জন পার্কিন্স : বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা জালাল কবির

46

“হ্যাঁ,” সে বলল। “কিন্তু আমি শঙ্কিত, আমাকে বলতেই হবে, আমরা এখন তোমার সাথে যুদ্ধ করতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি।” সে কথাটির ব্যাখ্যা করতে থাকল। অবশ্য সে আমাকে বা আমাদের দলের লোকদের ব্যক্তিগতভাবে বলেনি। “তোমরা আমাদের বন্ধু,” সে আমাকে আশ্বাস দিল। সে আমাদের তেল কোম্পানিগুলি এবং যে সেনাবাহিনী তার জঙ্গলে আসবে তাদের নিরাপত্তাবিধান করতে, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেছে।
“আমরা দেখেছি তারা হুয়াওরানি আদিবাসিদের কি করেছে। তারা তাদের বন-জঙ্গল ধ্বংস করেছে, নদীর পানিকে দুষিত করেছে। শিশুদের সহ বহু লোককে হত্যা করেছে। আজ হুয়াওরানিরা আর কোনমতেই মানুষ হিসেবে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারছে না। আমাদের বেলায় এসব আমরা কোনমতেই ঘটতে দেব না। আমাদের এলাকায় আমরা কোন তেল কোম্পানিকে ঢুকতে দেব না। একই ভাবে পেরুবাসিদেরও বাধা দেব। আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি শেষ ব্যক্তিটি বেঁচে থাকা অবধি আমরা যুদ্ধ করব।”
সুয়ারদের একটি সুন্দর লম্বা বাড়ির কেন্দ্রস্থলে সে রাতে আমরা আগুনের চারপাশে বসেছিলাম। বাড়িটি চেরাই বাঁশের সরু পাত যা মাটি পর্যন্ত প্রসারিত তা দিয়ে তৈরি। মাথার উপরে শুকনা খড়ের ছাদ। আমি তাদের সাকাইমের সাথে আমার যে কথাবার্তা হয়েছে, তা বললাম। আমরা সবাই আশ্চর্য হয়ে ভেবেছি পৃথিবীর অন্যান্য কত লোকজন আমাদের তেল কোম্পানি ও দেশ সম্পর্কে একই রকম বোধ করে। সুয়ারদের মত কতজন আতঙ্কিত, আমরা তাদের জীবনে প্রবেশ করে তাদের সংস্কৃতি ও ভুমিকে ধ্বংস করব? কতজন আমাদের ঘৃণা করে?
পরদিন সকালে আমি নিচের তলায় ছোট্ট অফিসে গেলাম। সেখানে আমাদের একটি দ্বিমুখী রেডিও ছিল। কয়েকদিনের মধ্যে আমাদেরকে এখান থেকে নিয়ে যাবার জন্য পাইলটদের সাথে কথা বলে দিনক্ষণ ঠিক করার প্রয়োজন ছিল। যখন আমি তাদের সাথে কথা বলছিলাম, একটা চিৎকার শুনতে পেলাম।
“হা ইশ্বর!” রেডিওর অন্য প্রান্তের লোকটি বিষ্মিত হয়ে আকষ্মিভাবে চিৎকার করেছিল। ”নিউইয়র্ক আক্রমন করা হয়েছে।” নেপথ্যে বানিজ্যিক রেডিওতে যে সঙ্গীত হচ্ছিল তা সে বন্ধ করে দিল। তারপর আধঘন্টা ধরে, প্রতি মিনিটে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নাঙ্গা করার ঘটনার বিবরণ পেয়েছি। অন্য সবার মতই, এটা এমন একটি মুহূর্ত ছিল, যা আমি কখনই ভুলব না।
ফ্লোরিডাতে আমার বাড়িতে যখন ফিরে এলাম, আমি জানতাম আমাকে গ্রাউন্ড জিরো দেখতে যেতে হবে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টাওয়ার যেখানে অবস্থিত ছিল। কাজেই আমি নিউ ইয়র্কে যাবার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিলাম। অপরাহ্নের আগেই শহরতলীতে আমার হোটেলে পৌছেছিলাম। এটি ছিল রৌদ্র-স্নাত নভেম্বরের একটি দিন। ঋতুর বিপরীত হিসেবে অত্যন্ত স্নিগ্ধ, মধুর। উৎসাহ ভরা মন নিয়ে আমি সেন্ট্রাল পার্ক দিয়ে হেটে গেলাম। তারপর শহরের সেই অংশে আসলাম যেখানে আমি আগে অনেক সময় কাটিয়েছি, ওয়াল স্ট্রীট সংলগ্ন অঞ্চল। এখন তার নাম গ্রাউন্ড জিরো।
যত কাছে আসছিলাম ততই আমি আতঙ্কিত। মনে আর কোন উৎসাহ নেই। যা দেখলাম এবং দুর্গন্ধসবকিছু মিলে মনকে বিধ্বস্ত আর আচ্ছন্ন করে দেয়। অবিশ্বাস্য ধ্বংস। এক সময়ের বিশাল সেই সব অট্টালিকার দুমড়ানো আর মোচড়ানো কংকাল। ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ধ্বংসাবশেষ। পচা মাখনের মত ধোঁয়ায় পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপে পোড়া মাংসের দুর্গন্ধ। টিভিতে এসবই আমি দেখেছি, কিন্তু সামনাসামনি দেখাটি সম্পূর্ণ পৃথক ব্যাপার।
আমি এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বিশেষ করে উপস্থিত জনতার জন্য। দু‘মাস হয়ে গেছে, তারপরও তারা চারদিকে দাঁড়িয়ে আছে। যারা এখানে থাকত, কাছাকাছি কাজ করত এবং যারা বেঁচে গেছে। অবিশ্বাসের সাথে মাথা দুলিয়ে একজন মিসরীয় তার ছোট্ট জুতা সারানোর দোকানের বাইরে পায়চারি করছিল।
“আমি ভাবতেই পারি না,” সে বিড়বিড় করছিল। “আমার অনেক খদ্দের, অনেক বন্ধু মারা গেছে। আমার ভাতিজা এখানে মারা গেছে।” সে নীলাকাশের দিকে নির্দেশ করল। “আমার মনে হয়, আমি তাকে লাফাতে দেখেছি। আমি জানিনা, কতলোক তখন লাফালাফি করছিল দু‘হাত ছড়িয়ে। যেন তারা উড়ে যেতে পারে।”
বিষ্মিত হয়ে যেতে হয়, যেভাবে এখানে এই নিউ ইয়র্ক শহরে, লোকেরা কিভাবে একজন আরেকজনের সাথে কথা বলছিল। পরিসীমা ভাষার উর্ধে একে অপরের সাথে তাদের চোখ মিলছিল। চাহনি যদিও সরল, সমবেদনায় তারা দৃষ্টি বিনিময় করছিল। মুখে হালকা দুঃখবোধের স্মিত হাসি, যার বাকশক্তি লক্ষ কথার চাইতে বেশি।
কিন্তু এ ছাড়াও অন্য কিছু একটা ছিল। এই স্থানটি সম্পর্কে একটি চেতনা। প্রথমে, আমি এটা বুঝতে পারিনি। তারপর আমার চৈতন্যোদয় হল: আলো সম্পর্কীত। যখন আমি অনেক দিন আগে আইপিএসের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে শহরের এই অংশে নিয়মিত তীর্থযাত্রা করতাম। আমার বিনিয়োগকারি ব্যাংকারদের সাথে পৃথিবীর জানালার উর্ধে উঠে রাতের খাবারের সময় কলা-কৌশলের যোগসাজস করতাম। ম্যনহাটানের এই নিচু অঞ্চলটি ছিল একটি অন্ধকার গিরিখাত। আপনি যদি আলো দেখতে চাইতেন, আপনাকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সর্বোচ্চ তলায় উঠতে হত। এখন আলো এখানে রাস্তার সমতলে এসে গেছে। গিরিখাত ভেঙ্গে প্রশস্ত ও উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ধ্বংসের পাশে আমরা যারা এখন রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম, তারা সবাই সুর্যালোকের উষ্ণতা উপভোগ করছিলাম। আমি এই চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারছিলাম না, যদি না আবার আকাশ ও আলোর দৃষ্টি জনসাধারনের হৃদয় উন্মুক্ত করতে সহায়তা করে। এ ধরনের ভাবনায় আমি অপরাধ বোধ করছিলাম।
ট্রিনিটি চার্চের কোনা দিয়ে ঘুরে আমি ওয়াল স্ট্রীটের দিকে অগ্রসর হয়ে পুরোনো ছায়াচ্ছন্ন নিউ ইয়র্কে এসেছি। এখানে আকাশ নেই, কোন আলো নেই। একে অন্যকে এড়িয়ে রাস্তার পাশের দেয়াল ঘেসে লোকজন দ্রæত হেটে যাচ্ছে। কেউ কারো প্রতি কৌতুহুলী নয়। হঠাৎ থেমে যাওয়া একটি গাড়ির দিকে তাকিয়ে একজন পুলিশ চিৎকার করছিল।
চৌদ্দ নম্বর বাড়ির সামনে এসে আমি সিঁড়ির প্রথম ধাপে বসে পড়লাম। কোথাও থেকে একটি বিশাল ফ্যান বা একটি বাতাস প্রবাহিত করার যন্ত্রের আওয়াজ অন্য সব শোরগোল ছাপিয়ে শোনা যাচ্ছে। মনে হল শব্দটি নিউইয়র্ক ষ্টক এক্সচেঞ্জের বিশাল পাথরের দেয়াল থেকে আসছে। আমি লোকজনদের পর্যবেক্ষণ করছিলাম। অফিস থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তা দিয়ে তারা ঠেলা ধাক্কা দিয়ে নিচে উপরে যাতায়াত করছিল। বাড়ী পৌছার প্রচন্ড তাগিদ কিংবা কোন রেষ্টুরেন্টে বা কোন বারে গিয়ে ব্যবসা সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা করবে। কয়েকজন পাশাপাশি হেঁটে একজন আরেকজনের সাথে গল্পগুজব করছিল। অবশ্য অধিকাংশই ছিল একা এবং নিরব। আমি তাদের সাথে দৃষ্টি বিনিময়ের চেষ্টা করলাম। কিন্ত হল না।
একটি গাড়ির এলার্মের আওয়াজ শুনে আমি নিচে রাস্তার দিকে তাকিয়েছি। একটি লোক দ্রæতবেগে অফিস থেকে বেরিয়ে এসে গাড়ির দিকে একটি চাবি দিয়ে দিকনির্দেশ করল। এলার্ম থেমে গেল। দীর্ঘ কয়েকটি মুহূর্ত আমি নিরবে সেখানে বসে ছিলাম। কিছুক্ষণ পরে পকেটে হাত দিয়ে খুব ভালো করে ভাঁজ করা এক পৃষ্ঠা কাগজ বের করলাম। এর মধ্যে লেখা ছিল নানা পরিসংখ্যান তথ্য।
তারপরই আমি তাকে দেখলাম। পায়ের দিকে তাকিয়ে সে রাস্তা দিয়ে পা টেনে টেনে হাটছিল। খচখচে ধুসর দাঁড়ি এবং পরনে ময়লা ঝুলকালি মাখা আলখেল্লা। তখনকার ওয়াল স্ট্রীটের উষ্ণ অপরাহ্নে খুবই বেমানান। আমি জানতাম সে একজন আফগান।
আমার দিকে সে তাকাল। তারপর, মাত্র এক মুহূর্ত ইতস্তত করে, সে সিঁড়ির দিকে আসতে থাকল। বিনয়ের সাথে মাথা নুইয়ে আমার পাশে বসল। আমাদের মাঝখানে এক দু‘গজের ব্যবধান। যেভাবে সে সরাসরি সামনের দিকে তাকিয়েছিল, তাতে মনে হল আমাকেই কথা শুরু করতে হবে।
“খুব একটা ভাল অপরাহ্ন।”
“সুন্দর।” তার গলা ভারী। “এ ধরনের সময়ে, আমরা সুর্যালোকের প্রত্যাশা করি।”
“তুমি কি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কথা বলছ ?”
সে মাথা নাড়াল।
“তুমি কি আফগানিস্থান থেকে এসেছ?”
সে আমার দিকে সরাসরি তাকাল। “এটা কি এতই স্পষ্ট?”
“আমি অনেক দেশ ঘুরেছি। সম্প্রতি আমি হিমালয়ে পাহাড়, কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়েছিলাম।”
“কাশ্মীর?” সে তার দাঁড়ি টানল। “ওখানে তো যুদ্ধ চলছে।”
“হ্যাঁ, ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে। হিন্দু আর মুসলমান। ধর্ম নিয়ে তুমি কি বিষ্মিত হও না ?”
তার চোখ আমার সাথে মিলিত হল। গভীর পিঙ্গল চোখ। প্রায় কালো। আমার কাছে মনে হল জ্ঞানী এবং দুঃখী। সে নিউ ইয়র্ক স্টক-এক্সচেঞ্জ বিল্ডিংএর দিকে ঘুরে তাকাল। কর্কশ গাঁটওয়ালা আঙ্গুল দিয়ে সে বিল্ডিংটি নির্দেশ করল। ”হয়ত,” আমি বললাম, ”এটা অর্থনৈতিক ব্যাপার, ধর্ম নয়।”
“তুমি কি একজন সৈনিক ?”
আমি মুখ টিপে না হেসে পারলাম না। “না, আমি একজন অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা।” আমি তার হাতে সংখ্যাতত্তে¡র কাগজটি দিলাম। “এগুলি আমার অস্ত্র।”
সে হাতে নিয়ে দেখে বলল, “সবই তো দেখছি সংখ্যা।”
“বিশ্বের সংখ্যাতত্ত¡।”
সে তালিকাটি মনোযোগ দিয়ে দেখল। তারপর মৃদু হেসে বলল, “আমি পড়তে পারি না।” কাগজটি আমাকে ফিরিয়ে দিল।
“সংখ্যাগুলি আমাদের বলে, প্রতিদিন অনাহারে চব্বিশ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।”
সে মৃদুস্বরে শিষ দিয়ে কিছুক্ষণ সময় নিল ব্যাপারটি নিয়ে ভাবার জন্য। তারপর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, “আমিও প্রায়ই ওদের মধ্যে একজন হয়ে যেতাম। কান্দাহারের কাছে আমার একটা ছোট্ট ডালিমের বাগান ছিল। রুশরা আসার পর মুজাহিদরা গাছের আড়ালে এবং খানাখন্দে গিয়ে লুকিয়েছিল।” হাত তুলে সে একটি রাইফেলের মত ইশারা করল। “অতর্কিত আক্রমনের জন্য ওৎ পেতে থাকা।” তারপর হাত নামিয়ে বলল, “আমার সব গাছ আর জলাধার ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।”
“তারপর. তুমি কি করলে?”
সে আমার হাতের তালিকার দিকে মাথা নাড়িয়ে বলল, “এখানে কি ভিখারীদের সংখ্যাও লেখা আছে?”
এখানে সে তথ্য ছিল না। কিন্তু আমি চিন্তা করে স্মরণ করলাম। “আমার ধারনা, পৃথিবীতে ভিখারীদের সংখ্যা প্রায় আশী মিলিয়ন।”
“তাদের মধ্যে আমি একজন।” মাথা নাড়াল এবং মনে হল চিন্তার মধ্যে হারিয়ে গেছে। সে আবার কথা বলার আগে আমরা কয়েক মিনিটের জন্য নিরবে বসেছিলাম। “ভিক্ষা করা আমার পছন্দ নয়। (অনাহারে) আমার সন্তানেরা মারা যাবে। তাই আমরা আফিমের চাষ করি।”
“আফিম?”
সে মাথা নেড়ে সায় দিল। “কোন গাছ নেই, পানি নেই। এটাই আমাদের পরিবার পালনের একমাত্র উপায়।”
আমার গলায়, মনে হল কি একটা আটকে গেছে। দুঃখের একটি বিষন্নতার অনুভুতি, সাথে অপরাধবোধ। “আমরা বলি আফিম-চাষ পাপ, তবুও আমাদের অনেক ঐশ্বর্যবান ব্যক্তিই তাদের সৌভাগ্যের জন্য মাদক দ্রব্য-ব্যবসার কাছে ঋণী।”
তার চোখ আমার চোখের সাথে মিলিত হল। মনে হল আমার আত্মা বিদ্ধ হয়ে গেল। “তুমি একজন সৈন্য ছিলে,” তার কথা। মাথা নুইয়ে সে তার সরল-বাক্যটি দৃঢ়ভাবে প্রতিপন্ন করল। তারপর ধীরে ধীরে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল।
আমি তাকে কিছু একটা বলতে চাইলাম, কিন্ত কোন কিছু বলার শক্তি আমার ছিল না। আমি কোনমতে উঠে দাঁড়িয়ে তার পেছনে পেছনে হেঁটে গেলাম। সিঁড়ির একদম নিচে, আমি একটি সাইনবোর্ড দেখতে পেয়ে থেমে গেছি। আমি যেখানে বসেছিলাম, সেই বিল্ডিংএর ছবি। পথিকদের জন্য শিরোনামে উল্লেখ করা আছে, এই সাইনবোর্ডটি হেরিটেজ ট্রেইলস অব নিউইয়র্ক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। এখানে লেখা আছে:
“ভেনিসের সেন্ট মার্কের ঘন্টা-টাওয়ারে হালিকারনাসুসের যে ‘সমাধি সৌধ’ স্তুপিকৃত হয়ে আছে, (চলবে)

শেয়ার করুন