অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের বিরুদ্ধে অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে শুল্ক আরোপ করা থেকে শুরু করে, ভেনেজুয়েলার মতো একটি সার্বভৌম দেশেরপ্রেসিডেন্টকে অপহরণ ও উৎখাতসহ দেশে বা বিদেশে অনুমোদন না নিয়ে সেনাবাহিনী ব্যবহার, ঘনিষ্ঠ মিত্রদের শাসনাধীন অঞ্চল দখলের মার্কিন হুমকি পর্যন্ত আমেরিকার দ্বৈত চরিত্র ও স্বেচ্ছাচারিতার তীব্র সমালোচনা করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে আমেরিকা বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মঙ্গলবার দেওয়া একটি বিশেষ বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ট্রাম্পের নীতি—শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ, একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রতি সরাসরি হুমকি মার্কিন নেতৃত্বের অবশিষ্ট বিশ্বাসযোগ্যতাকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আমেরিকার আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে।

কার্নি তার বিবৃতিতে বলেন, ‘মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা এখন রূপান্তরের মধ্যে নয়, বরং ধ্বংসের প্রান্তে রয়েছে।’ তিনি বলেন, এটি ঘটেছে আমেরিকার স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তগুলোর কারণে, যেখানে তারা নিয়মকে পাশ কাটাচ্ছে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাহ্য করছে এবং ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির অধীনে শক্তিকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করছে। বিশ্বজুড়ে একটি নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে, এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে কার্নি বলেছেন যে এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা নিয়মিতভাবে বাণিজ্য নিয়ম এবং আন্তর্জাতিক আইন থেকে নিজেকে ছাড় দিয়ে আসছে, বেছে বেছে সম্মতি প্রয়োগ করে আসছে, যা দ্বিচারিতা সৃষ্টি করেছে।’

অর্থনৈতিক সমন্বয়, যা একসময় ওয়াশিংটন পারস্পরিকভাবে উপকারী হিসেবে প্রচার করেছিল, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলি, যেমন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে, বিশেষত এই কারণে যে তারা কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে। কার্নি বলেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা দেশগুলিকে দুর্বল অবস্থানের কারণে আলোচনা করতে বাধ্য করে। তিনি সতর্ক করেছেন, ‘এটি সার্বভৌমত্ব নয়। এটি সার্বভৌমত্বের অভিনয়, যখন অধীনতা মেনে নেওয়া হচ্ছে।’

কার্নি গ্রিনল্যান্ড এবং আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব ও চাপের উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের উপরও মার্কিন চাপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কানাডা গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের কঠোর বিরোধী।’ কানাডার প্রধানমন্ত্রী মধ্যম মাপের শক্তিগুলিকে সততার সঙ্গে মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার, অভিনয় বন্ধ করার এবং নতুন সহযোগিতার জোট গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা মার্কিন প্রভাবের উপর নির্ভর করবে না, যেটি আর বিদ্যমান নেই। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আপনি টেবিলে না বসেন, তাহলে আপনি খাদ্যতালিকায় থাকবেন।’

মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি অতীতের আকাঙ্ক্ষা প্রত্যাখ্যান করে কার্নি বলেছেন, আমেরিকার আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং এর জন্য শোকাতুর হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘সামনের কাজ হল মার্কিন মোড়লগিরিকে সততার সাথে মোকাবিলা করা, সান্ত্বনামূলক বিভ্রম ত্যাগ করা এবং সম্মিলিত শক্তির উপর ভিত্তি করে নতুন জোট গড়ে তোলা, যা কখনও আমেরিকার প্রতি আনুগত্যের ওপর নির্ভর করবে না।’