অনুভবে অনুরণনে, প্রীতিডোরে বাঁধি প্রাণ, ছিল অনেক কিছুই, কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মনোমুগ্ধকর নাচ আর গান। বিগত বৎসর গুলোর ধারাবাহিকতায়, হাসি খুশি, আনন্দ অনুভবে ভরপুর হয়ে, ভবিষতে আরো ভালো কিছু করার প্রত্যাশা নিয়ে, প্রতিবারের মত এবারও জমকালো, জমজমাটভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘আবাকান ফ্যামিলি নাইট’। শনিবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ কানাডায় বাংলাদেশী কৃষিবিদ পরিবারের আত্মার বাঁধনে বাঁধা আত্মীয়দের এক অপূর্ব মিলনমেলা।

আবাকান সভাপতি কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া এর নেতৃত্বে এ আয়োজন রূপ নেয় আনন্দঘন উৎসবে। সকল অইঅঈঅঘ সদস্যদের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে উপস্থাপন ও সঞ্চালন করেছেন কালচারাল সেক্রেটারী কৃষিবিদ শুভ্রা শিউলি সাহা ও কৃষিবিদ মোসাদ্দেক হোসেন। এই অনুষ্ঠান সফল করতে অবদান রেখেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কৃষিবিদ হাসমতআরা চৌধুরী জুঁই ও কৃষিবিদ সোমা চৌধুরী। আর এই আনন্দ উৎসবকে সফল সমাপ্তির সকল সুনাম পাওনা হলো অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে সময় দেয়া সুযোগ্য নির্বাহী কমিটি ও নিবেদিতপ্রাণ সকল কৃষিবিদ ও তাদের সন্তান, বন্ধু ও ভাই বোনদের।

বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
কৃষিবিদ পরিবারের লোকদের স্বতঃস্ফ‚র্ত উপস্থিতিতে যেমন নতুন প্রাণস্পন্দনের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্টের সদস্য (এমপিপি) জনাবা ডলি বেগম প্রধান অতিথির পদটি অলংকৃত করে আমাদের সম্মানিত করেছেন। আগত অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতি আনন্দ অনুভূতির আলোকরশ্মি ছড়িয়েছে সকলের মনে।
কৃষিবিদ সন্তানদের দ্বারা পরিবেশিত হয় একটি গীতি আলেখ্য ‘বাংলা প্রাণের সুর’ পরিচালনায় ছিলেন কৃষিবিদ হাসমত আরা জুই ও সোমা চৌধুরী। স্বাধীনতার আস্বাদ রোমন্থনে এক পলকে আমাদেরই সন্তানেরা; মেলিসা, মহিন, প্রান্তি, প্রাপ্তি, শ্রাবন্তী, শিনজিনি, তাসলিম, সপ্নীল, ছোঁয়া, দীপাঞ্জলি, রোহান, শাকিব, ফাতিন, শোনাক, দেবাশীষ, শুভাশীষ ওয়াকিল, লামিয়া ও আরো অনেকে তাদের গানের মূর্ছনায় যেন নিয়ে গিয়েছিলো আমাদের প্রাণপ্রিয় গ্রাম বাংলায়।

কবিতায় সম্মোহিত করলেন কৃষিবিদ জাহানারা খানম চিনু, মেহরাব রহমান ও রোজানা নাসরিন
মিলিত গানে গানে সুরের আবেশে ভাসালেন সুনিতি, প্রশান্ত, সোমা, জুই, চামেলী, মুক্তি, সুজন,পলি, শিরিন, শম্পা, রাখী, লিপি, রেহানা, কিবরিয়া, আজমেরী, ইকবাল, বিকাশ, ফরিদ, সুমন, সোমা, শুভ্রা, ও অন্যান্য শিল্পীরা।
আরো একক গান গাইলেন ও দর্শক মাতালেন সুনীতি সর্দার, কৃষিবিদ বিকাশ রঞ্জন দাশ, কৃষিবিদ সোমা চৌধুরী, কৃষিবিদ সুমন সাইদ, কৃষিবিদ তপন সাইদ, কৃষিবিদ নাসিরুল ইসলাম মিঠু, হাসমত আরা জুঁই। পুরো অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বর্ধন করতে তবলায় সঙ্গত করলেন রাজীব, মন্দিরা বাজালেন অখিল, গিটার ও বাঁশি বাজালেন তপু, আর কি বোর্ড বাজিয়ে সুন্দরের সমন্বয় করলেন জাহিদ।

বরাবরের মত অর্থনৈতিক চাকাটি ঘুরাতে যেসব কৃষিবিদ সহায়তা করেছেন তারা হলেন কৃষিবিদ ডঃ মোহাম্মদ আলী, কৃষিবিদ ডঃ কবির হোসেন তালুকদার, কৃষিবিদ রাসেল সিদ্দিকী, কৃষিবিদ ডঃ মাহফুজুল হক, কৃষিবিদ ডঃ সুশীতল চৌধুরী, কৃষিবিদ তপন সাইদ, কৃষিবিদ প্রনবেশ পোদ্দার, কৃষিবিদ মর্তুজা সাইফুল ইসলাম জাকির, কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান, কৃষিবিদ সামুজ্জামান, কৃষিবিদ জামান ভূঁইয়া, কৃষিবিদ ইকবাল হোসেইন, কৃষিবিদ সুমন সাইদ, কৃষিবিদ এ, এস, এম মোস্তাক, কৃষিবিদ গৌতম সরকার প্রমুখ।

যারা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে, এ ফ্যামিলি নাইটকে সফল করতে অহরহ অলক্ষ্যে কাজ করেছেন, যেসব দীপ্ত সারথিরা কোন স্বীকৃতির ইচ্ছা বা সম্মাননা পাওয়ার তোয়াক্কা না করে, দিনের পর দিন মহড়া করে, সময় দিয়ে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠানের এমন ছন্দ-বদ্ধ, আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, এসব নিঃস্বার্থ সৃজনশীল সাথী মানুষগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন ও সাধুবাদ মনের গভীরতা থেকে উঠে আসে।

সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আবাকান ফ্যামিলি নাইট ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত, এর সাথে যোগাযোগ বিষয়য়ক সম্পাদক জিয়াউল হক, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি আজিজুর রহমান রিপন আর ট্রেজারার কামরুল ইসলামের, সদস্য নজরুল ইসলাম কাকুল, সদস্য নুরুন নাহার খানম শিরীন, সদস্য কামাল মুস্তাফা হিমু, সদস্য জামান ভূঁইয়া এর সহোযোগিতায় পূর্ণতা পেলো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি।

নির্বাহী কমিটির বাহিরে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন আংগিকে যারা নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন তাদের মধ্যে কৃষিবিদ শামসুজজোহা, কৃষিবিদ আহসান উল্লাহ মাসুদ, কৃষিবিদ প্রশান্ত সর্দার, কৃষিবিদ সোমা চৌধুরী, কৃষিবিদ আসাদুজজামান মিলুর নাম না বললেই নয়।
এ অনুষ্ঠান শুধু যে কৃষিবিদ পরিবারে পরিবারে বন্ধন ও আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ দিচ্ছে তা নয়, বরঞ্চ এটা আমাদের সন্তানদেরকে আমাদের কৃষ্টি ও কালচারের সঙ্গে পরিচিত করে তোলারও সুযোগ সৃষ্টি করছে।

মোটকথা প্রেসিডেন্ট কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা ও জেনারেল সেক্রেটারি কৃষিবিদ গোলাম কিবরিয়া এর সুযোগ্য নেতৃত্বে ও কালচারাল সেক্রেটারি কৃষিবিদ শুভ্রা, ভাইস প্রেসিডেন্ট কৃষিবিদ হাসমত আরা জুঁই ও কৃষিবিদ মোসাদ্দেক হোসেনের সুদক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি ছিল সুন্দর ও উপভোগ্য।

কানাডাতে কৃষিবিদগণ কৃষি বহির্ভুত নতুন নতুন ক্ষেত্রে সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশী অভিবাসী সমাজের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতার আলোকে, দূর প্রবাসে, নতুন আবাসস্থলে একে অপরের প্রতি অকুন্ঠ ভালোবাসা নিয়ে, মান-অভিমান বেদনা ভুলে গিয়ে, হাসি কান্নার সাথী হয়ে অভিবাসী বাংলাদেশীদের এক আলোকিত সমাজ বিনির্মানে কৃষিবিদদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।