ট্যারা চোখের কারণ ও চিকিৎসা

9

অনলাইন ডেস্ক : আমরা অনেক সময় কারো দিকে তাকালে বুঝতে পারি না যে আমাদের অপজিটের মানুষটি আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে নাকি অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। আবার এমনও হয় যে কেউ আপনাকে ডাকছে, কিন্তু মনে হয় যেন অন্য কাউকে ডাকছে। এমনটা হয়ে থাকে তার চোখের জন্য। কারণ তার চোখটি ট্যারা। এটা নিয়ে অনেককেই অনেক অসস্থিতে পরতে হয়। আপনার মুখশ্রী দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেনো সব সৌন্দর্য মাটি করে দেয়ার জন্য ট্যারা চোখই যথেষ্ট। তাই আসুন আজ আমরা জেনে নেই ট্যারা চোখ কেনো হয় এবং এর চিকিৎসা।

ট্যারা চোখ কেনো হয়:
চোখের আশেপাশের মাংসপেশি চোখকে একটি নির্দিষ্ট দিকে অবস্থান করতে সাহায্য করে। মাংসপেশীর সাহায্যে আমরা চোখকে ঘোরাতে পারি। মাংসপেশী দুর্বল হয়ে গেলে উল্টো দিকে বেঁকে যায়। একে ট্যারা বলে। চোখের যেসব মাংসপেশী চক্ষুগোলককে নাড়াচাড়া করায় তাদের কোনো কোনোটি দুর্বল বা প্যারালিসিস হলে কোনো একটা দিকে চোখ নড়তে পারে না, ফলে চোখ ট্যারা হয়ে যায়।

যে সব মস্তিষ্ক স্নায়ু ওই মাংসপেশীদের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের ক্রিয়াকলাপে গোলমাল হলে কিংবা মস্তিষ্কের কিছু রোগের ফলেও চোখ ট্যারা হতে পারে। এছাড়া দু’চোখের পাওয়ারের তফাত যদি বেশি থাকে, সেটা যদি সময়ে চশমা পরিয়ে ঠিক না করা হয়,তা হলে দুর্বল চোখটি ট্যারা হয়ে যেতে পারে।

কারো কারো একটি চোখ, বাইরে থেকে দেখে স্বাভাবিক মনে হলেও খুব কম দৃষ্টিশক্তি থাকতে পারে। একে অ্যামব্লায়োপিয়া বা ‘লেজি আই’ বলে। লেজি আই পরে ট্যারা হতে পারে।

ট্যারা চোখের চিকিৎসা:
প্রথমেই ট্যারা হওয়ার কারণটা নির্ণয় করে চিকিৎসা—ওষুধ, চশমা, চোখের ব্যায়াম করতে হবে। তারপর কতটা উপকার হল দেখে দরকার হলে বাকি ট্যারাভাব অপারেশন করে ঠিক করা যেতে পারে।
আসলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে টেরা চোখের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। চশমা দিযে দৃষ্টিস্বল্পতা দূর করে শিশুদের অনেক ট্যারা চোখ সোজা করা যায়।

কখনো চোখের ব্যায়ামের ম্যধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় ট্যারা চোখের চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে।

চোখের ক্যান্সারে প্রাথমিক অবস্থায় শিশুর চোখ ট্যারা হতে পারে। ট্যারার চিকিৎসায় রোগীর নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ ও চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।

শেয়ার করুন