‘স্মৃতিবাহী’। যে নামটি জেইম রোল্ডোস তার প্লেন-দুর্ঘটনার কিছু আগেই ইকুয়েডরে নিয়ে এসেছিলেন। এই আইনে বিদেশী তেল কোম্পানিগুলির সরকারকে প্রদত্ত অর্থ (রয়েলটি) দ্বিগুণ করা হল। তারপর শেভেজ রাষ্ট্র-মালিকানার তেল কোম্পানি, “পেট্রোলিওস ডি ভেনেজুয়েলার” উচ্চপদস্থ প্রশাসকদের বদলী করে, এর ঐতিহ্যবাহী স্বাধীনতার প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছিলেন।
সারা পৃথিবীর অর্থনীতির জন্য ভেনিজুয়েলার তেল অপরিহার্য। ২০০২ সালে দেশটি ছিল সর্বোচ্চ তেল রপ্তানিতে পৃথিবীর চার নম্বর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন নম্বর সরবরাহকারী। পেট্রোলিওস ডি ভেনেজুয়েলা, ছিল ৪০ হাজার কর্মচারী সমৃদ্ধ এবং তার বাৎসরিক আয় ছিল ৫০ বিলিয়ন ডলার, দেশের ৮০% রপ্তানি-রাজস্ব। সব মিলিয়ে এই কোম্পানি ছিল ভেনিজুয়েলার অর্থনীতির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই শিল্পকে রাষ্ট্রায়ত্ত করে শেভেজ বিশ্বমঞ্চে নিজেকে একজন প্রধান অভিনেতা হিসেবে ঠেলে দিয়েছিলেন।
অনেক ভেনিজুয়েলাবাসী এ ঘটনাটি তাদের ভাগ্য হিসেবে দেখেছিল, একটি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি যা আশী বছর আগে শুরু হয়েছিল। ১৯২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর, মারাসাইবোর কাছে ভুতল থেকে একটি বিশাল তেলের বিস্ফোরণ প্রবলভাবে নিঃসৃত হয়েছিল। পরবর্তী তিনদিন একশ হাজার ব্যারেল অশোধিত তেল প্রতিদিন আকাশে উৎসারিত হয়েছিল। এই একক ভূতাত্তি¡ক ঘটনা ভেনিজুয়েলাকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। ১৯৩০ সালের মধ্যে, পৃথিবীর বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশে পরিগণিত হয়েছিল। ভেনিজুয়েলাবাসীরা তেলকে তাদের সমস্ত সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখত।
পৃথিবীর দরিদ্রতম জাতিগুলির মধ্যে ভেনিজুয়েলাকে পরবর্তী চল্লিশ বছরে তেলরাজস্ব লাটিন আমেরিকার অন্যতম একটি বিত্তশালী দেশে বিকশিত করতে সক্ষম হয়েছিল। দেশটির সমস্ত অপরিহার্য সংখ্যাতত্তে¡র উন্নয়ন ঘটেছিল- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চাকুরি, আয়ু এবং শিশুদের বাঁচার হার। ব্যবসা-বানিজ্যের সমৃদ্ধিও হয়েছিল।
১৯৭৩ সালে ওপেক-নিষেধাজ্ঞার সময়, তেলের দাম গগনচুম্বি। ভেনিজুয়েলার জাতীয় বাজেট চারগুণ বেড়ে গিয়েছিল। ইএইচএমরা কাজে লেগে গেল। আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলি ঋণ দিয়ে দেশটিতে টাকার বন্যা বইয়ে দিল। যা বিশাল সব অবকাঠোমো, শিল্প-প্রকল্প ও মহাদেশের সর্বোচ্চ আকাশচুম্বি অট্টালিকা নির্মাণের জন্য ব্যয় করা হয়েছিল। তারপর ১৯৮০ সালে, কর্পোরেট-স্টাইলের ইএইচএমের আবির্ভাব ঘটল। তরুন অনভিজ্ঞ উদ্গত পাখির দাঁত কেটে দেবার জন্য এটা ছিল তাদের একটি আদর্শ সুযোগ। ভেনিজুয়েলার মধ্যবিত্ত শ্রেণী বেশ বড়ো হয়ে গিয়েছিল। বিশাল ও বৈচিত্রপূর্ণ সামগ্রীর একটি পরিপক্ক বাজার। এরপরেও ঘর্মাক্ত হয়ে কল-কারখানায় শ্রম দেবার জন্য একটি বিপুল সংখ্যক দরিদ্র শ্রমিকশেণী মজুত ছিল।
ুতারপর তেলের দাম পড়ে গেল। যারফলে ভেনিজুয়েলা তার ঋণ আর শোধ করতে পারে না। ১৯৮৯ সালে, আইএমএফ (আন্তর্জাতিক অর্থ-তহবিল) দেশটির উপর কঠোর কৃচ্ছসাধনের পদক্ষেপ জারী করেছিল এবং দেশের অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে কর্পোরেটোক্রেসীকে সমর্থন দেবার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। ভেনিজুয়েলার প্রতিক্রিয়া ছিল সহিংস। দু‘শ লোক সসস্ত্র হাঙ্গামায় প্রাণ হারাল। সব কিছু পাওয়ার জন্য তেল অন্তহীন উৎস, এ স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। ১৯৭৮ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে, ভেনিজুয়েলার মাথাপিছু আয় দ্রæত ৪০% নিচে নেমে এসেছিল।
দারিদ্র যত বাড়ল, হতাশাও ততই দানা বেঁধেছিল। পরিণামে মেরুকরণ, মধ্যবিত্ত গরিবের বিরুদ্ধতায় মত্ত হয়ে গেল। তেল-উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল দেশগুলিতে যেমন প্রায়ই ঘটে, রাতারাতি জনসংখ্যার পরিসংখ্যান পরিবর্তন হয়ে গেল। ডুবে যাওয়া অর্থনীতি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উপরে তার কর আদায় করে নিল। (চলবে)

শেয়ার করুন